Ajker Patrika

৩৫ বছর যুক্তরাষ্ট্রে থাকার পর আটক ভারতীয় নারী, খাবার ও পানি ছাড়া ২৪ ঘণ্টা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
৩৫ বছর যুক্তরাষ্ট্রে থাকার পর আটক ভারতীয় নারী, খাবার ও পানি ছাড়া ২৪ ঘণ্টা
মীনু বাত্রা। ছবি: এক্স

যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে বসবাস করা মীনু বাত্রা (৫৩) নামের এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত নারীকে আটক করেছে মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। গত ১৭ মার্চ টেক্সাসের হারলিনজেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মীনুকে আটকের পর তাঁর আইনি বৈধতা নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। বর্তমানে তিনি রেমন্ডভিলের এল ভ্যালে ডিটেনশন সেন্টারে বন্দী রয়েছেন।

মীনু বাত্রা পেশায় একজন লাইসেন্সধারী দোভাষী। তিনি টেক্সাসের একমাত্র স্বীকৃত পাঞ্জাবি, হিন্দি ও উর্দু দোভাষী হিসেবে বছরের পর বছর ধরে অভিবাসন আদালতকে সহায়তা করে আসছেন। মিলওয়াকিতে আদালতের একটি অ্যাসাইনমেন্টে যাওয়ার পথে তাঁকে হাতকড়া পরান আইসিই কর্মকর্তারা। মীনু জানান, তাঁর কাজের অনুমতিপত্র থাকার কথা বললেও কর্মকর্তারা তা শোনেননি।

কারাগার থেকে দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মীনু অভিযোগ করেন, ‘তারা আমার সঙ্গে এমন আচরণ করেছে, যেন আমি একজন অপরাধী। ২৪ ঘণ্টা আমাকে খাবার ও পানি ছাড়া রাখা হয়েছিল, এমনকি জরুরি ওষুধও দেওয়া হয়নি।’ তিনি জানান, কর্মকর্তারা তাঁকে হাতকড়া পরা অবস্থায় ছবি তুলতে বাধ্য করেন এবং বলেন, এগুলো সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য। মীনু একে চরম অবমাননাকর ও লজ্জাজনক বলে বর্ণনা করেন।

১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী দাঙ্গায় বাবা-মাকে হারানোর পর ১৯৯১ সালে শিশু অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন মীনু। দক্ষিণ টেক্সাসে তিনি তাঁর চার সন্তানকে বড় করেছেন। বর্তমানে তাঁর এক ছেলে মার্কিন সেনাবাহিনীতে কর্মরত।

মীনুর আইনজীবী দীপক আহলুওয়ালিয়া জানান, ২০০০ সালে একটি অভিবাসন আদালত মীনুকে ভারতে ফেরত না পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। কারণ, সেখানে (ভারতে) তিনি নির্যাতনের শিকার হতে পারেন বলে প্রমাণিত হয়েছিল।

আইনজীবীর আশঙ্কা, ট্রাম্প প্রশাসন যেহেতু মীনুর অভিবাসন মামলাটি পুনরায় চালু করেনি, তাই তাঁকে ভারত ছাড়া অন্য কোনো (তৃতীয়) দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হতে পারে। গত বছর ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর ক্যামেরুন, রুয়ান্ডা ও দক্ষিণ সুদানের মতো কয়েক ডজন দেশের সঙ্গে বহিষ্কৃত ব্যক্তিদের গ্রহণের চুক্তি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত মাসে একটি আপিল আদালত রায় দিয়েছেন, কোনো ব্যক্তিকে অপরিচিত দেশে পাঠানোর আগে প্রশাসনকে আগাম নোটিশ দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

মীনু বর্তমানে একটি হ্যাবিয়াস কর্পাস (এর মাধ্যমে একজন নাগরিক অন্যায়ভাবে আটক হলে আদালতে নিজের মুক্তির আবেদন করতে পারেন) পিটিশনের মাধ্যমে তাঁর আটকের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করেছেন।

মীনুর আইনজীবী দীপক বলেন, ‘আটক হওয়ার এক মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো আমাদের জানানো হয়নি তাঁকে কোথায় পাঠানো হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

প্রশাসনের সভায় এমপির বউ, ইউএনও-এসি ল্যান্ড বদলি

কিশোরগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার স্ত্রীর লাশ উদ্ধার

ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা না বাড়াতে উপসাগরীয় মিত্রদের সৌদির ‘গোপন বার্তা’

মার্কিন বাহিনীতে আক্রমণের কোনো পরিকল্পনা ছিল না ইরানের: কংগ্রেসকে পেন্টাগন

ভুলবশত ৩টি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে কুয়েত: মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত