Ajker Patrika

আবারও যুদ্ধবিরতি কার্যকরে সম্মত ইসরায়েল-লেবাবন

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৪ জুন ২০২৬, ১০: ৫৮
আবারও যুদ্ধবিরতি কার্যকরে সম্মত ইসরায়েল-লেবাবন
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজারের কাছাকাছি মানুষ নিহত হয়েছেন। ছবি: এএফপি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন জানিয়েছে, ইসরায়েল ও লেবানন সংঘাত বন্ধে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে সম্মত হয়েছে। এতে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের অবসান ঘটাতে আরও বিস্তৃত সমঝোতার সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো চুক্তির শর্ত হিসেবে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যকার লড়াই বন্ধের বিষয়টিও উল্লেখ করেছিল। এরই মধ্যে ইরান কুয়েতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ। এতে কুয়েতের বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কয়েক ডজন মানুষ আহত হন। তবে ইরান এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী হরমুজ প্রণালির কাছে হামলা পরিচালনা করছিল।

ওয়াশিংটনে আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার শর্ত হলো ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর সম্পূর্ণ অস্ত্রবিরতি এবং দক্ষিণ লিতানি সেক্টর থেকে তাদের সব সদস্যের সরে যাওয়া।

দুই পক্ষ গত মাসেও একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। তবে সংঘর্ষ অব্যাহত ছিল। মার্চ মাসে ইসরায়েল লেবাননে অভিযান চালায়। তাদের লক্ষ্য ছিল লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ, যারা তেহরানের সমর্থনে সীমান্ত পেরিয়ে হামলা চালিয়েছিল।

কুয়েতে হামলা এবং হরমুজ প্রণালির ঘটনাগুলো যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে বিদ্যমান নড়বড়ে যুদ্ধবিরতিকে নতুন করে চাপে ফেলেছে। এর ফলে তেলের দাম প্রায় ২ শতাংশ বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করার তিন মাসেরও বেশি সময় পরও প্রণালিটি বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বন্ধ রয়েছে।

বারবার চাপে যুদ্ধবিরতি

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করার পর থেকে তেহরান বারবার উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বারবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য চাপ দিয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই প্রণালি দিয়ে যেত।

গত সপ্তাহে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বন্ধ এবং প্রণালি পুনরায় চালুর লক্ষ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতার দিকে অগ্রগতির ইঙ্গিত দেয়। তবে এখনো কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিতে সই করেনি। ফলে আরও জটিল বিষয়গুলো নিয়ে পরবর্তী আলোচনার পথ খোলা রয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি গতকাল বুধবার লেবাননের সম্প্রচারমাধ্যম আল মায়েদিনকে বলেন, আলোচনা বন্ধ হয়ে যায়নি, কিন্তু কোনো অগ্রগতিও হয়নি। লেবাননে যুদ্ধ বন্ধের শর্ত ছাড়াও তেহরান আরও কয়েকটি দাবি তুলেছে। এর মধ্যে রয়েছে তেল বিক্রির মাধ্যমে অর্জিত কয়েক শ কোটি ডলারের রাজস্বে প্রবেশাধিকার, অপরিশোধিত তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা থেকে অব্যাহতি, তাদের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালির ওপর প্রভাব বজায় রাখা।

বুধবার প্রকাশিত একটি পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র না রাখার বিষয়ে সম্মত হয়েছে এবং আলোচনায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা হোসেইনি খামেনিও যুক্ত ছিলেন। পরে বুধবার ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় চলতি সপ্তাহান্তেই অগ্রগতি হতে পারে। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘যদি কিছু ঘটে, তাহলে সেটা সপ্তাহান্তেই ঘটতে পারে।’ তবে তিনি এ সময়সীমার মধ্যে কী ঘটতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি। ট্রাম্প আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টিকে লেবাননের সংঘাত থেকে আলাদা করার জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো কাজ করছে।

যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরও লেবাননে হামলা অব্যাহত ইসরায়েলের

এই যুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে, যাদের বেশির ভাগই ইরান ও লেবাননের নাগরিক। একই সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক নৌপরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতিও বড় ধাক্কার মুখে পড়েছে। এ যুদ্ধ ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার নতুন সংঘাতেরও জন্ম দিয়েছে।

বুধবার দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হন। একই সঙ্গে বৈরুতের দক্ষিণে একটি গাড়িকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয় বলে লেবাননের নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা হিজবুল্লাহর ছোড়া বলে ধারণা করা একটি বৈরী উড়োজাহাজ প্রতিহত করেছে। আরাঘচি বলেন, ইসরায়েল যদি বৈরুতে হামলা চালায়, তাহলে ইরান দৃঢ়ভাবে জবাব দেবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত