
চীন ও অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতাসম্পন্ন অন্যান্য দেশ থেকে ক্রমবর্ধমান রপ্তানি ঠেকাতে আরও উচ্চ শুল্ক আরোপ করতে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ শিল্পখাতগুলো। অন্যদিকে আমদানিনির্ভর ব্যবসা ও কৃষিখাতের সংগঠনগুলো নতুন বাণিজ্যিক বিধিনিষেধে আরও সতর্ক অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর বা ইউএসটিআর ‘সেকশন–৩০১’ বাণিজ্য তদন্তের আওতায় চার দিনব্যাপী দীর্ঘ শুনানি শুরু করেছে। এই তদন্তে ১৬টি প্রধান বাণিজ্য অংশীদার দেশের অতিরিক্ত শিল্প উৎপাদন সক্ষমতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, মেক্সিকো ও ভিয়েতনাম।
বিশ্লেষকেরা ব্যাপকভাবে ধারণা করছেন, এই তদন্তের ফল হিসেবে নতুন আমদানি শুল্ক আরোপ করা হবে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট জাতীয় জরুরি অবস্থার আইনে আরোপ করা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈশ্বিক শুল্ক বাতিল করে দেওয়ার পর দুর্বল হয়ে পড়া শুল্ক-চাপ পুনর্গঠন করতে চাইছে ট্রাম্প প্রশাসন।
ইউএসটিআরের সূচি অনুযায়ী, স্থানীয় সময় আজ শুক্রবার পর্যন্ত প্রায় ১৫০ জন প্রতিনিধি সাক্ষ্য দেবেন। এদের মধ্যে থাকবেন—বিভিন্ন কোম্পানি, বাণিজ্য সংগঠন, বিদেশি সরকার ও থিংকট্যাংকের প্রতিনিধিরা। গত সপ্তাহে ট্রাম্প প্রশাসন আরও একটি পৃথক কিন্তু সমান্তরাল শুল্ক তদন্তে দুই দিনের শুনানি নেয়। সেই তদন্তে প্রায় ৬০টি দেশের জোরপূর্বক শ্রমবিরোধী আইন প্রয়োগে শিথিলতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেছেন, তিনি জুলাইয়ের মধ্যে এই দুটি তদন্ত শেষ করতে চান। ওই সময় সাময়িক বৈশ্বিক ১০ শতাংশ শুল্কের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে মার্চের মাঝামাঝি শুরু হওয়া এই তদন্তগুলো দ্রুতগতির সময়সূচির মধ্যে এগোচ্ছে। গ্রিয়ার বলেন, যেসব দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বড় ও দীর্ঘস্থায়ী বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে, সেসব দেশের উৎপাদন সক্ষমতার ব্যবহার ও মুনাফার বিষয়টি তদন্তে বিশ্লেষণ করা হবে। ইউএসটিআরের বিজ্ঞপ্তিতে চীন ও জাপানের গাড়িশিল্পের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, এই দেশগুলোর ক্রমবর্ধমান সংখ্যক কোম্পানি অলাভজনক হয়ে পড়ছে অথবা সুদের অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হচ্ছে।
চীনের চ্যালেঞ্জ আলাদা
থিংকট্যাংক সেন্টার ফর আ নিউ আমেরিকান সিকিউরিটি (সিএনএএস) তাদের প্রস্তুত করা সাক্ষ্যে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ মূলত চীনকেন্দ্রিক হওয়া উচিত। কারণ, চীনের বৃহৎ ও ক্রমবর্ধমান কাঠামোগত অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা এবং লিগ্যাসি সেমিকন্ডাক্টরের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাত নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি ‘কৌশলগত সমস্যা।’
সিএনএএসের জ্যেষ্ঠ ফেলো এমিলি কিলক্রিস বলেন, অন্য অর্থনীতিগুলোর অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য চীনের মতো হুমকি তৈরি করে না। ট্রাম্পের আগের চীনবিরোধী শুল্ক মূলত চীনা রপ্তানিকে শুধু অন্য বাজারে সরিয়ে দিতে পেরেছিল। তিনি বলেন, ‘যদি কেউ মেনে নেয় যে চীনের অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা মৌলিকভাবে ভিন্ন এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং একক পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়, তাহলে স্পষ্ট হয় যে—যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগই সামনে এগোনোর পথ।’ তিনি যুক্তি দেন, কৌশলগত উপকরণ উৎপাদনে পর্যাপ্ত সক্ষমতা গড়ে তুলতে মিত্র দেশগুলোর একসঙ্গে কাজ করা উচিত।
চীন বহুদিন ধরেই অতিরিক্ত শিল্প উৎপাদন সক্ষমতার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। চায়না চেম্বার অব ইন্টারন্যাশনাল কমার্স লিখিত মন্তব্যে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই বয়ান ‘মৌলিকভাবে ত্রুটিপূর্ণ’ এবং এর কোনো আইনি বা বাস্তবভিত্তিক ভিত্তি নেই। তাদের যুক্তি, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা বা ডব্লিউটিও কেবল মৎস্যসম্পদের ক্ষেত্রে ‘ওভারক্যাপাসিটি’ শব্দটি ব্যবহার করে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ইস্পাতের চাপ
যুক্তরাষ্ট্রের স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্র্যান্ডন ফ্যারিস বৃহস্পতিবারের শুনানির জন্য প্রস্তুত করা সাক্ষ্যে বলেন, ‘অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতার অভিশাপ মোকাবিলায়’ সেকশন–৩০১ এর আওতায় পদক্ষেপ প্রয়োজন। তাঁর ভাষায়, এটি আমেরিকান চাকরির জন্য হুমকি, ন্যায্য প্রতিযোগিতাকে দুর্বল করে এবং উৎপাদনভিত্তিকে ক্ষয় করে।
ট্রাম্প ইতিমধ্যে আলাদা একটি জাতীয় নিরাপত্তা আইনের আওতায় বৈশ্বিক ইস্পাত আমদানিতে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন। কিন্তু ফ্যারিস বলেন, চীনসহ যেসব দেশ তাদের ইস্পাত খাতকে ‘যথাযথ আকারে’ আনতে অনিচ্ছুক, তাদের কারণে আমদানি বাড়তেই থাকবে। ফ্যারিস বলেন, অতিরিক্ত ইস্পাত উৎপাদনের প্রধান উৎস চীন। দেশটি ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও রাশিয়ার সম্মিলিত উৎপাদনের চেয়েও বেশি ইস্পাত উৎপাদন করে। তবে অন্যান্য দেশও নিজেদের ইস্পাত শিল্পকে ভর্তুকি দিয়ে বৈশ্বিক অতিরিক্ত সরবরাহ সংকট বাড়াচ্ছে।
তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অতিরিক্ত ইস্পাত উৎপাদন সক্ষমতা ৮ কোটি ৫০ লাখ মেট্রিক টন, যা গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের ৮ কোটি ৯০ লাখ টন উৎপাদনের প্রায় সমান। দক্ষিণ কোরিয়ার অব্যবহৃত সক্ষমতা প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ টন এবং তাইওয়ানের ১ কোটি ২ লাখ টন।
চীনের সঙ্গে সমঝোতা নষ্টের শঙ্কা
পাঁচ লাখের বেশি কৃষকের প্রতিনিধিত্বকারী আমেরিকান সয়াবিন অ্যাসোসিয়েশন নতুন শুল্ক আরোপে সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটি বহু বছর ধরে চীনের পাল্টা শুল্কের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আসছে। ওয়াশিংটন ও বেইজিং বর্তমানে একটি নাজুক বাণিজ্যিক সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে। আগামী সপ্তাহে বেইজিংয়ে ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকে সেকশন ৩০১ তদন্তের বিষয়গুলোও আলোচনায় আসবে।
আইওয়ার কৃষক ও অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেভ ওয়ালটন বলেন, ‘আমরা উদ্বিগ্ন যে অতিরিক্ত সেকশন ৩০১ তদন্ত এমন পদক্ষেপ ডেকে আনতে পারে, যা আলোচনাকে পিছিয়ে দেবে এবং চীনা সরকারকে আবারও যুক্তরাষ্ট্রের সয়াবিনের ওপর আরও উচ্চ শুল্ক আরোপে উৎসাহিত করবে।’
ওয়ালটন আরও বলেন, সারসহ কৃষি উপকরণকে নতুন শুল্ক থেকে অব্যাহতি দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে ইন্দোনেশিয়া ও মেক্সিকোর মতো দেশের ওপর শুল্ক না বাড়ানোর আহ্বান জানান, কারণ এসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সয়াবিনের ক্রমবর্ধমান ক্রেতা।
ফুটওয়্যার ডিস্ট্রিবিউটরস অ্যান্ড রিটেইলার্স অব আমেরিকা ইউএসটিআরের কাছে জমা দেওয়া লিখিত মন্তব্যে বলেছে, জুতার আমদানি ইতিমধ্যেই গড়ে ১২ শতাংশ শুল্কের আওতায় রয়েছে। তাদের মতে, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, বাংলাদেশ ও ভারত থেকে বাড়তি আমদানির পেছনে মূল কারণ হচ্ছে বাজারের চাহিদা। এটি ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পভিত্তি পুনর্গঠনের প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে না। সংগঠনটি বলেছে, ‘নতুন সেকশন ৩০১ শুল্কের মাধ্যমে এই শুল্কের বোঝা আরও বাড়ালে এমন সময়ে পরিশ্রমী মার্কিন পরিবারগুলোর ব্যয় বাড়বে, যখন তারা ইতিমধ্যেই তীব্র অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।’

শান্তি আলোচনার এই সংকটময় মুহূর্তে খলিল আল-হাইয়ার ছেলের মৃত্যু গাজা উপত্যকায় নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে, যা মার্কিন মধ্যস্থতায় চলমান শান্তি প্রক্রিয়াকে আরও অনিশ্চিত করে তুলল।
২ ঘণ্টা আগে
সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে টিভিকের আরও ১০টি আসন প্রয়োজন। ইতিমধ্যে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে কংগ্রেস, যাদের পাঁচজন বিধায়ক রয়েছে। বাকি আসনের জন্য বাম দল ও কয়েকটি ছোট দলের সঙ্গে আলোচনা চলছে। সূত্র জানিয়েছে, টিভিকে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ারও প্রস্তুতি নিচ্ছে।
৩ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হামলাকে ‘ছেলেখেলা’ আখ্যা দিয়েছেন। তবে তিনি জানিয়েছেন, এরপরও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি এখনো বহাল তবিয়তেই আছে। তবে কে প্রথম গুলি ছুড়েছিল, তা স্পষ্ট নয়।
৩ ঘণ্টা আগে
মার্কিন বাণিজ্য আদালত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্কের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন। আদালত জানিয়েছেন, ১৯৭০-এর দশকের একটি বাণিজ্য আইনের অধীনে এই ধরনের ঢালাও শুল্ক আরোপের কোনো যৌক্তিকতা নেই। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
৪ ঘণ্টা আগে