
ফিলিস্তিনি যুদ্ধবিধ্বস্ত ভূখণ্ড গাজায় ইসরায়েলি যুদ্ধ বন্ধ ও জিম্মি–বন্দী বিনিময়ের বিষয়ে আজ মিসরে আলোচনায় বসবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো। সেই আলোচনা শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চাপ বাড়িয়েছেন। তিনি আলোচনায় অংশ নেওয়া পক্ষগুলোকে দ্রুত এগোতে আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, গাজায় যুদ্ধ বন্ধ আর জিম্মিদের মুক্তি নিশ্চিত করতে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে।
ট্রাম্প নিজ মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘সময় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। না হলে রক্তের বন্যা বয়ে যাবে—যা কেউ দেখতে চায় না।’
শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে মিসরের অবকাশ যাপনকেন্দ্র শারম আল-শেখে। পরোক্ষ এই আলোচনায় ইসরায়েলের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন কৌশলগত বিষয়ক মন্ত্রী রন ডারমার। হামাসের নির্বাসিত গাজা প্রধান খলিল আল-হাইয়াও আলোচনায় রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের দূত স্টিভ উইটকফও অংশ নেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আজ মঙ্গলবার গাজায় ইসরায়েলি হামলার দুই বছর পূর্ণ হওয়ার ঠিক আগের দিন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, খুব শিগগিরই গাজায় আটক জিম্মিদের মুক্তির ঘোষণা দিতে পারবেন বলে তিনি আশা করছেন। গত শুক্রবার হামাসও জানিয়েছে, তারা জীবিত ও মৃত সব জিম্মিকে ফেরত দেবে।
এনবিসি টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, যুদ্ধ শেষে গাজায় কী হবে—সে বিষয়ে নীতিগতভাবে হামাসও সম্মত হয়েছে। তবে দ্বিতীয় ধাপ, যেখানে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ ও বাহিনী ভেঙে দেওয়ার কথা আছে, সেটি সহজ হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেছেন। হামাস এর আগে এ ধরনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।
রুবিও আরও বলেন, ‘খুব দ্রুতই বোঝা যাবে হামাস সিরিয়াস কি না। কারণ এসব টেকনিক্যাল আলোচনায় লজিস্টিক নিয়ে কী হয়, সেটিই বড় পরীক্ষার জায়গা।’
রোববার ট্রাম্প লিখেছিলেন, হামাসের সঙ্গে ‘খুব ইতিবাচক আলোচনা’ হয়েছে। আলোচনার উদ্দেশ্য জিম্মি মুক্তি, গাজায় যুদ্ধের সমাপ্তি, আর সবচেয়ে বড় কথা—মধ্যপ্রাচ্যে বহুদিনের কাঙ্ক্ষিত শান্তি প্রতিষ্ঠা। ট্রাম্প আবারও বলেছেন, এখন দ্রুত অগ্রগতি দরকার। তাঁর ভাষায়, ‘আমাকে বলা হয়েছে, প্রথম ধাপ এই সপ্তাহেই শেষ হবে। তাই আমি সবাইকে অনুরোধ করছি, দ্রুত এগোন।’
এই প্রথম ধাপে ফিলিস্তিনি বন্দীদের মুক্তি দেওয়া হবে। বিনিময়ে হামাস বাকি ৪৮ জন জিম্মিকে ছাড়বে। ইসরায়েলের ধারণা, তাঁদের মধ্যে প্রায় ২০ জন জীবিত আছেন।
রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আলোচনার ঘনিষ্ঠ এক ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্র যে প্রত্যাহার মানচিত্র দিয়েছে, হামাস সেটিতে রাজি হয় কি না, তার ওপরই অগ্রগতি নির্ভর করছে। ট্রাম্প নিজেই একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছেন। তাতে তিনি দাবি করেছেন, ইসরায়েল ইতিমধ্যে এতে সম্মতি দিয়েছে। মানচিত্র অনুযায়ী ইসরায়েলের সেনারা ধাপে ধাপে গাজা থেকে সরে আসবে।
বর্তমানে ইসরায়েলি সেনারা গাজার প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকায় অবস্থান করছে। এটি তারা ‘বিপজ্জনক যুদ্ধক্ষেত্র’ বলছে। মানচিত্র অনুযায়ী প্রথম ধাপে সরে এলে গাজার প্রায় ৫৫ শতাংশ এলাকা দখল থাকবে। দ্বিতীয় ধাপে তা দাঁড়াবে ৪০ শতাংশে। আর শেষ ধাপে একটি ‘নিরাপত্তা বাফার জোন’ রেখে প্রায় ১৫ শতাংশ এলাকা ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
রুবিওর মতে, বিশেষ করে এ অংশই আলোচনার জন্য কঠিন হয়ে উঠবে। কারণ এখানে গাজা পরিচালনায় একটি আন্তর্জাতিক দল রাখার প্রস্তাবও রয়েছে, যা সহজে মেনে নেওয়া হবে না।
সূত্র: স্কাই নিউজ

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে আগামী ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে অনুষ্ঠিতব্য জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকে বসতে সম্মতি প্রকাশ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তবে ক্রেমলিন এই প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে.
৩ ঘণ্টা আগে
জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগে ও পরে ইরানকে উপগ্রহ চিত্র (স্যাটেলাইট ইমেজ) সরবরাহ করেছিল চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে...
৪ ঘণ্টা আগে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা ওয়াশিংটনের সঙ্গে সংঘাতে যেতে চায় না এবং তারা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বার্তা পাঠিয়ে এই যুদ্ধে না জড়ানোর অনুরোধ করেছে। একই সময়ে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে তাঁর টেলিফোনে কথা হয়েছে বলেও জানান ট্রাম্প...
৫ ঘণ্টা আগে
আসন্ন নভেম্বর মাসের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই ইরান যুদ্ধ শেষ হবে। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত কমে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ দাবি করেন...
৮ ঘণ্টা আগে