Ajker Patrika

নেতানিয়াহুকে যা করতে বলব, তিনি তা-ই করবেন: ট্রাম্প

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২১ মে ২০২৬, ১২: ৪০
নেতানিয়াহুকে যা করতে বলব, তিনি তা-ই করবেন: ট্রাম্প
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু। ছবি: এএফপি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার দাবি করেছেন, ইরানের ওপর সম্ভাব্য সামরিক হামলার প্রশ্নে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তা-ই করবেন, যা তিনি চাইবেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এই কথা বলেন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমি যা চাই, বিবি (নেতানিয়াহুর ডাক নাম) তাই করবেন।’ এই মন্তব্য এমন একসময়ে এল, যখন এর আগের দিনই এ বিষয়ে দুজনের মধ্যে হওয়া ফোনালাপকে ঘিরে উত্তেজনার খবর প্রকাশিত হয়েছে।

গত মঙ্গলবার নেতানিয়াহুর সঙ্গে হওয়া ফোনালাপের বিষয়ে সাংবাদিকেরা ট্রাম্পকে প্রশ্ন করেন। জবাবে তিনি বলেন, ‘তিনি খুব ভালো মানুষ। আমি তাঁকে যা করতে বলব, তিনি তা-ই করবেন। আর তিনি দারুণ একজন লোক...ভুলে যাবেন না, তিনি যুদ্ধকালীন প্রধানমন্ত্রী।’

নেতানিয়াহু বরাবরই ট্রাম্পের সঙ্গে নিজের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা তুলে ধরেছেন। ইসরায়েলপন্থী দীর্ঘ এক তালিকা সিদ্ধান্তের কৃতিত্বও তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে দিয়ে থাকেন। তবে এই ঘনিষ্ঠতাই নেতানিয়াহুকে সমালোচনার মুখেও ফেলেছে। সমালোচকেরা বলছেন, ট্রাম্পের প্রতি অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়ায় তিনি এখন আর তাঁর বিরোধিতা করার অবস্থানে নেই।

গত মার্চে টাইমস অব ইসরায়েল ট্রাম্পকে প্রশ্ন করেছিল, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ কখন শেষ হবে, সেই সিদ্ধান্ত কি একাই তিনি নেবেন, নাকি নেতানিয়াহুরও মত থাকবে। জবাবে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘এটি হবে যৌথ সিদ্ধান্ত।’ কিন্তু কয়েক সপ্তাহ পর যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলে জেরুজালেম প্রশাসন নাকি তা আগেভাগে জানতই না। তারপরও ট্রাম্প নেতানিয়াহুর সমালোচনা থেকে সতর্ক দূরত্ব বজায় রেখেছেন। এমনকি চলমান দুর্নীতি মামলায় নেতানিয়াহুকে ক্ষমা করে দেওয়ার জন্য তিনি ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হেরজগের কাছেও তদবির করেছেন।

নেতানিয়াহুকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পুনরায় শুরুর পক্ষে বলে মনে করা হয়। তাঁর যুক্তি, তেহরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলোকে দেওয়া সমর্থন ঠেকানোর যে লক্ষ্য ছিল, তা এখনো পূরণ হয়নি। যদিও তিনি বলেছেন, কূটনৈতিক উপায়ে এসব ইস্যুর সমাধান হলে তিনি তা মেনে নেবেন। তবে তেহরান সত্যিকারের সদিচ্ছা নিয়ে আলোচনায় বসবে কি না, তা নিয়ে তিনি সন্দিহান।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবারের ফোনালাপে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে নতুন মধ্যস্থতা উদ্যোগ সম্পর্কে অবহিত করেন। কয়েকটি আরব ও মুসলিম দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি আনার চেষ্টা করছে।

উদীয়মান এই প্রস্তাবটি কাতার ও পাকিস্তান যৌথভাবে তৈরি করেছে। এতে সৌদি আরব, তুরস্ক, মিসরসহ আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের মতামতও যুক্ত হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি ‘লেটার অব ইনটেন্ট’ বা অভিপ্রায়পত্রে সই করবে। এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা করা হবে এবং পরবর্তী ৩০ দিনের আলোচনার পথ খুলবে। আলোচ্য বিষয়ের মধ্যে থাকবে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সীমা নির্ধারণ। ফোনালাপে যুক্ত এক মার্কিন সূত্র অ্যাক্সিওসকে এসব তথ্য জানিয়েছে।

তবে ফোনালাপে ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে দুই নেতার মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। দুটি ইসরায়েলি সূত্রের ভাষ্য, নেতানিয়াহু এই কাঠামো নিয়ে অত্যন্ত সন্দিহান ছিলেন। তাঁর বিশ্বাস, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস করে দেশটির শাসনব্যবস্থাকে আরও দুর্বল করতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক চাপ অব্যাহত রাখা উচিত। মার্কিন ওই সূত্র আরও জানিয়েছে, ‘ফোনালাপের পর নেতানিয়াহুর মাথায় যেন আগুন ধরে গিয়েছিল।’ যদিও ইসরায়েলি সূত্রগুলো বলেছে, ইরানের সঙ্গে আলোচনা নিয়ে নেতানিয়াহু সব সময়ই উদ্বিগ্ন থাকেন, এমনকি অতীতের ব্যর্থ আলোচনা পর্যায়গুলোতেও তিনি একইভাবে শঙ্কিত ছিলেন।

অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনের বিষয়ে নেতানিয়াহুর কার্যালয় ও হোয়াইট হাউস কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। কয়েক দিন ধরে মধ্যস্থতাকারীরা পাকিস্তানের সর্বশেষ প্রস্তাবের বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয় মেটানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে দুটি আরব সূত্র ও একটি ইসরায়েলি সূত্র অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছে, কাতার সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কাছে নতুন একটি খসড়া প্রস্তাবও উপস্থাপন করেছে। তবে কাতারের আরেকটি সূত্র দাবি করেছে, আলাদা কোনো কাতারি খসড়া নেই। দোহা কেবল পাকিস্তানের খসড়াটিকেই আরও গ্রহণযোগ্য করে তোলার চেষ্টা করছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত