Ajker Patrika

ভূপাতিত বিমানের দ্বিতীয় ক্রুকে উদ্ধারের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের, তবে ইরান থেকে বের হতে পারেনি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৫: ০১
ভূপাতিত বিমানের দ্বিতীয় ক্রুকে উদ্ধারের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের, তবে ইরান থেকে বের হতে পারেনি
যুদ্ধক্ষেত্রে মার্কিন এলিট উদ্ধার দল। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, তারা ইরানে বিধ্বস্ত এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল যুদ্ধবিমানের দ্বিতীয় ক্রুকে উদ্ধার করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এই তথ্য জানিয়েছে। ব্যাপক গোলাগুলির পর ওই সদস্যকে উদ্ধার করা হয়। তবে ইরান থেকে তারা এখনো বের হতে পারেনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন সরকারি কর্মকর্তা আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, ভূপাতিত হওয়া এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল যুদ্ধবিমানের দ্বিতীয় ক্রু সদস্যকে ‘ব্যাপক গোলাগুলির’ পর উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, উদ্ধার অভিযান এখনো চলমান।

নিখোঁজ ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করা হলেও তিনি এখনো নিরাপদ নন। উদ্ধারকারী দলকে এখন সফলভাবে ইরান থেকে বের হয়ে নিরাপদ স্থানে পৌঁছাতে হবে। মার্কিন সরকারের ওই সূত্র জানিয়েছে, ইরানে রাতভর অভিযানে ভূপাতিত এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ ক্রু সদস্যকে শনাক্ত করা হয়। এরপর তাঁকে উদ্ধারের চেষ্টা চালানো হয়, কিন্তু সেখানে ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ওই ক্রু সদস্য এখনো ইরানি ভূখণ্ড ত্যাগ করতে পারেননি। চলমান সংঘাতের কারণে তাঁর এবং উদ্ধার অভিযানে জড়িত অন্যদের জন্য এখনো ঝুঁকি রয়েছে। এটি এখনো চলমান ও সক্রিয় উদ্ধার অভিযান। তবে ওই বিমানসেনা এখনো ইরানের বাইরে আসতে পারেননি। এখানে ‘এয়ারম্যান’ শব্দটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পরিভাষায় ব্যবহৃত হলেও এর অর্থ এই নয় যে তিনি পুরুষ।

এর আগে গতকাল শনিবার ইরানের আকাশসীমায় ভূপাতিত মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ ক্রু সদস্যকে খুঁজে বের করতে দেশটির অভ্যন্তরে এক চরম ঝুঁকিপূর্ণ এবং ‘শ্বাসরুদ্ধকর’ উদ্ধার অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষায়িত বাহিনী। প্রাথমিক তথ্যে বিমানের এক পাইলটকে উদ্ধারের খবর পাওয়া গেলেও দ্বিতীয় সদস্যের সন্ধানে ইরানি ভূখণ্ডের গভীরে চিরুনি তল্লাশি শুরু করে। বিপরীতে ওই মার্কিন পাইলটকে জীবিত ধরিয়ে দিতে পারলে ১০ বিলিয়ন তুমান (প্রায় ৭৬ হাজার ডলার) পুরস্কার ঘোষণা করে ইরান।

এই বিশেষ ধরনের অভিযানকে সামরিক পরিভাষায় ‘কমব্যাট সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ’ (সিএসএআর) বলা হয়, যা আধুনিক যুদ্ধের অন্যতম জটিল এবং সময়সাপেক্ষ সামরিক অপারেশন। সাধারণ অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানের সঙ্গে এর মূল পার্থক্য হলো—এটি দুর্যোগপূর্ণ মানবিক পরিবেশে নয়, বরং সরাসরি শত্রুভাবাপন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে পরিচালিত হয়। যখন কোনো পাইলট বা সৈন্য শত্রু শিবিরের সীমানায় বা দুর্গম এলাকায় আটকা পড়েন, তখন তাদের জীবিত ও নিরাপদে ফিরিয়ে আনাই এই মিশনের মূল লক্ষ্য। ইরানে শুক্রবারের এই উদ্ধার অভিযানটি সরাসরি শত্রুপক্ষের রাডার এবং বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থার নজর এড়িয়ে পরিচালিত হচ্ছে বলে জানা গেছে।

প্যারা রেসকিউ জাম্পার স্কোয়াড্রনের একজন সাবেক কমান্ডার সিবিএস নিউজকে জানান, এই উদ্ধার অভিযানে অন্তত ২৪ জন বিশেষ প্রশিক্ষিত প্যারা রেসকিউ জাম্পার অংশ নিচ্ছেন। তাঁরা ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার ব্যবহার করে এলাকাটি চষে বেড়াচ্ছেন এবং প্রয়োজনে চলন্ত বিমান থেকে প্যারাস্যুটের মাধ্যমে যেকোনো ভূখণ্ডে ঝাঁপ দিতে প্রস্তুত। তাঁদের প্রথম ও প্রধান কাজ নিখোঁজ সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন, তাঁকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়া এবং শত্রুর নাগালের বাইরে কোনো নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়া, যেখান থেকে তাঁদের উদ্ধার করা সম্ভব।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

মার্কিন বাহিনীর নতুন মাথাব্যথা ইরানের ‘অদৃশ্য কমান্ডো’

‘ইলন মাস্কের হাত থেকে বাঁচাতে’ কিশোরী কন্যাকে হত্যা করলেন মা

অবশেষে অনশনরত স্বামীর হাত ধরে ঘরে ফিরলেন সেই স্ত্রী

ভূপাতিত বিমানের দ্বিতীয় ক্রুকে উদ্ধারের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের, তবে ইরান থেকে বের হতে পারেনি

ইরানে হামলায় সবচেয়ে প্রাণঘাতী ২০০০টি ক্ষেপণাস্ত্র মধ্যপ্রাচ্যে আনছে যুক্তরাষ্ট্র, একটার দাম ১৫ লাখ ডলার

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত