
ইরান উপকূলীয় পাঁচটি স্থানে নতুন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে। মূলত দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থায় পারমাণবিক শক্তির অংশ বাড়ানোর বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নিয়েছে দেশটি। এমনটি জানিয়েছেন ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান ও দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ ইসলামি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার বরাতে গতকাল সোমবার আনাদোলু এজেন্সি জানায়, মোহাম্মদ ইসলামি দেশটির পার্লামেন্টের জ্বালানি ও নির্মাণ কমিশনের সদস্যদের সঙ্গে এক বৈঠকে এসব পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।
মোহাম্মদ ইসলামি জানান, ২০২২ সালে প্রকাশিত ইরানের পারমাণবিক শিল্পবিষয়ক বিস্তৃত কৌশলগত নথির ভিত্তিতেই এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, ‘এই নথির ভিত্তিতে দেশের জ্বালানি মিশ্রণে পারমাণবিক বিদ্যুতের অংশ বাড়াতে উপকূলীয় পাঁচটি স্থানে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং প্রকল্পগুলো নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোচ্ছে।’
মোহাম্মদ ইসলামি বলেন, বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এরই মধ্যে ৮০ বিলিয়ন কিলোওয়াট-ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, এই উৎপাদন ইরানকে ১৩১ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল অথবা ২১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ঘনমিটার প্রাকৃতিক গ্যাসের সমপরিমাণ জ্বালানি সাশ্রয় করতে সহায়তা করেছে।
১৯৭৫ সালে জার্মান কয়েকটি কোম্পানি এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ শুরু করে। তবে ১৯৭৯ সালে ইরানের ইসলামি বিপ্লবের পর প্রকল্পটির কাজ বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে ইরান-ইরাক যুদ্ধ চলাকালে এই স্থাপনা বারবার বোমাবর্ষণের শিকার হয়, যা প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত করে তোলে।
এর বহু বছর পর ১৯৯৫ সালে ইরান এবং রাশিয়ার পারমাণবিক শক্তি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সম্পূর্ণ করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির আওতায় রাশিয়ার অ্যাটমস্ট্রোএক্সপার্টকে প্রধান ঠিকাদার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে প্রযুক্তিগত ও আর্থিক জটিলতা, পাশাপাশি পশ্চিমা দেশগুলোর রাজনৈতিক চাপের কারণে প্রকল্পটি দীর্ঘ সময় ধরে একাধিকবার বিলম্বিত হয়। ২০০৭ সালে নির্মাণকাজ আবারও বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়লে একটি নতুন পুনর্নবীকরণ চুক্তি হয়, যেখানে ইরান ভবিষ্যতে নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ার পর ক্রমবর্ধমান খরচ ও মুদ্রাস্ফীতির ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।
এরপর ২০০৭ সালেই কেন্দ্রটিতে পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ শুরু হয়। পরে ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয় এবং একই মাসে এটি জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে বিদ্যুৎ-সরবরাহ শুরু করে।
মোহাম্মদ ইসলামি বলেন, বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ইউনিট বর্তমানে নির্মাণাধীন রয়েছে। প্রায় ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের এই প্রকল্পকে তিনি দেশের অন্যতম বৃহৎ অবকাঠামো উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন। ইরানের একমাত্র চালু পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বুশেহর দক্ষিণ উপসাগরীয় উপকূলে অবস্থিত এবং এটি জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহ দিয়ে আসছে।
অন্যদিকে অঞ্চলে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী বিমান হামলার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ইরানি গণমাধ্যমের বরাতে বলা হয়েছে, ওই সংঘাত চলাকালে বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্র একাধিকবার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হলেও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এতে কেন্দ্রের কার্যক্রম বা বিদ্যুৎ উৎপাদনে কোনো ধরনের ব্যাঘাত ঘটেনি।
সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়, যখন ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও লেবাননের রাজধানী বৈরুতে বিমান হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান উত্তর ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে এবং ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন স্থানে একাধিক দফা বিমান হামলা চালায়।
এরপর ইরানের সামরিক বাহিনী সোমবার ভোরে জানায়, তারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত করছে। তবে একই সঙ্গে সতর্ক করে বলা হয়, লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকলে ‘চূর্ণবিচূর্ণ’ করার ভয়াবহতা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।
অন্যদিকে ইসরায়েলি গণমাধ্যমগুলো অজ্ঞাত কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, ইসরায়েল ইরানের ওপর বিমান হামলা বন্ধে সম্মত হয়েছে। তবে একই সঙ্গে তারা দক্ষিণ লেবাননে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখবে।

পারমাণবিক অস্ত্রনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে হাঁটছে ভারত। এমনটি জানিয়েছে সমরাস্ত্র নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (সিপ্রি)। প্রতিষ্ঠানটির সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত এই প্রথমবারের মতো ১২টি পারমাণবিক ওয়ারহেড ‘মোতায়েন’ করেছে।
২ ঘণ্টা আগে
ভারতে প্রথমবারের মতো প্রজনন হার জনসংখ্যা স্থিতিশীল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রার নিচে নেমে গেছে। এতে ভবিষ্যতে দেশটির শ্রমশক্তি সংকুচিত হওয়া, প্রবীণ জনগোষ্ঠীর দ্রুত বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তন নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
৪ ঘণ্টা আগে
ইরানের সঙ্গে চুক্তি আসন্ন বলে অন্তত ৩৭ বার দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধবিরতির পর দুই মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো সমঝোতা হয়নি। মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত ট্রাম্পের ধারাবাহিক বক্তব্য ও দাবিগুলোর বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
৫ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের সম্ভাব্য কোনো চুক্তি হলে তা মেনে নেওয়া ছাড়া ইসরায়েলের সামনে ‘আর কোনো বিকল্প থাকবে না’। গত রোববার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক ফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এই অবস্থান ব্যক্ত করেন।
৮ ঘণ্টা আগে