
মহাকাশে ডেটা সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা করছে ইলন মাস্কের স্পেসএক্স, জেফ বেজোসের ব্লু অরিজিনসহ বেশ কয়েকটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। তবে এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বিপুল পরিমাণ দূষণ ছড়িয়ে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটতে পারে। এই পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত পৃথিবীর জন্য ‘বিপর্যয়কর’ হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছেন মহাকাশশিল্পের বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশবাদীরা।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, মার্কিন ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশনের (এফসিসি) কাছে জমা দেওয়া একটি আবেদনে মহাকাশে ডেটা সেন্টার স্থাপনের প্রকল্পগুলোর পরিবেশগত প্রভাব পর্যালোচনা না হওয়া পর্যন্ত নতুন লাইসেন্স অনুমোদন স্থগিত রাখার দাবি জানানো হয়েছে। আবেদনটি করেছে পরিবেশবিষয়ক অলাভজনক সংগঠন পাবলিক এমপ্লয়িজ ফর এনভায়রনমেন্টাল রেসপনসিবিলিটি (পিয়ার), আর্থজাস্টিস ও আলোকদূষণবিরোধী সংগঠন ডার্কস্কাই ইন্টারন্যাশনাল।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, মহাকাশে বিপুলসংখ্যক স্যাটেলাইট পাঠানো ও পরে সেগুলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে পুনঃপ্রবেশের সময় পুড়ে যাওয়ার ফলে স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে কালো ধোঁয়া, বিরল ধাতু, অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইডসহ নানা ধরনের দূষক জমা হতে পারে। এসব পদার্থের সম্মিলিত প্রভাব সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের জ্ঞান এখনো অত্যন্ত সীমিত। এর ফলে ওজোনস্তর ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং পৃথিবীর মানুষের অতিবেগুনি রশ্মির (ইউভি) সংস্পর্শ বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (নোয়া) সাবেক স্যাটেলাইট কার্যালয়প্রধান স্টিভ ভলজ বলেছেন, স্যাটেলাইটে থাকা জটিল উপাদানগুলো বায়ুমণ্ডলে পুড়ে গেলে সেগুলোকে সেখানে ছড়িয়ে পড়তে দেওয়া উচিত নয়। তাঁর মতে, বিষয়টি অনেকটা শিল্পকারখানার চিমনি থেকে দূষিত পদার্থ নির্গমনের মতোই উদ্বেগজনক।
মহাকাশে সক্রিয় স্যাটেলাইটের সংখ্যা গত এক দশকে দ্রুত বেড়েছে। ২০১৫ সালে যেখানে কক্ষপথে সক্রিয় স্যাটেলাইট ছিল প্রায় ১ হাজার ৪০০টি, বর্তমানে সেই সংখ্যা প্রায় ১৫ হাজার। আগামী এক দশকে তা এক লাখে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর বাইরে মহাকাশভিত্তিক ডেটা সেন্টারের জন্য আরও লাখ লাখ স্যাটেলাইট যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
২০২৩ সালের শেষ দিকে নোয়ার অর্থায়নে পরিচালিত একটি গবেষণায় স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের সালফিউরিক অ্যাসিডের কণায় মহাকাশযান থেকে আসা ধাতুর উপস্থিতি শনাক্ত হয়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এসব ধাতু ও সালফিউরিক অ্যাসিডের পারস্পরিক প্রতিক্রিয়ার প্রভাব এখনো অজানা। স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের এসব কণা পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং সূর্যের ক্ষতিকর বিকিরণ প্রতিফলনের ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখতে পারে।
পরিবেশবাদীদের আরেকটি উদ্বেগ আলোকদূষণ নিয়ে। লাখ লাখ স্যাটেলাইট রাতের আকাশের স্বাভাবিক অন্ধকার স্থায়ীভাবে বদলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা। ডার্কস্কাই ইন্টারন্যাশনালের নির্বাহী পরিচালক রাসকিন হার্টলি বলেছেন, উদ্ভিদ ও প্রাণীর জীবন চক্রের জন্য প্রাকৃতিক অন্ধকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত কৃত্রিম আলো ইতিমধ্যে জোনাকি ও অন্যান্য পতঙ্গের সংখ্যা কমিয়ে দিচ্ছে।
এদিকে আবেদনকারীরা বলছেন, মহাকাশ ডেটা সেন্টার প্রকল্পগুলো অনুমোদনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পরিবেশ নীতি আইন (নেপা) অনুযায়ী পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন করা উচিত। তাঁদের দাবি, একসঙ্গে ১০ লাখের বেশি স্যাটেলাইট কক্ষপথে স্থাপন, সংঘর্ষ, ভেঙে পড়া এবং পৃথিবীতে ফিরে আসার সম্ভাব্য সম্মিলিত ক্ষতি নিয়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর আবেদনে যথেষ্ট বিশ্লেষণ নেই।
ফলে বিশেষজ্ঞদের মতে, মহাকাশে ডেটা সেন্টার স্থাপনের আগে প্রযুক্তিগত সম্ভাবনার পাশাপাশি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল, জলবায়ু, ওজোনস্তর, জীববৈচিত্র্য এবং রাতের আকাশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে গভীর বৈজ্ঞানিক গবেষণা জরুরি।

অ্যাডলফ হিটলারের ভাগনি অ্যাঞ্জেলা ‘গেলি’ রাউবালের মৃত্যু নিয়ে প্রায় ৯৫ বছর পর নতুন করে রহস্য তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি জার্মানির আর্কাইভ থেকে উদ্ধার হওয়া কিছু নথি ইঙ্গিত দিচ্ছে, ১৯৩১ সালে মিউনিখে হিটলারের অ্যাপার্টমেন্টে রাউবালের মৃত্যুর প্রচলিত সময়সীমা ভুল হতে পারে।
৯ ঘণ্টা আগে
পাকিস্তানি এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ওই সাংবাদিক ভারত সরকার ‘পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদে পৃষ্ঠপোষকতা’ বন্ধ করবে কবে—এমন প্রশ্ন করলে জয়শঙ্কর পাল্টা প্রশ্ন করেন—‘একটি সন্ত্রাসী রাষ্ট্র আমাকে এই প্রশ্ন করছে?’
৯ ঘণ্টা আগে
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। তবে তাঁর ভাষণের বিষয়বস্তুর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল আরেকটি বিষয়—মঞ্চে দাঁড়িয়ে তাঁর চোখে থাকা কালো সানগ্লাস...
১১ ঘণ্টা আগে
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় বাংলাদেশসহ কয়েক ডজন দেশের প্রতিনিধিদল প্রতিবাদস্বরূপ ওয়াকআউট করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে নেতানিয়াহু বক্তব্য শুরু করার পরপরই বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও নেতারা সভাকক্ষ ত্যাগ করে
১১ ঘণ্টা আগে