
গাজাভিত্তিক স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসকে ৬০ দিনের মধ্যে নিরস্ত্র হতে হবে—এমন মন্তব্য করে হুমকি দিয়েছেন ইসরায়েল সরকারের এক কর্মকর্তা। তিনি বলেছেন, হামাস তা না মানলে ইসরায়েল আবারও ‘গণহত্যামূলক যুদ্ধ’ শুরু করবে। এই মন্তব্য সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে হামাস।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরাকে হামাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মাহমুদ মারদাওয়ি সোমবার বলেন, এমন কোনো দাবির বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। তিনি বলেন, ‘ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু...এবং গণমাধ্যমের মাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যগুলো চলমান আলোচনার সঙ্গে সম্পর্কহীন, এগুলো কেবল ভিত্তিহীন হুমকি।’
মারদাওয়ির এই মন্তব্য এল এমন এক ঘটনার পর, যখন ইসরায়েলের মন্ত্রিপরিষদ সচিব ইয়োসি ফুকস সোমবার জেরুজালেমে এক সম্মেলনে বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, ৬০ দিনের মধ্যে হামাস নিরস্ত্র না হলে গাজায় ‘গণহত্যামূলক যুদ্ধ’ আবার শুরু করা হবে। নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ফুকস দাবি করেন, এই দুই মাস সময় দেওয়ার প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা সেটিকে সম্মান করছি।’
এই আলটিমেটাম ঠিক কবে থেকে শুরু হবে, তা নিশ্চিত না করলেও ফুকস বলেন, এটি ১৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিসের’ বৈঠক থেকে শুরু হতে পারে। এটি ওয়াশিংটনের সমর্থিত গাজা পুনর্গঠন পরিকল্পনা। ফুকস বলেন, ‘আমরা বিষয়টি মূল্যায়ন করব। যদি কাজ করে, তাহলে ভালো। আর যদি না করে, তাহলে আইডিএফকে (ইসরায়েলি সেনাবাহিনী) মিশন সম্পন্ন করতে হবে।’
হামাসের মারদাওয়ি আল জাজিরাকে আরও বলেন, যুদ্ধ পুনরায় শুরু করার যেকোনো হুমকি ‘পুরো অঞ্চলের জন্য গুরুতর পরিণতি’ ডেকে আনবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘ফিলিস্তিনি জনগণ আত্মসমর্পণ করবে না।’
জানুয়ারির মাঝামাঝি তথাকথিত ‘যুদ্ধবিরতি’ চুক্তির দ্বিতীয় ধাপ শুরু হয়। এতে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, তারা হামাসকে নিরস্ত্র করা এবং একটি আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েনের বিষয়টি দেখবে। তবে ইসরায়েল গাজা দখল করে রাখলে হামাস অস্ত্র ছাড়বে না বলে জানিয়ে দিয়েছে।
এ মাসের শুরুর দিকে, বিদেশে অবস্থানরত হামাসের রাজনৈতিক নেতা খালেদ মেশালও গাজায় ফিলিস্তিনি সংগঠনগুলোর নিরস্ত্রীকরণের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, দখলদার শক্তির অধীনে থাকা জনগণের কাছ থেকে অস্ত্র কেড়ে নেওয়া হলে তারা ‘সহজ শিকার হয়ে ধ্বংসের মুখে’ পড়বে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যায় ৭২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে হাজার হাজার শিশু রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় অক্টোবরে শুরু হওয়া তথাকথিত ‘যুদ্ধবিরতি’ কার্যকর থাকার পরও ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ৬০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গাজা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েল এই ‘যুদ্ধবিরতি’ ১ হাজার ৫২০ বার লঙ্ঘন করেছে।
প্রায় প্রতিদিন ফিলিস্তিনিদের হত্যা ছাড়াও, গাজায় প্রবেশ করা খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম, আশ্রয় উপকরণ এবং প্রিফ্যাব ঘরের পরিমাণও কঠোরভাবে সীমিত করেছে ইসরায়েল। সেখানে প্রায় ২০ লাখ ফিলিস্তিনি বাস করছেন। তাদের মধ্যে ১৫ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত। তারা ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে তাৎক্ষণিকভাবে ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতি’ কার্যকর হয়েছে এবং উভয় পক্ষ এতে সম্মত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
২৫ মিনিট আগে
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে আবারও একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। আজ রোববার সৌদি সরকারি বার্তা সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, অজ্ঞাত একটি ক্ষেপণাস্ত্র (প্রোজেক্টাইল) রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৪ নম্বর প্যাসেঞ্জার টার্মিনালে আঘাত হানে, যার ফলে সেখানে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়।
২৯ মিনিট আগে
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে নির্বাচনী জালিয়াতির অভিযোগে প্রতিবাদ করতে গিয়ে ব্যাপক ধরপাকড়ের শিকার হওয়ার পর দেশজুড়ে আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।
১ ঘণ্টা আগে
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গতকাল শনিবার প্রাণঘাতী হামলা চালায় ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। এই হামলায় নিহত ও আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ওমরাহযাত্রী এবং দুই মসজিদের (মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববি) দর্শনার্থীরাও রয়েছেন বলে জানা গেছে। হামলায় মোট ১২ জন নিহত ও...
২ ঘণ্টা আগে