
এক দশক ধরে ডোনাল্ড ট্রাম্পে যুদ্ধবিরোধী বক্তব্যের আলোকে একত্র হওয়া ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন–মাগা’ শিবিরের ভেতরে যে ‘আগুন ও ক্ষোভ’ জ্বলছিল, তা মঙ্গলবার সরাসরি প্রশাসনকে স্পর্শ করেছে। সেদিন ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের অনুগত জো কেন্ট ন্যাশনাল কাউন্টারটেররিজম সেন্টারের পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
দীর্ঘ ২০ বছর মার্কিন সেনাবাহিনীতে এবং পরে সিআইএতে কর্মরত কেন্ট তাঁর পদত্যাগপত্রে লেখেন, ‘ইরান আমাদের দেশের জন্য কোনো তাৎক্ষণিক হুমকি ছিল না এবং পরিষ্কার যে ইসরায়েল ও তার শক্তিশালী মার্কিন লবির চাপেই আমরা এই যুদ্ধে জড়িয়েছি।’
যুদ্ধের প্রভাবশালী সমর্থক এবং ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত লরা লুমার সামাজিক মাধ্যমে ইঙ্গিত দেন, যুদ্ধবিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ড পরবর্তী পদত্যাগকারী হতে পারেন।
ট্রাম্প ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর শুরু করা নতুন যুদ্ধ দুই দলের মধ্যেই ব্যক্তিগত আনুগত্য ও রাজনৈতিক অবস্থানের ব্যাপক পুনর্বিন্যাস ঘটাচ্ছে। তবে রিপাবলিকান পার্টির ভেতরের ভূমিকা-বদলটি বিশেষভাবে লক্ষণীয়। ট্রাম্পের নতুন যুদ্ধের প্রধান মুখপাত্র হিসেবে এখন যাঁরা সামনে আছেন, সেই তিন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হলেন—সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম, টেড ক্রুজ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। অথচ ২০১৫ সালের প্রাইমারি নির্বাচনে তাঁরা সবাই ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন।
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধসহ বিভিন্ন নীতিগত বিষয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে এই তিনজনের অতীতে সংঘাত হয়েছিল এবং তিনি তাঁদের তীব্র ভাষায় আক্রমণও করেছিলেন। এখন তাঁরা রিপাবলিকানদের ট্রাম্পের পক্ষে একত্রিত করছেন। জরিপে দেখা যাচ্ছে, দলের ৮০ শতাংশের বেশি সমর্থক এই যুদ্ধের পক্ষে। কিন্তু কেন্টের মতো মূল মাগা শিবিরের ব্যক্তিদের জন্য ট্রাম্পের শিবিরে থাকা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। মার্জোরি টেইলর গ্রিন যুদ্ধ শুরুর প্রায় দুই মাস আগে গত ৫ জানুয়ারি মার্কিন কংগ্রেসের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস থেকে পদত্যাগ করেন। অন্যদিকে প্রশাসনের ভেতরে থাকা যুদ্ধের বিষয়ে সংশয়ী দুই প্রধান ব্যক্তিত্ব ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং গ্যাবার্ড অত্যন্ত সূক্ষ্ম ভারসাম্য রক্ষা করে চলছেন।
তাঁরা কেউই সরাসরি যুদ্ধে সমর্থন দেননি, তবে ট্রাম্পের বিচারবুদ্ধি ও সক্ষমতার প্রতি আস্থা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তাঁদের অবস্থান হলো—ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকা আমেরিকার স্বার্থে নয় এবং ট্রাম্প জানেন তিনি কী করছেন। এই ভাষ্য তাঁদের প্রশাসনে থাকা সম্ভব করছে, একই সঙ্গে যুদ্ধকে পুরোপুরি সমর্থন না করেও ট্রাম্পের নেতৃত্বের প্রশংসা করা এবং পরিণতির দায় তাঁর ওপরেই রাখা।
গত ১৬ মার্চ ওভাল অফিসে ট্রাম্পের পাশে দাঁড়িয়ে ভ্যান্স বলেন, প্রেসিডেন্ট ‘২০১৫ সাল থেকেই ধারাবাহিকভাবে বলে আসছেন যে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকা উচিত নয়। এবং আমি তাঁর সঙ্গে একমত।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমাদের একজন বুদ্ধিমান প্রেসিডেন্ট আছেন, যেখানে অতীতে আমরা বোকা প্রেসিডেন্ট পেয়েছি। আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর ভরসা করি যে তিনি কাজটি সম্পন্ন করবেন এবং অতীতের ভুল পুনরাবৃত্তি হতে দেবেন না।’
গত ১৩ মার্চ ভ্যান্স অস্বীকার করেননি যে—তিনি ইরানে হামলার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলে ট্রাম্পকে তিনি কী পরামর্শ দিয়েছেন—সে বিষয়ে ভ্যান্স বলেন, ‘আমি এখানে এসে সবার সামনে বলতে যাচ্ছি না যে ওই গোপন বৈঠকে আমি ঠিক কী বলেছি। একদিকে আমি জেলে যেতে চাই না, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট যেন তাঁর উপদেষ্টাদের সঙ্গে এমনভাবে কথা বলতে পারেন যাতে তারা পরে মিডিয়ায় গিয়ে সব বলে না দেয়, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ।’
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোট ইরানে বোমাবর্ষণ শুরু করার পর প্রথমবার প্রকাশ্যে মন্তব্য করে গ্যাবার্ড গত মঙ্গলবার এক্সে লিখেন, ‘আমাদের কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে তিনি ঠিক করবেন কী তাৎক্ষণিক হুমকি এবং দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় কী পদক্ষেপ প্রয়োজন... ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের দপ্তরের দায়িত্ব হলো সব গোয়েন্দা তথ্য সমন্বয় করে প্রেসিডেন্টকে সর্বোত্তম তথ্য দেওয়া... সব তথ্য পর্যালোচনা করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে ইরানের সন্ত্রাসী ইসলামপন্থী শাসন তাৎক্ষণিক হুমকি তৈরি করেছিল, এবং সেই ভিত্তিতেই তিনি পদক্ষেপ নিয়েছেন।’
ভ্যান্সের জন্য ঝুঁকি আরও বেশি, কারণ তাঁর বয়স ৪১ এবং ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান মনোনয়নের সম্ভাব্য শীর্ষ প্রার্থী হিসেবে তাঁকে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্প প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন যে ভ্যান্সের মত তাঁর থেকে আলাদা ছিল। তিনি বলেন, ‘দর্শনগত দিক থেকে সে আমার থেকে কিছুটা আলাদা। হয়তো যুদ্ধে যাওয়ার ব্যাপারে সে কম উৎসাহী ছিল, কিন্তু মোটের ওপর সে যথেষ্ট উৎসাহী... আমাদের সম্পর্ক খুব ভালো।’
ট্রাম্প একই সঙ্গে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ভ্যান্স ও রুবিও দুজনই ২০২৮ সালের সম্ভাব্য প্রার্থী হতে পারেন, যদিও রুবিও এখন পর্যন্ত বলেছেন তিনি ভাইস প্রেসিডেন্টকে চ্যালেঞ্জ করার পরিকল্পনা করেননি। ট্রাম্প রিপাবলিকান পার্টিতে ‘কিংমেকার’ হতে চান এবং প্রেসিডেন্টের পদ ছাড়ার পর তাঁর প্রভাব অনেকটাই নির্ভর করবে মনোনয়ন প্রতিযোগিতার ওপর।
নিজ শিবিরের ভেতরকার সমালোচনার জবাবে ট্রাম্প দুটি যুক্তি দিয়েছেন। প্রথমত, সমালোচকেরা মাগাকে বোঝেন না এবং এই যুদ্ধ তাঁর তিনটি নির্বাচনে পাওয়া ম্যান্ডেটের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘মাগা আমাদের দেশকে বাঁচাচ্ছে। মাগা আমাদের দেশকে আবার মহান করছে। মাগা মানে আমেরিকা ফার্স্ট... মাগা চায় আমাদের দেশ সমৃদ্ধ ও নিরাপদ হোক। এবং আমি যা করছি তার প্রতিটি দিকই মাগা পছন্দ করছে। ”
দ্বিতীয়ত, তিনি বারবার বলেছেন মাগা এমন একটি আন্দোলন যা তাঁর কথাই অনুসরণ করে। ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি মাগা মানেই ট্রাম্প।’ তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ তাঁর ভোটারদের বিশ্বাসভঙ্গ করেছে এমন অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে। এ ক্ষেত্রে তিনি অনেকটাই সঠিক। যুদ্ধ ও বৈশ্বিক জটিলতায় সন্দিহান হওয়া সত্ত্বেও বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, মাগা রিপাবলিকানদের ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ এই হামলার পক্ষে, যা সাধারণ রিপাবলিকান বা সামগ্রিক মার্কিন জনমতের চেয়েও বেশি।
ট্রাম্প যখন মাগা শিবিরের বেশিরভাগ অংশকে নিজের প্রভাববলয়ে ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন, তখন ভ্যান্সের সামনে বর্তমান অবস্থান বজায় রাখা ছাড়া তেমন বিকল্প নেই। প্রশাসনের বাইরে থাকা সমর্থকরাও, যেমন ভাষ্যকার টাকার কার্লসন ও গ্রিন, ট্রাম্পকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা থেকে বিরত থেকেছেন। বরং তাঁরা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ট্রাম্পকে ভুল পথে পরিচালিত করা হচ্ছে। গ্রিন সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, ‘পুনর্গঠনের সময় এসেছে। এটা ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। ব্যক্তি নয়, লক্ষ্যই মুখ্য।’ আপাতত এটি শক্তির বিরুদ্ধে আশার লড়াই।

চলমান ইরান এবং ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের বিষয়ে মন্তব্য করেছেন ভারতের বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ (রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং)-এর সাবেক প্রধান অমরজিৎ সিং দুলাত। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তিনি বলেছেন...
২ ঘণ্টা আগে
ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা এবং অঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার উপায় নিয়ে তুরস্ক, মিশর ও পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা করেছে সৌদি আরব। আজ বৃহস্পতিবার সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান রাজধানী রিয়াদে অনুষ্ঠিত কয়েকটি আরব ও ইসলামি দেশের...
২ ঘণ্টা আগে
জ্বালানির দাম বাড়তে থাকায় হরমুজ প্রণালি আবার চালু করার উপায় খুঁজতে সহযোগী ও উপদেষ্টাদের ওপর চাপ দিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সামরিক বিকল্পের ক্ষেত্রে তাঁর সবচেয়ে কার্যকর ভরসা হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিন কর্পস।
২ ঘণ্টা আগে
ইসরায়েল দেশটির উত্তরাঞ্চলে লেবাননের দক্ষিণ সীমান্ত এলাকার গ্রামগুলো দখল করে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। এই দখল অনির্দিষ্টকাল বজায় থাকবে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি গণমাধ্যম। তুরস্কের রাষ্ট্র পরিচালিত সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
৩ ঘণ্টা আগে