
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিবিসির বিরুদ্ধে ১০০ কোটি ডলারের মানহানি মামলা করার হুমকি দিয়েছেন। তাঁর দাবি, বিবিসি ইচ্ছাকৃতভাবে এমন একটি তথ্যচিত্র সম্পাদনা করেছে, যাতে মনে হয়, তিনি ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে সহিংসতার উসকানি দিয়েছিলেন।
তবে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মামলা টিকিয়ে রাখতে হলে ট্রাম্পকে প্রথমে প্রমাণ করতে হবে—ফ্লোরিডায় ওই তথ্যচিত্র দেখে কেউ বিভ্রান্ত হয়েছেন কি না। এরপর আদালত ঠিক করবেন, বিবিসি যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের এখতিয়ারের আওতায় পড়ে কি না।
ট্রাম্প ও তাঁর আইনজীবীদের অভিযোগ, বিবিসি তাদের ‘প্যানোরামা’ অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের এক ভাষণের দুটি অংশ জোড়া লাগিয়ে এমনভাবে উপস্থাপন করেছে, যাতে মনে হয়, তিনি সমর্থকদের দাঙ্গায় উসকানি দিয়েছেন।
বিবিসির চেয়ারম্যান সামির শাহ ইতিমধ্যে সম্পাদনায় ভুল স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং জানিয়েছেন, আইনি নোটিশের বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিবিসিও সংকটে পড়েছে। এর মধ্যে বিবিসির ডিরেক্টর জেনারেল টিম ডেভি ও নিউজ সিইও ডেবোরা টারনেস পদত্যাগ করেছেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের কাছে বিবিসিকে পাঠানো ট্রাম্প প্রশাসনের চিঠির একটি কপি এসেছে। যাতে বলা হয়েছে, বিবিসিকে ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে সম্প্রচারিত পর্বটি প্রত্যাহারের জন্য আগামী শুক্রবার পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে, নতুবা মামলা করা হবে।
এর আগে ট্রাম্প ফক্স নিউজের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমি বাধ্য হয়েছি বিবিসির বিরুদ্ধে মামলা করতে। তারা জনগণকে প্রতারিত করেছে আর এখন নিজেরাই সেটা স্বীকার করছে।’
তবে মার্কিন আদালতে বিবিসির বিরুদ্ধে মামলা করার ক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। প্রথমত, বিবিসি একটি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম। এর সদর দপ্তর যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে অবস্থিত ব্রডকাস্টিং হাউসে। প্রশ্ন হতে পারে, ট্রাম্প কি যুক্তরাষ্ট্রে বসে বিবিসির বিরুদ্ধে মামলা করতে পারবেন?
এ ক্ষেত্রে ট্রাম্পের আইনজীবীরা ইঙ্গিত দিয়েছেন, মামলা হবে ফ্লোরিডায়। তবে এখানেও কিছু প্রশ্ন হতে পারে। যেমন; আদালত প্রথম প্রশ্ন করতে পারেন—বিবিসি কি ফ্লোরিডায় সক্রিয়ভাবে উপস্থিত থেকে ওই ভিডিওটি প্রচার করেছে এবং সেখানে কেউ কি ওই তথ্যচিত্র দেখে বিভ্রান্ত বা প্রভাবিত হয়েছেন?
দ্বিতীয়ত, মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে টিকবে কি না, তা নির্ভর করবে আদালতের এখতিয়ারের (Jurisdiction) ওপর। যদি ফ্লোরিডার আদালত এই এখতিয়ার অস্বীকার করেন, তাহলে মামলা দ্রুত খারিজ হয়ে যাবে।
ট্রাম্পকে কী প্রমাণ করতে হবে
যুক্তরাষ্ট্রে মানহানির মামলা বেশ কঠিন। এ ধরনের মামলার ক্ষেত্রে প্রমাণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে প্রমাণ করতে হবে—বিবিসির প্রচারিত বিষয়টি ভুল ও মানহানিকর এবং বিবিসি ইচ্ছাকৃতভাবে বা অবহেলাবশত সত্য গোপন করেছে।
ট্রাম্পের আইনজীবীরা বিবিসির অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ যাচাই করতে চাইবেন, যা প্রমাণ করবে যে তারা দর্শকদের বিভ্রান্ত করতে চেয়েছিল বা সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেছিল।
আরও একটি বিষয় হলো, বিবিসির বিরুদ্ধে বামঘেঁষা পক্ষপাতের অভিযোগ রয়েছে। ট্রাম্পের আইনজীবীরা প্রমাণ হিসেবে এ ধরনের তথ্য কাজে লাগাতে পারেন।
বিবিসি কীভাবে আত্মপক্ষ সমর্থন করবে
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী সংবাদমাধ্যমকে সবচেয়ে শক্তিশালী আইনি সুরক্ষা দেয়। ফ্লোরিডার আদালতে বিবিসি দাবি করতে পারে—তথ্যচিত্রটি সত্য, এর প্রচার বা সম্পাদনা দর্শককে বিভ্রান্ত করেনি এবং ট্রাম্পের সুনাম বা আর্থিক ক্ষতি হয়নি।
এ ছাড়া ফ্লোরিডায় একটি রাজ্য আইন রয়েছে। এই আইন অনুযায়ী, ফ্লোরিডায় মানহানির মামলা ভিত্তিহীন প্রমাণিত হলে তা দ্রুত খারিজ করার বিধানও রয়েছে।
ট্রাম্প যুক্তরাজ্যে মামলা করছেন না কেন
ব্রিটেনে মানহানির মামলা দাখিল করতে হয় কোনো ঘটনা ঘটার এক বছরের মধ্যে, যা ইতিমধ্যে পেরিয়ে গেছে। এ ছাড়া যুক্তরাজ্যে মানহানির মামলায় সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণের পরিমাণ প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড (প্রায় ৪.৭ লাখ ডলার), যা ট্রাম্পের দাবির তুলনায় অনেক কম।
অন্যদিকে, এই মামলায় যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষতিপূরণের অঙ্ক কয়েক শ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
ট্রাম্প কি সত্যিই ১ বিলিয়ন ডলার পেতে পারেন
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অঙ্ক মূলত আলোচনার চাপ সৃষ্টি ও সমঝোতার কৌশল। শেষ পর্যন্ত ক্ষতিপূরণের পরিমাণ ঠিক করবেন আদালত বা জুরি।
এর আগে ২০২৪ সালে ট্রাম্প মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএসের বিরুদ্ধে ২০ বিলিয়ন ডলারের মামলা করেছিলেন, যা পরে ১৬ মিলিয়ন ডলারে মীমাংসা হয়।
তা ছাড়া চলতি বছরের জুলাইয়ে তিনি ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বিরুদ্ধেও ১০ বিলিয়ন ডলারের মামলা করেছেন, যা এখনো চলমান।

এক সাক্ষাৎকারে ভিনগ্রহের প্রাণের অস্তিত্ব নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা জানিয়েছেন, তাদের অস্তিত্ব আছে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, তিনি নিজে কখনো এলিয়েন দেখেননি এবং নেভাদায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের গোপন সামরিক ঘাঁটি ‘এরিয়া ৫১ ’-তে কোনো এলিয়েনকে আটকে রাখা হয়নি...
৫ ঘণ্টা আগে
জার্মানির মিউনিখে অনুষ্ঠিত ‘মিউনিখ সিকিউরিটি সামিট’-এ এবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ছিলেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ইউরোপীয় নেতারা উদ্বেগ নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন—তিনি ঝগড়ার সুরে কথা বলবেন, নাকি সম্পর্ক মেরামতের বার্তা দেবেন?
৭ ঘণ্টা আগে
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইরান সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন লাখো মানুষ। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিবিসি জানিয়েছে, ইরানের প্রয়াত শাহের নির্বাসিত পুত্র রেজা পাহলভি ‘গ্লোবাল ডে অব অ্যাকশন’-এর আহ্বান জানানোর পর এই কর্মসূচি পালিত হয়।
৮ ঘণ্টা আগে
ভারতীয় লেখক ও অধিকারকর্মী অরুন্ধতী রয় ৭৬ তম ‘বার্লিন ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল’ (বার্লিনালে)-এ অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ন্যাশনাল’ জানিয়েছে, উৎসবের উদ্বোধনী দিনের সংবাদ সম্মেলনে গাজা প্রসঙ্গে জুরি সদস্যদের মন্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি
১১ ঘণ্টা আগে