
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের কৃষক চ্যাড রেইনস এবং তাঁর পরিবার ৪ প্রজন্ম ধরে তুলা চাষ করে আসছিলেন। কিন্তু গত বছর তারা প্রথমবারের মতো তুলা চাষ করেননি। রেইনস তাঁর ট্রাক্টর বন্ধ রেখে বেশির ভাগ কৃষিজমি এক প্রতিবেশীকে লিজ দেন। তিনি বছরটি কাটান ভেড়ার পাল চরিয়ে। তিনি ভেড়াগুলোকে একটি সোলার প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে এমন একটি এলাকায় নিয়ে যান। যেখানে ভেড়াগুলো সোলার প্যানেলের চারপাশে গজিয়ে ওঠা ঘাস খেয়ে ফেলে। চ্যাড রেইনস পাঁচটি সোলার কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করেছিলেন, তাদের খামারে গজিয়ে ওঠা ঘাস পরিষ্কারের জন্য। এই চুক্তিগুলো চ্যাডের কাছে তুলা চাষের চেয়ে বেশি লাভজনক বলে প্রমাণিত হয়।
৫২ বছর বয়সী চাষি চ্যাড রেইনস বলেন, ‘তুলার দাম অনেক দিন ধরেই খুব খারাপ, তাই আমাকে ভিন্ন কিছু করতেই হতো।’
যুক্তরাষ্ট্রের কৃষকেরা ক্রমবর্ধমান ঋণ ও আয় সংকটের মুখে পড়ায় বিকল্প আয়ের পথ খুঁজছেন। এসব পথের মধ্যে একটি হলো সোলার গ্রেজিং অর্থাৎ সোলার প্যানেল স্থাপন করা কৃষি জমিতে গবাদিপশু চরিয়ে ঘাস শেষ করা। কৃষি অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি মন্দার কারণে, চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং এই পরিস্থিতিতে আয়ের উৎস বৈচিত্র্যময় করার প্রবণতা বাড়ছে।
রেইনস গত বছর তুলা চাষ করলে, তাঁর আনুমানিক ২ লাখ ডলার ক্ষতি হতো। শুধু ভেড়ার মাংস বিক্রি করেও পর্যাপ্ত লাভ করা কঠিন হতো। কিন্তু সোলার গ্রেজিং থেকে আয় এবং রেস্তোরাঁ সরবরাহকারীদের কাছে ভেড়ার মাংস বিক্রির মাধ্যমে তিনি ৩ লাখ ডলার লাভ করেছেন।
রেইনস বলেন, ‘আমার সব খরচ, শ্রমিকদের বেতন থেকে শুরু করে রক্ষী কুকুরগুলোর জন্য মাসে ২ হাজার ডলার খরচ—সব সৌর প্রকল্প থেকেই আসে।’ তিনি জানান, তাঁর ছেলেও নতুন এই উদ্যোগে সাহায্য করছেন।
তবে মার্কিন সরকারি নীতিতে পরিবর্তনের কারণে এমন সুযোগ কমে যেতে পারে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক নির্বাহী আদেশে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি সম্পর্কিত তহবিল বরাদ্দ বন্ধ করে দিয়েছেন। এর ফলে, ইনফ্লেশন রিডাকশন অ্যাক্টের অধীনে সবুজ জ্বালানি প্রকল্পের জন্য দেওয়া প্রণোদনা প্রভাবিত হতে পারে।
ট্রাম্প প্রশাসন সরকারি অনুদান ও ঋণের পর্যালোচনার অংশ হিসেবে ইনফ্লেশন রিডাকশন অ্যাক্টের অর্থায়ন স্থগিত করেছে। যদিও আদালতের আদেশের ফলে কিছু তহবিল মুক্ত করা গেছে, কিন্তু অনেক গোষ্ঠীই এই তহবিল পেতে সমস্যা হচ্ছে বলে জানিয়েছে।
গত দুই বছরে বিশ্বব্যাপী অতিরিক্ত মজুত এবং কম চাহিদার কারণে মার্কিন তুলার দাম প্রায় ৪০ শতাংশ কমে গেছে। মার্কিন তুলা রপ্তানিও হ্রাস পেয়েছে, কারণ সস্তা ব্রাজিলের তুলা এবং দুর্বল চীনা চাহিদার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে দেশটির হিস্যা কমে গেছে। তুলার বাজারে মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান ভিএলএম কমোডিটিজের ম্যানেজিং পার্টনার লুই বারবেরা বলেন, ‘গত তিন বছর টেক্সাসের তুলা চাষিদের জন্য ভয়াবহ ছিল।’
কানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটির কৃষি অর্থনীতিবিদ জেনিফার ইফট জানান, যদিও এ বছর সামগ্রিকভাবে মার্কিন কৃষি আয় উন্নতি করবে বলে আশা করা হচ্ছে, তবে এটি মূলত উচ্চ পশুখাদ্য মূল্যের কারণে এবং ২০২৫ সালের আমেরিকান রিলিফ অ্যাক্টের অধীনে প্রত্যাশিত সরকারি সহায়তার ফলে হবে। তবে মুদ্রাস্ফীতির সমন্বয়ে হিসাব করলে, ভুট্টা ও সয়াবিন চাষিদের প্রকৃত আয় ২০১০ সালের পর সর্বনিম্ন থাকবে।
যেসব কৃষক ঋণের ওপর বেশি নির্ভরশীল, তারা ২০২৪ সালে ঋণ পরিশোধে ধীর গতি দেখিয়েছেন এবং অনেকেই টিকে থাকার জন্য সম্পদ বিক্রি করছেন—এমন তথ্য দিয়েছে কানসাস সিটি ও মিনিয়াপোলিসের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক। মিনিয়াপোলিস ফেডারেল রিজার্ভের সিনিয়র পরীক্ষক ও কৃষি ঝুঁকি বিশেষজ্ঞ টেইট বার্গ বলেন, ‘কৃষি মন্দার সময় আয় বৈচিত্র্যময় করার বিষয়টি খামারগুলোকে বাঁচিয়ে দিতে পারে।’
অনেক কৃষক ব্যয়বহুল বীজ ও যন্ত্রপাতি মেরামতের খরচ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। তাদের কাছে সোলার গ্রেজিং চুক্তি সহায়ক পথ। এই চুক্তিগুলো তাদের মুনাফার পথ দেখাচ্ছে।
আমেরিকান সোলার গ্রেজিং অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুসারে, গত বছরের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের সৌর খামারগুলোতে ১ লাখ ২৯ হাজার একর জমিতে ভেড়া চরানো হয়েছে। ২০২১ সালে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ১৫ হাজার একর। ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবরের মধ্যে সোলার গ্রেজিংয়ে ব্যবহৃত ভেড়ার সংখ্যা ৮০ হাজার থেকে বেড়ে ১ লাখ ১৩ হাজারে দাঁড়িয়েছে।

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের সৌর শিল্প বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং ২০২২ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রণীত একটি আইন সবুজ জ্বালানি প্রকল্পগুলোর জন্য ভর্তুকি দেওয়ার ফলে শিল্পটি আরও প্রসার লাভ করে। সৌর শক্তি শিল্পের শীর্ষ সংস্থা সোলার এনার্জি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ও সিইও আবিগেল রস হপার জানান, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদেও এই খাতের প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকার আশা করা হচ্ছে।
হোয়াইট হাউসের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আন্না কেলি রয়টার্সকে বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এমন প্রকল্পগুলো বাদ দেবেন যা আমেরিকান জনগণের স্বার্থে নয় এবং এমন প্রকল্প রেখে দেবেন যা আমেরিকা ফার্স্ট নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।’
ইন্ডিয়ানা ও ইলিনয় রাজ্যের মতো এলাকায় সৌর শিল্পের প্রসার তরুণ কৃষকদের আকৃষ্ট করেছে। কারণ, তারা বিশাল ঋণের বোঝা না নিয়েই কৃষিতে প্রবেশ করতে চান। ভার্জিনিয়ার মার্কাস ও জেস গ্রে তাদের চাষাবাদের পরিকল্পনা পিছিয়ে দিয়ে ডমিনিয়ন এনার্জি ও আরবান গ্রিডের সঙ্গে লাভজনক চুক্তি করেছেন। বর্তমানে তারা ৪ হাজার একর সৌর খামারে ৯০০টি ভেড়া চরাচ্ছেন।
৩৯ বছর বয়সী জেস গ্রে বলেন, ‘এটি একটি নিশ্চিত আয়ের উৎস, যেখানে আমরা নিজেরাই দরদাম করতে পারি। ফসল ঘরে তোলার পর স্থানীয় বাজারে নিয়ে গিয়ে তাদের নির্ধারিত দামে বিক্রি করার চেয়ে এটি অনেক ভালো।’
সৌর প্রকল্পে ঘাস ব্যবস্থাপনার জন্য ভেড়া ব্যবহার করলে ব্যয় সাশ্রয় হয়। টেনেসিভিত্তিক সৌর কোম্পানি সিলিকন র্যাঞ্চের সিইও রেগান ফার জানান, শুরুতে অবকাঠামোগত ব্যয় বেশি হলেও দীর্ঘ মেয়াদে এটি লাভজনক। তিনি বলেন, ‘যদি ভেড়ার পাল স্থানান্তর করতে না হয় বা বাইরে থেকে পানি সরবরাহ করতে না হয়, তাহলে এটি আরও লাভজনক হয়। একজন মালিকে প্রতিদিন ১০ ঘণ্টা ঘাস কাটানোর জন্য নিয়োগ দেওয়ার চেয়ে মেষপালকদের ন্যায্য মজুরি দেওয়াই আমাদের জন্য সহজ ও কম ব্যয়বহুল।’
সোলার গ্রেজিংয়ের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে সিলিকন র্যাঞ্চ জর্জিয়ায় একটি ভেড়া প্রজনন কর্মসূচি চালু করেছে, যা স্থানীয় কৃষকদের সহায়তা করবে।
রেইনস এবং তাঁর পরিবারের জন্য তুলা চাষ ছেড়ে সোলার গ্রেজিংয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়টি ছিল পুরোপুরি আর্থিক। রেইনস বলেন, ‘যদি আমি ফসল চাষ চালিয়ে যেতাম, তাহলে আমাদের পারিবারিক খামার এখন বন্ধ হয়ে যেত।’
তথ্যসূত্র: রয়টার্স

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিট প্রশ্নফাঁস বিতর্কের জেরে টানা ২৬ দিন অনাহারে থাকার পর অবশেষে অনশন ভাঙলেন প্রখ্যাত ভারতীয় পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। হরিয়ানার গুরুগ্রামের মেদান্ত হাসপাতালে কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রীদের উপস্থিতিতে এবং লিখিত আশ্বাসের পর তিনি তরল খাবার গ্রহণ করে অনশন ভঙ্গ করেন।
১৫ মিনিট আগে
অস্ট্রেলিয়ার বিমান পরিবহন সংস্থা কোয়ান্টাসের নতুন অতি-দীর্ঘ পাল্লার উড়োজাহাজ প্রথমবারের মতো টানা ১৯ ঘণ্টার একটি পরীক্ষামূলক ফ্লাইট শেষে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অবতরণ করেছে। স্থানীয় সময় আজ শুক্রবার ফ্লাইটটি ফ্রান্স থেকে অস্ট্রেলিয়ায় অবতরণ করে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জা
১ ঘণ্টা আগে
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতকে এক অভূতপূর্ব ও ভয়াবহ রূপ দেওয়ার দ্বারপ্রান্তে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ইরানে যেকোনো সময়ের চেয়ে বড় ও ব্যাপক পরিসরে ‘ভয়াবহ সামরিক হামলা’ চালানো হবে কিনা—সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার একদম শেষ পর্যায়ে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
২ ঘণ্টা আগে
চলতি বছরের শুরুর দিকে সুপ্রিম কোর্ট মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সবচেয়ে আক্রমণাত্মক শুল্কগুলো বাতিল করার পর, বিদেশি পণ্যের ওপর কর আরোপের বিকল্প পথ উন্মোচন করেছে তাঁর প্রশাসন। নতুন এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশসহ ডজন ডজন বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ পর্যন্ত নতুন শুল্ক আরোপ
২ ঘণ্টা আগে