Ajker Patrika

ফের আলোচনায় ট্রাম্পের শারীরিক অবস্থা, প্রশ্ন তুললেন মার্কিন চিকিৎসক

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২৬, ১২: ৩৮
ফের আলোচনায় ট্রাম্পের শারীরিক অবস্থা, প্রশ্ন তুললেন মার্কিন চিকিৎসক
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বয়স এখন ৮০ বছর। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে দায়িত্ব পালন করা সবচেয়ে প্রবীণ প্রেসিডেন্ট তিনি। তাঁর চিকিৎসক জানিয়েছেন, ট্রাম্প ‘চমৎকার স্বাস্থ্যের’ অধিকারী। তবে এই বক্তব্যের সত্যতা কতটুকু তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে অনেকবারই। এবার এক মার্কিন চিকিৎসকও প্রশ্ন তুললেন হোয়াইট হাউস থেকে প্রকাশিত ট্রাম্পের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য নিয়ে।

২৭ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনির চিকিৎসা করেন জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন ও সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. জোনাথন রেইনার। এই হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞের মতে, ট্রাম্পের কিছু দৃশ্যমান উপসর্গ এবং শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা এমন কিছু প্রশ্ন উত্থাপন করে, যার পূর্ণাঙ্গ কোনো উত্তর মেলেনি।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমসে লেখা এক নিবন্ধে ডা. রেইনার স্বাস্থ্যগত সমস্যা মোকাবিলা নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে চেনির দৃষ্টিভঙ্গির তুলনা করেছেন। চেনি তাঁর হৃদ্‌রোগের ইতিহাস নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেছিলেন। এর মধ্যে ছিল হৃদ্‌যন্ত্রে স্টেন্ট বসানো, শরীরে ডিফিব্রিলেটর স্থাপন, অনিয়মিত হৃদ্‌স্পন্দনের চিকিৎসা এবং পায়ে রক্ত জমাট বাঁধার ঘটনা।

ডা. রেইনারের যুক্তি, প্রেসিডেন্টদের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য প্রায়ই গোপন রাখা হয়েছে। গ্রোভার ক্লিভল্যান্ড ও ফ্র্যাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট তাঁদের গুরুতর স্বাস্থ্যগত সমস্যা জনগণের কাছ থেকে গোপন করেছিলেন। অন্যদিকে, ২০২৪ সালের বিতর্কে অংশ নেওয়ার পর জো বাইডেনের শারীরিক পরিস্থিতি বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছিল।

গত মে মাসে স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর ট্রাম্পের চিকিৎসক ডা. শন বারবাবেলা জানিয়েছিলেন, ট্রাম্প এখনো ‘চমৎকার স্বাস্থ্যের’ অধিকারী। তাঁর ব্যস্ত কর্মসূচি ও শারীরিক কর্মকাণ্ড সামগ্রিক সুস্বাস্থ্যের পক্ষে সহায়ক বলেও জানান তিনি।

তবে ডা. রেইনারের মতে, জনসমক্ষে দৃশ্যমান ট্রাম্পের কিছু উপসর্গ এমন কিছু প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে, যার পুরোপুরি উত্তর চিকিৎসাসংক্রান্ত প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

এর মধ্যে একটি হলো ট্রাম্পের হাতে কালশিটে দাগ। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ঘন ঘন হাত মেলানো এবং অ্যাসপিরিন সেবনের কারণে এসব কালশিটে হয়েছে। ডা. রেইনার প্রশ্ন তুলেছেন, কালশিটের ধরন বিশেষ করে প্রেসিডেন্টের বাঁ হাতেও একই ধরনের বিবর্ণতা দেখা যায়। বিষয়টি শুধু এসব কারণ দিয়ে যথাযথভাবে ব্যাখ্যা করা যায় কি না।

ডা. রেইনারের আরেকটি উদ্বেগের বিষয় ট্রাম্পের পা ফুলে যাওয়া। হোয়াইট হাউসের এক চিকিৎসক এটিকে ‘ক্রনিক ভেনাস ইনসিফিশিয়েন্সি’ বা দীর্ঘস্থায়ী শিরাগত অপ্রতুলতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এই অবস্থায় শিরাগুলো শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকে হৃদ্‌যন্ত্রে কার্যকরভাবে রক্ত ফিরিয়ে নিতে সমস্যায় পড়ে। তবে ডা. রেইনার একটি অসামঞ্জস্যের দিকে ইঙ্গিত করেছেন।

মে মাসের স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদনে পা ফুলে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি বলে জানা গেছে। ফলে পরে দেখা দেওয়া এই সমস্যাকে কীভাবে ওই রোগ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

জনসমক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের জেগে থাকতে কষ্ট হচ্ছে বলেও মনে হয়েছে। এমন কয়েকটি ঘটনাও তুলে ধরেছেন ডা. রেইনার। তিনি এটিকে অতিরিক্ত দিনের বেলা ঘুম ঘুম ভাব হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, এর পেছনে একাধিক সম্ভাব্য কারণ থাকতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসার প্রয়োজনও হতে পারে।

ট্রাম্পের স্বাস্থ্য নিয়ে আরেকটি প্রশ্ন উঠেছে ২০২৫ সালের অক্টোবরে ওয়াল্টার রিড ন্যাশনাল মিলিটারি মেডিকেল সেন্টারে তাঁর করা হৃদ্‌যন্ত্র ও পেটের উন্নত ইমেজিং পরীক্ষাকে ঘিরে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের চিকিৎসক বলেছিলেন, সম্ভাব্য সমস্যা আগেভাগে শনাক্ত করা এবং তাঁর সামগ্রিক স্বাস্থ্য মূল্যায়নের জন্য এসব পরীক্ষা করা হয়েছিল। তবে ডা. রেইনারের প্রশ্ন, এত বিস্তৃত পরীক্ষা করার প্রয়োজন কেন হয়েছিল, তা জনগণকে জানানো হয়নি কেন।

এই হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞ প্রেসিডেন্টের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সব তথ্য প্রকাশের দাবি জানাচ্ছেন না। তিনি স্বীকার করেছেন, কিছু তথ্য প্রকাশ করা হলে তা নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

এর পরিবর্তে তিনি সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী ব্যবহার করে কংগ্রেসের একটি স্বাধীন প্যানেল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। এই প্যানেল প্রেসিডেন্টের স্বাস্থ্য ও দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা মূল্যায়ন করতে পারবে।

ডা. রেইনারের মতে, মূল প্রশ্নটি হলো না যে মার্কিন নাগরিকদের প্রেসিডেন্টের সম্পূর্ণ চিকিৎসা নথি জানার অধিকার আছে কি না। বরং প্রশ্ন হলো, বিপুল ক্ষমতার অধিকারী দেশের দায়িত্বে যাঁকে বসানো হয়েছে, তিনি দায়িত্ব পালনের জন্য শারীরিক ও চিকিৎসাগতভাবে সক্ষম কি না—এ বিষয়ে ভোটাররা নিশ্চিত হতে পারছেন কি না।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত