Ajker Patrika

বাইডেনের স্ত্রীকে ৭.৫ ক্যারেটের কৃত্রিম হীরা উপহার দিয়েছিলেন মোদি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
বাইডেনের স্ত্রীকে ৭.৫ ক্যারেটের কৃত্রিম হীরা উপহার দিয়েছিলেন মোদি
জিল বাইডেনকে ৭.৫ ক্যারেটের কৃত্রিম হীরা উপহার দিয়েছিলেন মোদি। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ফার্স্ট লেডি জিল বাইডেন তাঁর নতুন স্মৃতিকথা ‘View from the East Wing: A Memoir’—এ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দেওয়া একটি সাড়ে ৭ ক্যারেটের সিন্থেটিক হীরা নিয়ে হোয়াইট হাউসের ভেতরের অজানা এক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, বইটি সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। এতে হোয়াইট হাউসের জীবনযাপন, কূটনৈতিক উপহার এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট ফ্যামিলির ওপর আরোপিত কঠোর নৈতিক ও আর্থিক বিধিনিষেধের বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে।

স্মৃতিকথায় জিল বাইডেন জানান, নরেন্দ্র মোদি ২০২৩ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় তাঁকে একটি ৭ দশমিক ৫ ক্যারেটের ল্যাব-গ্রোন বা গবেষণাগারে তৈরি (সিন্থেটিক) হীরা উপহার দেন। তাঁর ভাষায়, এই উপহার ছিল ভারতের ল্যাব-গ্রোন রত্নশিল্পে নেতৃত্ব দেওয়ার আকাঙ্ক্ষার প্রতীক।

জিল বাইডেন লেখেন, ‘কখনও ছোট কিছু—ফুল, ওয়াইন—আবার কখনও বড় কিছু, যেমন ৭.৫ ক্যারেটের সিন্থেটিক হীরা...যা ছিল ভারতের ল্যাব-গ্রোন রত্নে নেতৃত্ব দেওয়ার আকাঙ্ক্ষার প্রতীক।’ তিনি আরও বলেন, ‘হীরাটি সঙ্গে সঙ্গেই দৃষ্টি কাড়ে।’ তিনি লিখেছেন, ‘হীরাটি ছিল অত্যন্ত সুন্দর।’

তবে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, ফার্স্ট লেডি বা সরকারি কর্মকর্তারা বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের দেওয়া উপহার ব্যক্তিগতভাবে রাখতে পারেন না। তিনি লেখেন, ‘এটি আমাকে ব্যক্তিগতভাবে দেওয়া হয়নি। ফার্স্ট লেডিকে দেওয়া হয়েছিল, তাই এটি ফেডারেল সরকারের সম্পত্তি।’ নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট মূল্যের বেশি দামের উপহার সরকারিভাবে মূল্যায়ন করা হয় এবং প্রাপক চাইলে সেই নির্ধারিত মূল্য পরিশোধ করে উপহারটি নিজের কাছে রাখতে পারেন।

প্রথমে জিল বাইডেন ভেবেছিলেন, তিনি হয়তো হীরাটি কিনে রাখতে পারবেন। তিনি লিখেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন এটি তাঁর শহরে হাতে তৈরি এবং দাম ২ হাজার ৫০০ ডলার। তিনি বিক্রির রসিদও দেখিয়েছিলেন। আমি ভেবেছিলাম, হয়তো আমি এটি কিনে নেব।’

কিন্তু পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট উপহারটির মূল্য নির্ধারণ করে ২০ হাজার ডলার। তিনি লেখেন, ‘তারপর স্টেট ডিপার্টমেন্ট সেটির মূল্য নির্ধারণ করে ২০ হাজার ডলার, তাই আমি আর কিনিনি।’ পরে তাকে সীমিতভাবে হীরাটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়। তিনি জানান, ‘আমি এটি অফিসে প্রদর্শন করতে পারতাম বা পরতে পারতাম। তাই আমি এটি আংটির সেটিংয়ে বসিয়ে আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে পরতাম।’

এই ব্যবস্থাটি তাঁর হোয়াইট হাউসের দায়িত্বকাল পর্যন্তই কার্যকর ছিল। তিনি লেখেন, ‘আমরা অফিস ছাড়ার পর আমি এটি ফিরিয়ে দিয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, ওই আংটিটি পরে সরকারি সংগ্রহাগারে জমা হয় এবং প্রেসিডেনশিয়াল উপহারের অন্যান্য সামগ্রীর সঙ্গে রাখা হয়, যার অনেকগুলোই পরে ধ্বংস করা হয়েছে।

নরেন্দ্র মোদির ২০২৩ সালের রাষ্ট্রীয় সফর ছিল বাইডেন প্রশাসনের সময় ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ঘটনা। ওই সফরে হোয়াইট হাউসে ১০ হাজারেরও বেশি ভারতীয়-আমেরিকান অংশ নেন এবং রাষ্ট্রীয় নৈশভোজসহ নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দুই দেশের প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, সেমিকন্ডাক্টর ও কৌশলগত সহযোগিতার অগ্রগতি তুলে ধরা হয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত