
সম্প্রতি নিখোঁজ ও মৃত বিজ্ঞানীদের একটি তালিকা ঘিরে নতুন করে তদন্ত শুরু হওয়ায় আবারও আলোচনায় এসেছে ইউএফও (অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তু) গবেষকদের রহস্যময় মৃত্যুর বিষয়টি। যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল তদন্তকারীরা অন্তত ২০২২ সালের পর থেকে ইউএফও-সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানী, পারমাণবিক বিশেষজ্ঞ ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের অন্তত ১১টি মৃত্যু বা নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা খতিয়ে দেখছেন। এই তদন্তে নেতৃত্ব দিচ্ছে এফবিআই। সংস্থাটির পরিচালক কাশ প্যাটেল জানিয়েছেন, এসব ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে কি না তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
তবে ইউএফও গবেষক টিমোথি হুড-এর মতো অনেকেই দাবি করছেন, এই রহস্য আরও পুরোনো। এর শেকড় লুকিয়ে আছে ১৯৪০-এর দশকের শেষ দিকে, যখন ইউএফও নিয়ে আগ্রহের সূচনা হয়। তাঁদের মতে, সেই সময় থেকেই একের পর এক অস্বাভাবিক মৃত্যু, আত্মহত্যা ও দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে, যেগুলোর পেছনে অন্য কোনো ব্যাখ্যা থাকতে পারে।
এই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন লেখক নাইজেল ওয়াটসন। তিনি তাঁর গবেষণায় দেখিয়েছেন, অনেক ঘটনা ঘটেছে ঠিক তখনই, যখন সামরিক বা বেসামরিক ব্যক্তিরা ইউএফও দেখার দাবি তদন্ত করছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র সরকার বরাবরই বলেছে, ইউএফও বা ভিনগ্রহের প্রাণের কোনো প্রমাণ নেই—এগুলোকে তারা আবহাওয়ার বেলুন বা পাখির মতো সাধারণ ঘটনার ভুল ব্যাখ্যা হিসেবে দেখেছে।
সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ঘটেছিল ১৯৪৭ সালে। সে সময় ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের পিউজেট সাউন্ডে নৌকায় থাকা হ্যারল্ড এ ডাল দাবি করেন, তিনি ও তাঁর সঙ্গীরা আকাশে ছয়টি ডোনাট আকৃতির উড়ন্ত বস্তু দেখেছেন। এর একটি থেকে ধাতব টুকরো ও কালো পদার্থ ঝরে পড়ে, যা একজন কিশোরকে আহত করে এবং তাঁদের কুকুরটি মারা যায়।
পরে এই ঘটনার তদন্তে পাঠানো হয় মার্কিন বিমানবাহিনীর দুই কর্মকর্তা—উইলিয়াম ডেভিডসন ও ফ্র্যাঙ্ক এম ব্রাউনকে। তাঁরা কোনো প্রমাণ না পেলেও ফেরার পথে তাঁদের বি-২৫ বিমানটি বিধ্বস্ত হয় এবং তাঁরা নিহত হন। রহস্য আরও ঘনীভূত হয় যখন দুর্ঘটনার আগেই এক অজ্ঞাত ব্যক্তি স্থানীয় পত্রিকায় ফোন করে মৃত্যুর খবর জানিয়ে দেয়।
একই সময় আরেক গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যক্ষদর্শী কেনেথ আরনল্ডের বিমানও উড্ডয়নের পরপরই বিকল হয়ে পড়ে, যদিও তিনি প্রাণে বেঁচে যান। এই ঘটনাগুলোকে কেউ কেউ দুর্ঘটনা বলে মনে করলেও ষড়যন্ত্র তত্ত্বে বিশ্বাসীরা দাবি করেন, এগুলো পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হতে পারে।
পরবর্তী দশকগুলোতেও এমন অদ্ভুত ঘটনার ধারাবাহিকতা দেখা যায়। ১৯৭১ সালে গবেষক অটো বিন্ডার দাবি করেন, ১৯৬০-এর দশকেই অন্তত ১৩৭ জন ইউএফও গবেষক রহস্যজনকভাবে মারা গেছেন। ১৯৯৬ সালে ফিলিপ স্নাইডারের মৃত্যু নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। সরকারিভাবে তাঁর মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলা হলেও তাঁর পরিবার ও বন্ধুরা তা মানতে রাজি নন।
এ ছাড়া ২০১৬ সালে পোল্যান্ডে ইউএফও গবেষক ম্যাক্স স্পিয়ার্সের মৃত্যু নিয়েও ব্যাপক আলোচনা হয়। তিনি মৃত্যুর আগে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, তাঁকে হত্যা করা হতে পারে। তবে তদন্তে জানা যায়, শক্তিশালী ওষুধের অতিরিক্ত সেবনই তাঁর মৃত্যুর কারণ।
বিশেষজ্ঞরাও সতর্ক করছেন, সব ঘটনাকে রহস্যময় ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখার আগে যুক্তিসংগত ব্যাখ্যাও বিবেচনা করা প্রয়োজন। অনেক ক্ষেত্রে দুর্ঘটনা, মানসিক চাপ বা প্রাকৃতিক কারণই মৃত্যুর পেছনে দায়ী হতে পারে।
তারপরও প্রশ্ন থেকে যায়—এতগুলো অস্বাভাবিক মৃত্যু কি নিছক কাকতালীয়? নাকি সত্যিই ইউএফও গবেষণার আড়ালে লুকিয়ে আছে আরও গভীর কোনো রহস্য? এই প্রশ্নই এখন নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

শ্রমিক অধিকার রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন চীনের একটি আদালত। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে কর্মী ছাঁটাই করার অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয় বলে আদালতের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
৩ ঘণ্টা আগে
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় ইউরোপ থেকে ওই অঞ্চলের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিমান চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং অ্যাপ ‘ফ্লাইটরাডার ২৪ ’-এর তথ্য বিশ্লেষণ করে এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধি শনাক্ত করা হয়েছে।
৩ ঘণ্টা আগে
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধ অবসানে নতুন প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য কেবল যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করা নয়, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে সব সমস্যার সমাধান করে যুদ্ধের ইতি টানা।
৪ ঘণ্টা আগে
বিশ্বখ্যাত পপ গায়িকা শাকিরার এক নজিরবিহীন কনসার্টে ব্রাজিলের কোপাকাবানা সৈকত পরিণত হলো বিশাল এক নৃত্যমঞ্চে। শনিবার রাতে রিও ডি জেনেইরোর এই বিখ্যাত সমুদ্রসৈকতে অনুষ্ঠিত বিনামূল্যের কনসার্ট দেখতে প্রায় ২০ লাখ মানুষ জড়ো হন বলে জানিয়েছেন শহরের মেয়র এডুয়ার্ডো ক্যাভালিয়ারে।
৫ ঘণ্টা আগে