Ajker Patrika

নতুন হুমকিতে গাজার ‘ঘুড়ি ওড়ানো শৈশব’ কেড়ে নিল ইসরায়েল

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১৭: ১৩
নতুন হুমকিতে গাজার ‘ঘুড়ি ওড়ানো শৈশব’ কেড়ে নিল ইসরায়েল
ছবি: ইউসেফ বাসাম

গাজার শিশুদের কাছে একসময় ঘুড়ি ওড়ানো ছিল শৈশবের স্বাভাবিক আনন্দের অংশ, কিন্তু এখন একটি ঘুড়ি সীমান্ত পেরিয়ে ইসরায়েলের দিকে উড়ে গেলেও সেটি নতুন করে হামলার অজুহাত হয়ে উঠতে পারে—এমন আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন গাজার বাসিন্দারা। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ ঘোষণা করেছেন, গাজা থেকে ওড়ানো ঘুড়ি ও বেলুনকে এখন থেকে ড্রোনের মতোই বিবেচনা করা হবে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ন্যাশনাল জানিয়েছে, সম্প্রতি গাজা থেকে উড়ে আসা অন্তত চারটি ঘুড়ি সীমান্তসংলগ্ন ইসরায়েলি কিবুতজ নাহাল ওজে গিয়ে পড়ে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ঘুড়িগুলো পরীক্ষা করে কোনো সন্দেহজনক বস্তু বা বিস্ফোরক পায়নি এবং এগুলোকে বিপজ্জনক বলেও মনে করেনি। তবু এই ঘটনায় কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাটজ জানান, সেনাবাহিনীকে গাজা থেকে ঘুড়ি ও বেলুন ওড়ানোর ক্ষেত্রে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ার করেন, এই ধরনের ঘটনা চলতে থাকলে তা বন্ধ করতে ‘শক্তিশালী পদক্ষেপ’ নেওয়া হবে। কাটজ বলেন, বিস্ফোরক থাকুক বা না থাকুক, একটি বেলুন বা ঘুড়িকে ড্রোনের মতোই বিবেচনা করা হবে।

এই হুঁশিয়ারিতে গাজার সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। উত্তর গাজার বাসিন্দা ৫৫ বছর বয়সী মারওয়ান আল-হারাজিন বাস্তুচ্যুত হয়ে মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকায় আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি বলেন, তাঁবুর আশপাশে শিশুরা প্রায়ই ঘুড়ি ওড়ায়। কিন্তু ইসরায়েলের হুমকির পর অভিভাবকদের এখন সন্তানদের ঘুড়ি ওড়ানো থেকে বিরত রাখতে হবে।

হারাজিন বলেন, ইসরায়েলের যেকোনো হুমকিকেই গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। কারণ, হামলার জন্য তাদের সামান্য অজুহাতই যথেষ্ট।

তবে ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক বিশ্লেষক মুখাইমার আবুসাদা বলেন, বর্তমানের ঘুড়ি ওড়ানোর সঙ্গে ২০১৮ থেকে ২০২১ সালের পরিস্থিতিকে এক করে দেখা ঠিক হবে না। সে সময় ‘গ্রেট মার্চ অব রিটার্ন’ আন্দোলনের সময় গাজা থেকে আগুন লাগানোর উপকরণযুক্ত ঘুড়ি ও বেলুন ইসরায়েলের দিকে পাঠানো হয়েছিল, যা বিভিন্ন এলাকায় দাবানলের সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু এখন শিশুদের হাতে থাকা ঘুড়িগুলো সাধারণ খেলনা বলেই তিনি উল্লেখ করেন।

আবুসাদার আশঙ্কা, ইসরায়েল পুরোনো ঘটনার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির যোগসূত্র টেনে গাজায় আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপের যৌক্তিকতা তৈরি করতে পারে। তাঁর মতে, ফিলিস্তিনিদেরও বিষয়টির সম্ভাব্য পরিণতি বিবেচনা করে সতর্ক থাকা উচিত।

আবুসাদা বলেন, গাজার মানুষ এমনিতেই চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে। একটি শিশুর ঘুড়ি ওড়ানোকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা বা সংঘাত সৃষ্টি হলে তা সহ্য করার মতো অবস্থায় তারা নেই।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত