Ajker Patrika

পাকিস্তানে পর্বতারোহণে গিয়ে নিখোঁজ কে এই নির্মল পুরজা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
পাকিস্তানে পর্বতারোহণে গিয়ে নিখোঁজ কে এই নির্মল পুরজা
বিশ্বখ্যাত পর্বতারোহী নির্মল পুরজা। ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের কারাকোরাম পর্বতমালার ৮ হাজার ৪৭ মিটার উঁচু ব্রড পিকে তুষারধসে নিখোঁজ ১০ পর্বতারোহীর মধ্যে রয়েছেন নেপালে জন্ম নেওয়া বিশ্বখ্যাত পর্বতারোহী নির্মল পুরজা। তিনি ‘নিমস দাই’ নামে পরিচিত। বহুজাতিক অভিযাত্রী দলটির নেতৃত্ব তিনিই দিচ্ছিলেন। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) তুষারধসের পর থেকে দলটির সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নির্মল পুরজা বিশ্বজুড়ে খ্যাতি অর্জন করেন ২০১৯ সালে। মাত্র ছয় মাসের কিছু বেশি সময়ে বিশ্বের ৮ হাজার মিটারের বেশি উচ্চতার ১৪টি পর্বত জয় করে তিনি পর্বতারোহণের ইতিহাসে এক অসাধারণ রেকর্ড গড়েন। ‘প্রজেক্ট পসিবল’ নামে পরিচিত এই অভিযানে তিনি আগের প্রায় ৮ বছরের রেকর্ড ভেঙে দেন। পরে তাঁর এই দুঃসাহসিক যাত্রা নিয়ে নেটফ্লিক্সে নির্মিত হয় তথ্যচিত্র ‘১৪ পিকস: নাথিং ইজ ইমপসিবল’। ২০২৩ সালে অবশ্য তাঁর সেই রেকর্ড ভেঙে যায়।

পর্বতারোহী হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার আগে পুরজা ১৬ বছর ব্রিটিশ সামরিক বাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৩ সালে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার পর তিনি দেশটির বিশেষ বাহিনীর অন্যতম ইউনিট স্পেশাল বোট সার্ভিসে কাজ করেন। তাঁর পরিবারেও রয়েছে সামরিক ঐতিহ্য—তাঁর বাবা ও ভাইয়েরা ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন এবং তাঁরা গুর্খা সম্প্রদায়ের সদস্য।

পর্বতারোহণে অসাধারণ সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৮ সালে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ তাঁকে এমবিই সম্মানে ভূষিত করেন। ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পাওয়া পুরজা যুক্তরাজ্যের স্থানীয় পর্যায়েও সম্মানিত হয়েছেন। দক্ষিণ ইংল্যান্ডের ইস্টলেই বরো কাউন্সিল তাঁকে তাদের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান ‘হনারারি ফ্রিডম অব দ্য বরো’ প্রদান করে।

২০১৯ সালে এভারেস্ট অভিযানের সময় পুরজার তোলা একটি ছবি আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক আলোচিত হয়। ছবিতে এভারেস্টের চূড়ায় ওঠার জন্য দীর্ঘ সারিতে অপেক্ষমাণ পর্বতারোহীদের দেখা যায়। ছবিটি বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতে অতিরিক্ত ভিড় ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক বিতর্ক সৃষ্টি করে।

‘ব্রড পিক’ অভিযানে পুরজাসহ ছয় নেপালি, একজন ওমানি, একজন পাকিস্তানি, একজন চীনা ও একজন মার্কিন পর্বতারোহী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন পুর বাহাদুর গুরুং, কিলি পেম্বা শেরপা, নিমা শেরপা, নাওয়াং থিন্দু শেরপা, গ্যালু শেরপা, ওমানের নাদিরা আহমেদ আবদুল্লাহ আল হারথি, পাকিস্তানের সোহাইল সাখি, চীনের ওয়াং ঝং এবং যুক্তরাষ্ট্রের ম্যালরি গেইস।

গিলগিট-বালতিস্তান পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তুষারধসের পর চারটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে তাঁদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। পুরজার ব্যবসায়িক অংশীদার মিংমা গায়াবু শেরপার বরাত দিয়ে নেপালের সংবাদমাধ্যম ‘কান্তিপুর’ জানিয়েছে, পুরজার জিপিএস ট্র্যাকার থেকে তুষারধসের পরও কিছু নড়াচড়ার সংকেত পাওয়া গেছে। প্রথমে সেটি দেখায়, তাঁকে তুষারধস নিচের দিকে টেনে নিয়ে গেছে; পরে ট্র্যাকারের অবস্থান আবার পরিবর্তিত হয়। এতে কিছুটা আশার আলো দেখা গেলেও, ওই সংকেত পুরজার নাকি শুধু তাঁর ট্র্যাকিং ডিভাইসের—তা নিশ্চিত নয়।

উদ্ধারকাজে আবহাওয়া ও পরিস্থিতি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আলপাইন ক্লাব অব পাকিস্তান জানিয়েছে, হেলিকপ্টারসহ সম্ভাব্য সব উদ্ধার-সহায়তা দ্রুত কাজে লাগানোর চেষ্টা চলছে।

পর্বতারোহী লাকপা শেরপা পুরজাকে ‘প্রিয় বন্ধু ও ভাই’ উল্লেখ করে বলেছেন, ব্রড পিকের খবরটি হৃদয়বিদারক। নির্মল পুরজা নেপালের পর্বতারোহণকে বিশ্বমঞ্চে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত