
ইরান যুদ্ধের দশম দিনে এসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য বিশ্বজুড়ে চরম বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ তৈরি করেছে। গতকাল সোমবার এক দিনেই ট্রাম্পের বক্তব্যের সুর কয়েক দফায় কয়েক দিকে মোড় নিয়েছে। ফলে মিত্র দেশ বা বাজার বিশ্লেষক—কেউই যুদ্ধের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য বা সময়সীমা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাচ্ছেন না।
গতকাল সকালে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারে উঠে যাওয়া এবং শেয়ারবাজারে ধস নামার পর ট্রাম্প মরিয়া হয়ে সাংবাদিকদের ফোন করতে শুরু করেন। নিউইয়র্ক পোস্টের সাংবাদিককে তিনি বলেন, ‘সবকিছুর জন্য আমার কাছে পরিকল্পনা আছে, আপনারা খুশিই হবেন।’
সিবিএস নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি আরও এক ধাপ এগিয়ে দাবি করেন, ‘যুদ্ধ প্রায় শেষ পর্যায়ে, আমরা সময়ের চেয়ে অনেক এগিয়ে আছি।’ এই বক্তব্যের প্রভাবে তেলের দাম ১২০ ডলার থেকে এক ধাক্কায় ৯০ ডলারের নিচে নেমে আসে।
কিন্তু সন্ধ্যা হতেই ট্রাম্প তাঁর আগের অবস্থান থেকে সরে আসেন। তিনি নতুন করে হুঙ্কার দিয়ে বলেন, ‘আমরা এখনই একে বিশাল সাফল্য বলতে পারি, অথবা আরও এগিয়ে যেতে পারি। আমরা আরও এগিয়েই যাব।’ অর্থাৎ মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ‘যুদ্ধ শেষের পথে’ থেকে তিনি ‘হামলা জোরদার করার’ দিকে ঝুঁকে পড়েন।
ট্রাম্প যখন দাবি করছেন অভিযান ‘প্রায় সম্পূর্ণ হয়ে গেছে’, ঠিক তখনই মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সিবিএসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছেন। হেগসেথ জানান, অভিযানের পরবর্তী ধাপে আরও শক্তিশালী ৫০০, ১০০০ এবং ২০০০ পাউন্ডের ‘গ্রাভিটি বোমা’ ব্যবহার করা হবে। তিনি সাফ বলেন, ‘আমরা তো অভিযানের আসল অংশটি এখনো শুরুই করিনি।’ যখন ট্রাম্পকে এই বৈপরীত্য নিয়ে প্রশ্ন করা হয়, তিনি অদ্ভুতভাবে উত্তর দেন, ‘আমার মনে হয় আপনি দুটোই বলতে পারেন।’
এদিকে ইরান যুদ্ধের কারণে আমেরিকায় সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে। গত এক সপ্তাহে পেট্রলের দাম গ্যালন প্রতি ৪৮ সেন্ট বেড়ে ৩ দশমিক ৪৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া গত ফেব্রুয়ারিতে দেশটিতে ৯২ হাজার মানুষ কাজ হারিয়েছেন এবং বেকারত্বের হার বেড়ে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ হয়েছে।
সামনে নভেম্বর মাসের গুরুত্বপূর্ণ মিডটার্ম নির্বাচন। তার আগে জর্জিয়ার বিশেষ নির্বাচনে ভোটারদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা গেছে। ট্রাম্পের সমর্থক অনেক ভোটারও এখন বলছেন, তাঁরা ট্রাম্পকে সমর্থন দিলেও এই যুদ্ধের কারণে তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক মন্দাকে সমর্থন করছেন না। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী শন হ্যারিস এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বলছেন, ‘আমেরিকানরা এই যুদ্ধ চায়নি, এটি আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
ট্রাম্পের বক্তব্যে একদিকে যেমন ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ ও ‘নতুন রাষ্ট্র গঠনের’ উচ্চাকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পাচ্ছে, অন্যদিকে তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে তিনি দ্রুত যুদ্ধ শেষের আশাও দেখাচ্ছেন। এই দ্বিমুখী বার্তার কারণে বিশ্ব অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবন এখন এক অনিশ্চিতায় ঝুলছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, ট্রাম্প হয়তো সামরিকভাবে ইরানের নৌবাহিনী বা বিমানবাহিনী ধ্বংসের সাফল্য উদ্যাপন করছেন, কিন্তু এই যুদ্ধের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চড়া মূল্য হয়তো তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেবে।

আমেরিকা যদি আবারও হামলা শুরু করে, তবে তার জবাবে মার্কিন অবস্থানে ‘দীর্ঘমেয়াদি ও যন্ত্রণাদায়ক’ পাল্টা আঘাত হানার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ইরানের এই কড়া বার্তার ফলে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য একটি আন্তর্জাতিক জোট গঠনের মার্কিন পরিকল্পনা আরও জটিল হয়ে পড়েছে।
১২ ঘণ্টা আগে
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় হয়েছে ২ হাজার ৫০০ কোটি ডলার। গতকাল বুধবার পেন্টাগনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই তথ্য জানিয়েছেন। যুদ্ধের প্রকৃত ব্যয়ের হিসাব নিয়ে এটিই প্রথম কোনো সরকারি তথ্য প্রকাশ।
১৪ ঘণ্টা আগে
প্যারিসভিত্তিক গণমাধ্যমবিষয়ক বেসরকারি সংস্থা রিপোর্টার্স সানস ফ্রন্টিয়ার্স (আরএসএফ) বা রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার মাত্রা একটি সূচকের মাধ্যমে তুলে ধরে। তাদের এই ‘ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্স’ বা বিশ্ব সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সূচক বলছে, বর্তমানে...
১৪ ঘণ্টা আগে
হরমুজ প্রণালি খুলতে যুক্তরাষ্ট্র আরও কিছু দেশকে সঙ্গে নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক জোট গঠনের চেষ্টা করছে। এই প্রণালিতে অবাধে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এই জোটের কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র। বার্তা সংস্থা রয়টার্স মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের নথির বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে।
১৬ ঘণ্টা আগে