
সিরিয়ায় নিখোঁজ মার্কিন সাংবাদিক অস্টিন টাইসকে অপহরণ ছিল পূর্বপরিকল্পিত। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে পরিকল্পনা করে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের অনুগত বাহিনী তাঁকে অপহরণ করেছিল বলে বিবিসির দীর্ঘ অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
২০১২ সালের আগস্টে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের খবর সংগ্রহের সময় নিখোঁজ হন টাইস। সাবেক মার্কিন মেরিন কর্মকর্তা ও জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির আইন শিক্ষার্থী টাইস সে সময় ওয়াশিংটন পোস্টের জন্য সিরিয়ার বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকায় প্রতিবেদন করছিলেন। নিখোঁজ হওয়ার এক মাসেরও বেশি সময় পর প্রকাশিত একটি ভিডিওতে তাঁকে চোখ বাঁধা অবস্থায় দেখা যায়।
এতদিন ধারণা করা হতো, কোনো সরকারি চেকপোস্টে আকস্মিকভাবে টাইসকে আটক করা হয়েছিল। তবে বিবিসির নতুন অনুসন্ধানে পাওয়া গোপন সিরীয় গোয়েন্দা নথি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যে জানা গেছে, ঘটনাটি ছিল পরিকল্পিত।
আসাদ সরকারের অনুগত ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোর্সেসের (এনডিএফ) সাবেক সদস্য আবু আলী দাবি করেছেন, টাইসের গাড়িচালক দীর্ঘদিন ধরে সরকারকে তথ্য দিচ্ছিলেন। তিনি টাইসের গতিবিধি সম্পর্কে এনডিএফকে জানান। বিষয়টি এনডিএফের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মাধ্যমে আসাদের ঘনিষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা বাসাম আল-হাসানের কাছে পৌঁছায়। আবু আলীর দাবি, হাসান আসাদের সঙ্গে ফোনে কথা বলার পর প্রেসিডেন্ট নির্দেশ দেন, ‘তাকে আমাদের কাছে নিয়ে আসুন।’
তবে টাইসকে সঙ্গে সঙ্গে অপহরণ করা হয়নি। তাঁর গাড়িচালককে আরও কিছুদিন তাঁকে নজরদারিতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। একপর্যায়ে চালক টাইসের ব্যাগটি গোপনে সরিয়ে নেন। এতে ছিল ম্যাকবুক, স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটারসহ ব্যক্তিগত সামগ্রী। এগুলো সরকারপক্ষের লোকজন পরীক্ষা করে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
টাইস সাবেক মেরিন হওয়ায় বিদ্রোহীদের সামরিক কৌশল ও অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে কখনো কখনো পরামর্শ দিতেন। এ কারণে তাঁকে সিআইএর সঙ্গে যুক্ত বলে সন্দেহ করেছিল কিছু সরকারি কর্মকর্তা। তবে বিবিসি এই ধরনের দাবির কোনো প্রমাণ পায়নি। টাইস গোয়েন্দা কর্মকর্তা ছিলেন না বলে তাঁর মামলার সঙ্গে যুক্ত সাবেক এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তাও জানিয়েছেন।
২০১২ সালের ১১ আগস্ট ৩১তম জন্মদিন উদ্যাপন করেন টাইস। এরপর সিরিয়া ছাড়ার প্রস্তুতি নেন এবং লেবাননে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর চালক তাঁকে দামেস্কের উপকণ্ঠের তাহৌনেহ এলাকায় একটি সরকারি স্থাপনায় নিয়ে যান। সেখানে চালক অস্ত্র বের করলে প্রথমে টাইস বিষয়টিকে রসিকতা মনে করেছিলেন। পরে পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তিনি অর্থের বিনিময়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন বলে আবু আলী দাবি করেন। এরপর এনডিএফ সদস্যরা তাঁকে ধরে চোখ বেঁধে নিয়ে যায়।
বিবিসি ২০ জনেরও বেশি মানুষের সঙ্গে কথা বলে টাইসের চালকের পরিচয় শনাক্ত করেছে। তাঁর নাম হামিদ আবু ওবেইদ। চালকের পরিবার জানিয়েছে, টাইসকে হস্তান্তরের বিনিময়ে তাঁকে সিরীয় নাগরিকত্ব, পাসপোর্ট, একটি বাড়ি ও অস্ত্র দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। তবে অপহরণের পর তিনি শুধু একটি পিস্তল পেয়েছিলেন বলে পরিবারের দাবি।
আসাদ সরকারের পতনের পর আবু ওবেইদও নিখোঁজ হন। তাঁর পরিবার জানে না তিনি কোথায় আছেন। টাইসের ভাগ্যে কী ঘটেছিল, তারও এখনো নিশ্চিত উত্তর মেলেনি। সাবেক এক সিরীয় কমান্ডার দাবি করেছেন, টাইসকে হত্যা করা হয়েছিল। তবে এই দাবির স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং তাঁর মরদেহও উদ্ধার হয়নি।
এক যুগেরও বেশি সময় ধরে অস্টিন টাইসের পরিবার তাঁর জন্য অপেক্ষা করছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভুল মানুষের হাতে চলে গেলে তা মানবজাতির জন্য ‘অস্তিত্বের ঝুঁকি’ তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস। এআই প্রযুক্তি যাতে মানবতা, সমাজ ও প্রকৃতির কল্যাণে ব্যবহৃত হয়, তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তি খাতের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
১ ঘণ্টা আগে
এইচআইভি সংক্রমণের নতুন রোগী শনাক্তের হার এক বছরে ২৭ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র ফিজিতে জাতীয় সংকট ঘোষণা করা হয়েছে। দেশটিতে বর্তমানে প্রতি ৬০ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে একজন এইচআইভি নিয়ে বসবাস করছেন বলে জানিয়েছে সরকার।
২ ঘণ্টা আগে
ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে একটি গুরুত্বপূর্ণ নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক বিল পাস হয়েছে। এর ফলে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল ও গ্যাস আমদানি করা দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের পথ খুলে গেছে।
২ ঘণ্টা আগে
ইরানে একটি স্কুল ও ক্রীড়া স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের চালানো দুটি হামলা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার মতো যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের একটি অনুসন্ধান মিশন। একই সঙ্গে দেশটিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে ইরানি কর্তৃপক্ষ মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে বলেও জানিয়েছে মিশনটি।
৪ ঘণ্টা আগে