
ট্রাম্প প্রশাসন ইরানি কূটনীতিকদের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে কস্টকোসহ বিভিন্ন ‘হোলসেল ক্লাব স্টোর’ থেকে কেনাকাটা ও বিলাস পণ্য কেনার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। গতকাল সোমবার এমনটাই জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট। কেবল তাই নয়, তাঁদের চলাফেরাও সীমিত করে দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮০তম বার্ষিক অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে যাওয়া ইরানি কর্মকর্তাদের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। পিগট বলেছেন, তাঁদের চলাফেরা সীমিত থাকবে। তাঁরা কেবল জাতিসংঘ সদর দপ্তরে যাওয়া–আসা এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কাজে যেখানে যাওয়া প্রয়োজন সেখানেই যেতে পারবেন। এর আগেও যুক্তরাষ্ট্র সরকার ইরানি প্রতিনিধিদলের ওপর এ ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল।
ফেডারেল রেজিস্ট্রারে প্রকাশের জন্য নির্ধারিত এক বিজ্ঞপ্তিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, নিউইয়র্কে অবস্থানরত ইরানি মিশনের কর্মকর্তা-পরিষদসহ সব ইরানি কর্মকর্তাকে যুক্তরাষ্ট্রে কোনো হোলসেল ক্লাব স্টোরে (যেমন কস্টকো, স্যাম’স ক্লাব বা বিজে’স হোলসেল ক্লাব) সদস্যপদ গ্রহণ ও কেনাকাটার জন্য অনুমতি নিতে হবে।
এ ছাড়া, ১ হাজার ডলারের বেশি দামের বিলাসবহুল পণ্য কেনার ক্ষেত্রেও অনুমতি নিতে হবে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে ঘড়ি, চামড়া ও সিল্কের পোশাক, পশমি কাপড়, গয়না, সুগন্ধি, ইলেকট্রনিকস, মদ এবং ৬০ হাজার ডলারের বেশি মূল্যের গাড়ি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাওয়া অনেক পণ্যই ইরানে পাওয়া যায় না, দেশটি কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণে মারাত্মক সংকটে ভুগছে।
পিগট সোমবার বলেন, ‘আমরা ইরানি শাসকদের নিউইয়র্কে বিলাসী কেনাকাটার সুযোগ দেব না, যখন ইরানের সাধারণ মানুষ দারিদ্র্য, ভেঙে পড়া অবকাঠামো এবং পানি-বিদ্যুতের ভয়াবহ সংকটে দিন কাটাচ্ছে।’
ইরানি প্রতিনিধিদলের চলাফেরার ওপর বিধিনিষেধের পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসন ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের ভিসাও আটকে দিয়েছে। এর ফলে প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসসহ তাঁরা সোমবার অনুষ্ঠিত দ্বিরাষ্ট্র সমাধানবিষয়ক সম্মেলনে যোগ দিতে পারেননি।
জাতিসংঘের বার্ষিক অধিবেশনে নিউইয়র্কে ইরানি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। এই সফর এমন সময়ে হচ্ছে, যখন ইরান পরমাণু চুক্তির আওতায় প্রত্যাহার করা সব জাতিসংঘ নিষেধাজ্ঞা ফের বহাল করার প্রক্রিয়া সামনে এসে দাঁড়িয়েছে।
পিগট আরও বলেন, ‘আমেরিকানদের নিরাপত্তাই আমাদের অগ্রাধিকার। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অজুহাতে ইরানি সরকারকে নিউইয়র্কে অবাধ চলাচল ও সন্ত্রাসবাদী এজেন্ডা ছড়াতে আমরা কখনোই দেব না।’
তিনি আরও বলেন, ‘জাতিসংঘের কূটনৈতিক সফরকে ইরানি শাসকগোষ্ঠীর জন্য এমন পণ্য সংগ্রহের সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করতে আমরা দিচ্ছি না, যেগুলো সাধারণ ইরানিরা পাচ্ছে না। আমরা স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছি—আমরা যখন বলি, যুক্তরাষ্ট্র ইরানি জনগণের পাশে আছে, তখন আমরা সত্যিই তা-ই বোঝাই। আজকের এই পদক্ষেপ দেখাচ্ছে, জনগণের কাছে দায়বদ্ধতা এবং একটি উন্নত জীবনের জন্য ইরানি জনগণের সংগ্রামে আমরা অটলভাবে তাঁদের সমর্থন দিচ্ছি।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত দুই সপ্তাহের ‘যুদ্ধবিরতি’ কার্যকর হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলার প্রতিবাদে ইরান পুনরায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। ইরানের আধা সরকারি বার্তা..
১৭ মিনিট আগে
ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় সৌদি আরব তাদের তেলের খনিগুলো থেকে লোহিতসাগরের ইয়ানবু বন্দর পর্যন্ত তেল পরিবহনে পাইপলাইনটি ব্যবহার করছিল। সংশ্লিষ্ট শিল্প খাতের একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, বুধবারের এই হামলায় পাইপলাইনের প্রবাহ ব্যাহত হতে পারে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো জানা যায়নি।
১ ঘণ্টা আগে
সংঘাতের অবসান নিয়ে দুপক্ষই নিজেদের বিজয়ী দাবি করছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ দাবি করেছেন, সামরিকভাবে ইরান পরাজিত হয়েছে এবং তাদের প্রতিরক্ষাশিল্প, নৌবাহিনী ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস হয়ে গেছে। ফলে চুক্তি করা ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই।
২ ঘণ্টা আগে
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ দাবি করেছেন, হরমুজ বর্তমানে উন্মুক্ত। অন্যদিকে, ইরানের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এটি এখনো পুরোপুরি খোলেনি এবং আগামীকাল বৃহস্পতিবার বা আগামী শুক্রবার নাগাদ ‘সীমিত ও নিয়ন্ত্রিত’ আকারে খুলে দেওয়া হতে পারে।
৩ ঘণ্টা আগে