Ajker Patrika

ঐতিহাসিক অগ্রগতি: অস্ত্র সমর্পণে হামাসের সম্মতি, গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারে রাজি ইসরায়েল

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২৬, ০৯: ৪৬
ঐতিহাসিক অগ্রগতি: অস্ত্র সমর্পণে হামাসের সম্মতি, গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারে রাজি ইসরায়েল
গত ১০ অক্টোবর দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস এলাকায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত ভবনগুলোর পাশে শিশু কোলে এক নারী অন্যান্য ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে হেঁটে যাচ্ছেন। ছবি: এএফপি

গাজার যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি পরিচালনার জন্য গঠিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বোর্ড অব পিস বা শান্তি পরিষদ জানিয়েছে, হামাস আনুষ্ঠানিকভাবে এক বিস্তারিত রোডম্যাপে সম্মতি দিয়েছে। এই রোডম্যাপের মাধ্যমে গাজায় চলমান যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ধাপগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। এই রোডম্যাপ অনুসারে, হামাস অস্ত্র পরিত্যাগে রাজি হয়েছে এবং এরপর ইসরায়েল গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নেবে।

বোর্ড অব পিস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছে, প্রথমবারের মতো হামাস আনুষ্ঠানিকভাবে এমন একটি বাস্তবায়নযোগ্য পরিকল্পনায় সম্মতি দিয়েছে, যার আওতায় তারা তাদের সব অস্ত্র পরিত্যাগ করবে। এরপর গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করা হবে।

বোর্ড অব পিস আরও জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘কমপ্রিহেনসিভ পিস প্ল্যান’ এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ২৮০৩ নম্বর প্রস্তাবে গাজার নতুন শাসনব্যবস্থা, নিরাপত্তা, মানবিক সহায়তা, পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের যে কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে, তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কয়েক মাস ধরে চলা নিবিড় ও আন্তরিক আলোচনার পর এই চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে।

গাজা বোর্ড অব পিস জানিয়েছে, হামাস এবং মধ্যস্থতাকারী দেশ মিসর, কাতার, তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্র গাজা যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ধাপগুলো বাস্তবায়নের জন্য একটি বিস্তারিত রোডম্যাপ চূড়ান্ত করেছে। হামাসের অস্ত্র সমর্পণে সম্মত হওয়াকে বোর্ড অব পিস একটি ‘ঐতিহাসিক অগ্রগতি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

চুক্তি অনুযায়ী, হামাস নিরস্ত্র হওয়ার পর গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করা হবে। এরপর গাজার শাসনভার গাজা প্রশাসনের জন্য জাতীয় কমিটি বা ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজার (এনসিএজি) হাতে তুলে দেওয়া হবে। চুক্তির আওতায় গাজার ভারী অস্ত্র, সুড়ঙ্গ এবং সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনের স্থাপনাগুলো ভেঙে ফেলা হবে এবং সেগুলো সংরক্ষণ করা হবে। এ পুরো প্রক্রিয়া NCAG এবং একটি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে।

নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ার সময় কোনো অস্ত্র ইসরায়েল কিংবা অন্য কোনো ফিলিস্তিনি পক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে না। চুক্তিতে এনসিএজির স্বাধীনতার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কমিটিটি গাজার সরকারি প্রতিষ্ঠান ও জনসেবা পরিচালনা করবে এবং গাজার আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের হিসাব নিরীক্ষা করবে। কোনো গোষ্ঠী বা পক্ষ এনসিএজির কাজে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না।

এ ছাড়া আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী বা ‘ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স’ এনসিএজিকে আইনের শাসন কার্যকর করতে, নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে এবং গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে সহযোগিতা করবে।

‘হামাসের সামনে চুক্তি মেনে নেওয়া ছাড়া খুব বেশি বিকল্প নেই’

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সান ফ্রান্সিসকোর মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক স্টাডিজের চেয়ারম্যান স্টিফেন জুনস বলেছেন, গাজা বোর্ড অব পিসের এই চুক্তি মেনে নেওয়া ছাড়া হামাসের হাতে খুব বেশি বিকল্প নেই। তিনি বলেন, ‘হামাসের নীতিগুলো ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য, বিশেষ করে গাজার মানুষের জন্য, একটি বিপর্যয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। গাজা উপত্যকার সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের সমর্থন হামাসের নেই।’

জুনস বলেন, ‘এই চুক্তির ফলে যদি ইসরায়েল পুরোপুরি গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করে, তাহলে হামাস নিজেদের সম্মান রক্ষার সুযোগ পাবে এবং সম্ভবত তারা এটিকে নিজেদের বিজয় হিসেবে ঘোষণা করতে পারবে।’

মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক কুইন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপনসিবল স্টেটক্রাফটের ডেপুটি ডিরেক্টর অ্যাডাম ওয়েইনস্টেইন বলেছেন, গাজা শান্তিচুক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যেই এমন কিছু গোষ্ঠী রয়েছে, যারা এই চুক্তি নস্যাৎ করার চেষ্টা করতে পারে। আল জাজিরাকে ওয়েইনস্টেইন বলেন, চুক্তিটি ‘খুবই গুরুত্বপূর্ণ’ হলেও এটিকে এখনই একটি বড় ধরনের অগ্রগতি বলা যাবে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

তিনি বলেন, ‘অনেকের মধ্যে সংশয় থাকবে যে হামাস সত্যিই তাদের সব অস্ত্র হস্তান্তর করছে কি না, অথবা তারা কিছু ছোট অস্ত্র নিজেদের কাছে রেখে দিচ্ছে কি না।’ ওয়েইনস্টেইন আরও বলেন, ‘গাজায় হামাসের বাইরে আরও বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী ও মিলিশিয়া সক্রিয় রয়েছে। তারা এই চুক্তির বিরোধিতা করে সেটিকে নস্যাৎ করার চেষ্টা করতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘অবশ্যই এমন ইসরায়েলি রাজনীতিকও রয়েছেন, যারা কট্টরপন্থী এবং গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার দেখতে চান না। তারা এমন দাবি তুলতে পারেন যে হামাস এখনো অস্ত্র ধরে রেখেছে। সেই দাবি সত্যি কি না, তা অবশ্য নিশ্চিত নয়।’ শেষে ওয়েইনস্টেইন বলেন, ‘যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত