উটকে বলা হয় ‘মরুভূমির জাহাজ’। তীব্র গরম, পানির সংকট আর প্রতিকূল পরিবেশেও টিকে থাকার অসাধারণ ক্ষমতার কারণে আফ্রিকার শুষ্ক অঞ্চলে যুগ যুগ ধরে যাযাবর জনগোষ্ঠীর জীবন ও জীবিকার অন্যতম ভরসা এই প্রাণী। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপমাত্রা যেভাবে বাড়ছে, তাতে সেই উটও এখন আর আগের মতো খাপ খাওয়াতে পারছে না।
পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—উত্তর-পূর্ব ইথিওপিয়ার আফার অঞ্চল পৃথিবীর অন্যতম উষ্ণ ও শুষ্ক এলাকা। এখানকার যাযাবরেরা মরুভূমি পেরিয়ে লবণ বহনে উটের কাফেলা ব্যবহার করেন। আফারের সেমেরা এলাকার উটপালক আলি উমেরের রয়েছে প্রায় ৫০০ উট। তাঁর চোখের সামনে তীব্র গরমে বদলে যাচ্ছে প্রাণীগুলোর জীবন।
৪০ বছর বয়সী উমের জানান, প্রচণ্ড গরমে তাঁর উটগুলো কষ্ট পাচ্ছে। তাদের পায়ে ফোসকা পড়ছে, চোখ দিয়ে পানি পড়ছে। উত্তপ্ত বালু তাদের চামড়া পুড়িয়ে দিচ্ছে এবং বসে থাকার সময় শরীরের লোমও ক্ষয়ে যাচ্ছে। গত এক মাসেই অতিরিক্ত গরমে তিনি আটটি উটশাবক হারিয়েছেন। তিনি বলেন, আগে যে বাতাস কিছুটা স্বস্তি এনে দিত, এখন সেই বাতাসও যেন আগুনের উত্তাপ বহন করছে।
বিজ্ঞানী, প্রাণীকল্যাণকর্মী ও বিভিন্ন গবেষণাতেও উটের ওপর তীব্র তাপের প্রভাবের বিষয়টি উঠে এসেছে। অতিরিক্ত গরমে উটের শরীরে তৈরি হচ্ছে তাপজনিত চাপ, অবসাদ ও পানিশূন্যতা। বাড়ছে বিভিন্ন রোগের প্রকোপ। একই সঙ্গে পানির উৎস শুকিয়ে যাওয়া, উদ্ভিদ ও ঘাসের পরিমাণ কমে যাওয়া এবং ছায়ার অভাব পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় এক কুঁজো উটের প্রায় ৮০ শতাংশই উত্তর আফ্রিকা ও আফ্রিকার হর্ন অঞ্চলে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে খরা ও প্রচণ্ড গরম সহ্য করতে পারার কারণে এসব অঞ্চলের কৃষক ও পশুপালকেরা উট পালনের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উটের স্বাস্থ্য, উৎপাদনশীলতা ও প্রজননক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
প্রতিবেশী সোমালিয়ায় পরিস্থিতি আরও গুরুতর। গত জুনে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, খরার কারণে দেশটির প্রায় ৪৬ শতাংশ উটপালক পরিবার উট মৃত্যুর সংকটে পড়েছে। উত্তরাঞ্চলের কোনো কোনো এলাকায় পরিস্থিতি ভয়াবহ। সোল অঞ্চলে উট মৃত্যুর হার প্রায় ৭৩ শতাংশে পৌঁছেছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
উত্তর-পূর্ব কেনিয়ার মারসাবিত কাউন্টির পশুচিকিৎসা কর্মকর্তা হাসান নুয়া গাইয়োর মতে, উটের মধ্যে অতিরিক্ত তাপজনিত অসুস্থতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর ফলে প্রাণীগুলো একাধিক সংক্রমণে আক্রান্ত হচ্ছে। গত দুই বছরে ওই এলাকায় অতিরিক্ত গরমের কারণে উটের মৃত্যু ১৫ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে বলে তিনি জানান।
উটের ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের আরেকটি বড় প্রভাব পড়ছে দুধ উৎপাদনে। তাপজনিত চাপের কারণে উট কম খাবার খায়, দুর্বল ও অলস হয়ে পড়ে। ফলে দুধ উৎপাদন কমে যায় এবং প্রজননজনিত সমস্যাও দেখা দেয়। দীর্ঘস্থায়ী তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে ওজন কমা, প্রদাহ, পেশি ও হাড়ের সমস্যা, কিডনির কার্যকারিতা ব্যাহত হওয়া এবং পরজীবীজনিত সংক্রমণও বাড়তে পারে।
শরীরের তাপমাত্রা কয়েক ডিগ্রি ওঠানামার মাধ্যমে উট সাধারণত প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে। এতে ঘাম কম হয় এবং ঘন মূত্র ও শুষ্ক মল শরীরের পানির অপচয় কমায়। তাদের পুরু চামড়াও সূর্যের তাপ থেকে সুরক্ষা দেয়। কিন্তু সাহারা অঞ্চলের অনেক জায়গায় গ্রীষ্মে তাপমাত্রা এখন প্রায়ই ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ফলে উটের স্বাভাবিক সহনক্ষমতাও অতিক্রম করছে পরিবেশ।
আলজেরিয়ার ঘারদাইয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবদেলমজিদ চেমহা বলেন, দীর্ঘ সময় দিন-রাত ৪১ থেকে ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা উটের কোষকে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এতে তাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয় এবং সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) জানিয়েছে, উত্তর আফ্রিকায় তাপপ্রবাহ ক্রমেই নিয়মিত ঘটনা হয়ে উঠছে। ১৯৮১ সালের পর থেকে অঞ্চলটিতে তাপপ্রবাহের প্রবণতা স্পষ্টভাবে বেড়েছে। ২০২৪ সালে উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়। ১৯৯১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে আফ্রিকার ছয়টি উপ-অঞ্চলের মধ্যে উত্তর আফ্রিকাতেই উষ্ণায়নের হার সবচেয়ে বেশি। প্রতি দশকে সেখানে ০.৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস হারে উষ্ণায়ন বাড়ছে।
পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে ইথিওপিয়ার অনেক উটপালক উত্তরাঞ্চল ছেড়ে দক্ষিণে চলে যাচ্ছেন, যেখানে এখনো তুলনামূলকভাবে পানি ও উদ্ভিদ পাওয়া যায়। গবেষকদের মতে, এটি আর আগের মতো মৌসুমি স্থানান্তর নয়; অনেক পরিবার স্থায়ীভাবেই উত্তরাঞ্চল ছেড়ে যাচ্ছে।
অর্থাৎ, মরুভূমির সবচেয়ে সহনশীল প্রাণীটিও এখন জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার। বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, উট হয়তো এখনো মরুভূমিতে টিকে থাকা মানুষের ‘শেষ ভরসা’; কিন্তু নজিরবিহীন তাপপ্রবাহ সেই শেষ প্রতিরোধকেও ধীরে ধীরে ভেঙে দিচ্ছে।

নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র ‘বালেন’ শাহ ভারত ও চীনের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখতে নিজের তৈরি কূটনৈতিক নীতি থেকে সরে আসছেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে কাঠমান্ডুভিত্তিক বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে একান্ত বৈঠক এড়িয়ে চললেও এবার তিনি ভারত ও চীনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন বলে জানা
১ ঘণ্টা আগে
অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের ঐতিহাসিক আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে বছরের অন্যতম বৃহৎ অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের দাবি, ইহুদিদের ধর্মীয় শোক দিবস তিশা ব’আভ উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার ২ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী (সেটলার) এবং কট্টর-ডানপন্থী গোষ্ঠীর সদস্য আল-আকসা প্রাঙ্গণে...
২ ঘণ্টা আগে
ইরানে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে প্রথমবারের মতো বি-১ দূরপাল্লার বোমারু বিমান ব্যবহার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস। গত মঙ্গলবার এই যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে...
২ ঘণ্টা আগে
ভারতীয় ধনকুবের গৌতম আদানির আদানি গ্রুপ নতুন বিমান পরিবহন সংস্থা চালুর বিষয়টি বিবেচনা করছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে বর্তমানে ইন্ডিগো ও এয়ার ইন্ডিয়ার আধিপত্যে থাকা ভারতের বিমান পরিবহন বাজারে প্রতিযোগিতার চিত্র বদলে যেতে পারে। বিষয়টি সম্পর্কে সরাসরি অবগত দুটি সূত্র রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে।
২ ঘণ্টা আগে