Ajker Patrika

নারীর আত্মরক্ষা, নিরাপত্তা ও ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি

সামীনা জান্নাত
নারীর আত্মরক্ষা, নিরাপত্তা ও ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি
ছবি: সংগৃহীত

আধুনিকতার এই যুগেও ঘরের বাইরে পা রাখলেই নারীদের প্রগতির চেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায় নিজস্ব নিরাপত্তার বিষয়টি। ইভ টিজিং, কটূক্তি কিংবা হয়রানির শঙ্কা যেন বহু নারীর নিত্যদিনের অভিজ্ঞতা। এসব ঘটনা তাদের স্বাভাবিক চলাফেরা ও আত্মবিশ্বাসকে বাধাগ্রস্ত করছে। তাই নারীর সুরক্ষায় অন্যের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজের আত্মরক্ষা ও সক্ষমতা অর্জন করা সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

ইসলামে মানুষের জীবন ও মর্যাদার সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘যে কেউ একটি প্রাণ রক্ষা করল, সে যেন সমগ্র মানবজাতির জীবন রক্ষা করল।’ (সুরা মায়িদাহ: ৩২)। এই আয়াত থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে অন্যায়ের বিরুদ্ধে নিজের এবং অপরের শারীরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ইসলামের দৃষ্টিতে অত্যন্ত মহৎ ও সওয়াবের কাজ।

ইসলামের সোনালি ইতিহাসেও নারীদের আত্মরক্ষার অনন্য দৃষ্টান্ত রয়েছে। খন্দকের যুদ্ধের সময় নারী সাহাবি হজরত সাফিয়্যা বিনতে আবদুল মুত্তালিব (রা.) এক অসাধারণ সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছিলেন। যুদ্ধপরিস্থিতিতে যখন পুরুষ সাহাবিরা ব্যস্ত ছিলেন, তখন নারীদের তাঁবুর আশপাশে এক শত্রু গোয়েন্দাগিরি করছিল। সাহসিকতার প্রতীক সাফিয়্যা (রা.) একটুও না ঘাবড়ে লাঠির আঘাতে শত্রুকে পরাস্ত করে তাঁবুর নারী ও শিশুদের রক্ষা করেছিলেন।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দুর্বল মুমিনের চেয়ে শক্তিশালী মুমিন আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয় ও উত্তম।’ (সহিহ মুসলিম)। এই হাদিসের শিক্ষা শুধু পুরুষের জন্য নয়—নারীর জন্যও। একজন মুমিনকে ইমানের পাশাপাশি মানসিকভাবে দৃঢ় ও শারীরিকভাবে সক্ষম হতে হয়, যাতে বিপদের মুহূর্তে সে নিজের সুরক্ষা নিজে করতে পারে।

ইসলাম কখনো নারীদের চার দেয়ালে বন্দী বা অসহায় থাকার শিক্ষা দেয় না; বরং শালীনতা বজায় রেখে সমাজে আত্মমর্যাদার সঙ্গে চলার পথ দেখায়। একজন নারী যখন নিজের সুরক্ষায় স্বাবলম্বী হন, তখন অপরাধীদের দৌরাত্ম্য কমে যায় এবং সমাজে নারীর চলাফেরা আরও নিরাপদ ও সুনিশ্চিত হয়ে ওঠে।

লেখক: শিক্ষার্থী, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত