Ajker Patrika

সৌদির সমর্থনে হুতিদের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ ঘোষণা ইয়েমেন সরকারের

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
সৌদির সমর্থনে হুতিদের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ ঘোষণা ইয়েমেন সরকারের
ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী তাইজ প্রদেশের আশ শামায়তাইন জেলায় হুতি বাহিনীর কাছ থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারফান পাহাড়ের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের ঘোষণা দেওয়ার পর, সেখানে তল্লাশি ও তল্লাশিমুক্তকরণ (ক্লিয়ারেন্স) অভিযান পরিচালনা করছে। ছবি: এএফপি

ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার এবং হুতিদের অবসান ঘটাতে পূর্ণাঙ্গ সামরিক অভিযান তথা যুদ্ধ শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান রাশাদ আল-আলিমি। একই সময়ে সৌদি আরব এ উদ্যোগে কূটনৈতিক ভূমিকা রাখছে। সৌদির পৃষ্ঠপোষকতায় দক্ষিণ ইয়েমেনের পক্ষগুলোর মধ্যে সংলাপের মাধ্যমে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় সংকট সমাধানের প্রতিও অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন আল-আলিমি।

লন্ডন থেকে প্রকাশিত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংবাদমাধ্যম আশারক আল–আওসাতের খবরে বলা হয়েছে, রাশাদ আল-আলিমি গতকাল রোববার দেশটি অবশিষ্ট ভূখণ্ড পুনরুদ্ধার এবং পুরো দেশে রাষ্ট্র ও এর প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তুতি ও সামরিক সমাবেশের পর্যায় থেকে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপের পর্যায়ে প্রবেশ করল দেশটি।

ইয়েমেনি জনগণের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে আল-আলিমি বলেন, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া ও পদক্ষেপ সম্পন্ন করার পর এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে সামরিক অভিযান শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, অনুমোদিত পরিকল্পনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি সশস্ত্র বাহিনী, নিরাপত্তা বাহিনী এবং সব সামরিক ইউনিটকে নির্দেশ দিয়েছেন, ‘যতক্ষণ না দেশকে সন্ত্রাসী মিলিশিয়াদের কবল থেকে মুক্ত করা হয়।’

আল-আলিমি বলেন, উত্তেজনা প্রশমনের সুযোগ শেষ হয়ে যাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, রাষ্ট্র শান্তির জন্য যথেষ্ট সময় দিয়েছে এবং বিভিন্ন সুযোগ তৈরি করেছে। কিন্তু হুতি গোষ্ঠী এর জবাবে আরও সামরিক সমাবেশ, উত্তেজনা বৃদ্ধি, হামলা এবং বেসামরিক মানুষ, জাতীয় স্থাপনা, প্রতিবেশী দেশ ও আন্তর্জাতিক নৌপথের বিরুদ্ধে হুমকি অব্যাহত রেখেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ঘোষিত এই যুদ্ধ হুতিদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে নয়। এটি কোনো সম্প্রদায় বা গোত্রের বিরুদ্ধেও নয়। বরং এটি ‘রাষ্ট্র ও তার নাগরিকদের জন্য এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরুদ্ধারের লড়াই।’ তিনি বলেন, বলপ্রয়োগের মাধ্যমে ইয়েমেনের জনগণের ইচ্ছা ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কেড়ে নেওয়ার অবসান ঘটানোই এই অভিযানের লক্ষ্য।

হুতিদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার বাসিন্দাদের উদ্দেশে সরাসরি বার্তা দিয়ে আল-আলিমি তাঁদের সামরিক অবস্থান, জমায়েত এবং রসদ সরবরাহের পথ থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান। পাশাপাশি, তাঁদের সন্তানদের যেন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলেন। একই সময়ে তিনি নিরাপদে ফিরে আসার সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে রাষ্ট্রের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। হুতি গোষ্ঠীর সঙ্গে অস্ত্র সমর্পণ করে এবং তাদের পক্ষে যুদ্ধ করা বন্ধ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাধারণ ক্ষমা দেওয়ার ঘোষণাও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

সরকারি বাহিনী ও প্রতিরোধযোদ্ধাদের উদ্দেশে দেওয়া বার্তায় প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান জোর দিয়ে বলেন, তাঁদের দায়িত্ব ‘শুধু ভূখণ্ড পুনরুদ্ধার করা নয়, বরং সেই ভূখণ্ডে রাষ্ট্রকে ফিরিয়ে নেওয়াও।’ তিনি বেসামরিক মানুষ ও তাঁদের সম্পত্তি সুরক্ষার পাশাপাশি আইন মেনে চলার আহ্বান জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রতিশোধ, পাল্টা প্রতিশোধ কিংবা নিরপরাধ মানুষের ওপর হামলার কোনো সুযোগ থাকবে না।

সরকারের প্রতি নির্দেশনা

বেসামরিক ব্যবস্থাপনার বিষয়ে আল-আলিমি বলেন, সামরিক অভিযানের পাশাপাশি পরিচালনার জন্য একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করতে তিনি সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন। এর উদ্দেশ্য হলো, সরকারি বাহিনী যেসব এলাকা পুনরুদ্ধার করবে, সেসব এলাকায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো যেন ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারের সঙ্গে সঙ্গেই নিজেদের দায়িত্ব পালন শুরু করতে পারে।

তিনি যেসব অগ্রাধিকার তুলে ধরেছেন, তার মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রীয় কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ পুনরায় চালু করা এবং বকেয়া পাওনা আগের সময় থেকে হিসাব করে পরিশোধের ব্যবস্থা করা। এ ছাড়া জরুরি পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠন কর্মসূচি চালু করা, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, বিদ্যুৎ ও পানির নেটওয়ার্ক এবং বিভিন্ন স্থাপনা মেরামত করা, বাস্তুচ্যুত মানুষদের ফিরে আসার পরিবেশ তৈরি করা এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পুনরায় চালু করাও এসব অগ্রাধিকারের অন্তর্ভুক্ত।

আল-আলিমি বলেন, এই অভিযানের সাফল্য কতটি শহর পুনরুদ্ধার করা হয়েছে, তা দিয়ে পরিমাপ করা হবে না। বরং কতজন নাগরিক আবার নিরাপত্তা ফিরে পেয়েছেন, কতটি পরিবার নিজেদের বাড়িতে ফিরতে পেরেছে এবং মানুষকে হত্যা, নিপীড়ন ও তাদের ইচ্ছা কেড়ে নেওয়ার মতো চর্চায় যাতে আবার ফিরে যেতে না হয়, তা প্রতিরোধে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর ভিত্তিতে সাফল্য মূল্যায়ন করা হবে।

তিনি সৌদি আরবের পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠিত দক্ষিণের পক্ষগুলোর মধ্যকার সংলাপের ফলাফলের প্রতি প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল ও সরকারের অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন। তাঁর মতে, এই অঙ্গীকার এমনভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে, যাতে দক্ষিণাঞ্চলের প্রশ্নের একটি ন্যায়সংগত ও সর্বব্যাপী সমাধান নিশ্চিত হয়।

তিনি ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলো, বন্ধুরাষ্ট্রগুলো এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ইয়েমেন, দেশটির সশস্ত্র বাহিনী ও জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মানবিক ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম এবং পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠন কর্মসূচিতে সহায়তা করারও আহ্বান জানান তিনি। আল-আলিমি তাঁর বক্তব্যের শেষে ঘোষণা করেন, রাষ্ট্রের সামরিক, নিরাপত্তা ও বেসামরিক প্রতিষ্ঠানগুলো এখন ‘পূর্ণ প্রস্তুতির অবস্থায়’ প্রবেশ করেছে এবং দায়িত্ব সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এই অবস্থা বজায় থাকবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নতুন এই পর্যায়ের লক্ষ্য হলো রাষ্ট্রকে তার ভূখণ্ড ও প্রতিষ্ঠানগুলোতে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা এবং অস্ত্রকে ‘আইনের কর্তৃত্বের অধীনে স্বাভাবিক অবস্থানে’ ফিরিয়ে আনা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত