Ajker Patrika

ইরানে হামলা কখন, আগামী সপ্তাহসহ ট্রাম্পের সামনে ৪ বিকল্প

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ইরানে হামলা কখন, আগামী সপ্তাহসহ ট্রাম্পের সামনে ৪ বিকল্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এএফপি

পৃথিবীর কোনো বিশ্লেষকই হয়তো ভাবেননি যে, চলতি ফেব্রুয়ারিতেও ইরানকে ঘিরে এই নাটক চলতে থাকবে। মার্চ প্রায় চলে এলেও এর শেষ নেই। তবু যদি কোনো চুক্তি না হয়, তাহলে পরবর্তী ইরান যুদ্ধ কখন শুরু হতে পারে—এ নিয়ে সাধারণভাবে চারটি সম্ভাব্য দৃশ্যপট সামনে এসেছে।

প্রথম বিকল্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে ইরানে হামলা করতে পারেন। এটি ঘটতে পারে যদি ট্রাম্প ইতিমধ্যেই তেহরানে হামলার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। কিন্তু সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে কিছু বিষয় সঠিক জায়গায় থাকা প্রয়োজন পড়ে। পাশাপাশি তিনি নিশ্চিত হতে চান যে, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় এমন ফল আসবে না, যাতে তাঁকে পিছিয়ে যেতে হতে পারে।

বৃহস্পতিবারও হামলা হতে পারে, যদি সেদিন ইরান কোনো প্রস্তাব দেয় এবং ট্রাম্প তা সঙ্গে সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করেন। তবে এর সম্ভাবনা কিছুটা কম। কারণ মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বৈঠক হবে। নতুন ইরানি প্রস্তাব মূল্যায়ন করার জন্য ট্রাম্প কিছু সময় নিতে চাইবেন—এ সম্ভাবনাই বেশি।

দ্বিতীয় বিকল্প

আগামী সপ্তাহের শুরু বা মাঝামাঝি সময়ে ট্রাম্প ইরানে হামলা করতে পারেন। এটি সবচেয়ে সম্ভাব্য দৃশ্য। গত সপ্তাহে তিনি ইরানকে দুই সপ্তাহের সময়সীমা দিয়েছিলেন। এই সময়ের মধ্যে সমঝোতায় না পৌঁছালে হামলা করবেন বলে জানান।

এরপর থেকে তাঁর বক্তব্যে সেই সময়সীমা কখনো স্পষ্ট, কখনো অস্পষ্ট হয়েছে। এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, সময়সীমা নির্ধারণে ট্রাম্প খুব একটা ‘বৈজ্ঞানিক’ নন। তিনি প্রায়ই সময়সীমাকে একটি দিকনির্দেশক হিসেবে ব্যবহার করেন, যাতে নিজের কাঙ্ক্ষিত সময়ে নিজের লক্ষ্য পূরণ করতে পারেন। যদি ট্রাম্প ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে পুরো দুই সপ্তাহ সময় দেন, এবং বৃহস্পতিবার তেহরানের নতুন প্রস্তাব নিয়ে কিছু সময় ভাবেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফলাফলকে কাঙ্ক্ষিত মনে না করেন, তাহলে সেই সময়ের কাছাকাছিই হামলা হতে পারে।

তৃতীয় বিকল্প

১৯ মার্চের পর, রমজান শেষে, মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই হামলা চালাতে পারে। মুসলমানদের পবিত্র মাস রমজান গত সপ্তাহে শুরু হয়েছে এবং ১৯ মার্চ শেষ হবে। ইসলাম ধর্মের এই পবিত্র মাসে ট্রাম্প আঞ্চলিক যুদ্ধ শুরু করতে না-ও চাইতে পারেন। কারণ, এই সময়ে যুদ্ধ শুরু করলে অঞ্চলের সুন্নি মুসলিম মিত্রদের প্রস্তুতিতে প্রভাব পড়তে পারে। খামেনি তাদের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা চালাতে পারেন—এই আশঙ্কা রয়েছে।

এ ছাড়া ট্রাম্পের রাজনৈতিক পরিণতির বিষয়টি সব সময়ই তার মাথায় থাকে। রমজানের মধ্যে হামলা চালালে খামেনির সেই ন্যারেটিভকেই আরও শক্তিশালী করতে পারে, যেখানে তিনি বলেন—একটি বিদেশি শক্তি মধ্যপ্রাচ্যে আক্রমণ চালাতে চাইছে। এতে জানুয়ারি থেকে নিজ দেশের মানুষের বিরুদ্ধে যে কঠোর দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে, সেদিক থেকে মনোযোগ সরে যেতে পারে।

যদি ইরানের জনগণের একাংশ শাসনব্যবস্থা থেকে আলাদা হওয়ার কথা ভাবেন, তাহলে রমজানের মধ্যে হামলা তাদের সিদ্ধান্তকে জটিল করে তুলতে পারে। তাই রমজান শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার মধ্যে বাস্তব যুক্তি রয়েছে।

তবু দ্বিতীয় বিকল্পই কিছুটা বেশি সম্ভাব্য মনে হয়। কারণ, অচলাবস্থা গত ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে টেনে চলেছে। মধ্যপ্রাচ্যে বিপুল মার্কিন সেনা উপস্থিতি ধরে রাখতে ব্যয় বাড়ছে। ট্রাম্প যতই বিকল্পগুলো বিবেচনা করতে চান এবং রমজানকে হিসাবের বাইরে রাখতে চান, শেষ পর্যন্ত তার দ্রুত ও সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রবণতাই হয়তো প্রাধান্য পাবে। তার জন্য এটি ইতিমধ্যেই অস্বাভাবিকভাবে দীর্ঘ ও চিন্তাশীল সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চতুর্থ বিকল্প

সবচেয়ে কম সম্ভাব্য দৃশ্য হলো—ওয়াশিংটন আরও দূর ভবিষ্যতে হামলা করতে পারে। এটি সবচেয়ে কম সম্ভাব্য। কারণ, মধ্যপ্রাচ্যে দুটি বিমানবাহী রণতরী, এক ডজনের বেশি ডেস্ট্রয়ার এবং শত শত যুদ্ধবিমান মোতায়েন রেখে যে কোনো মুহূর্তে বড় যুদ্ধ শুরু করার প্রস্তুতি ধরে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ হচ্ছে।

এই সামরিক উপাদানগুলোর কিছু জানুয়ারির শুরুতে, কিছু মাঝামাঝি সময়ে এসেছে। আর বাকি অংশ আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পৌঁছাবে। প্রায় কোনো বিশ্লেষকই বিশ্বাস করেন না যে, মার্চের মাঝামাঝি পার হয়ে গেলেও ট্রাম্প এত বড় নৌবহর অকারণে ধরে রাখবেন। হয় তিনি এটি ব্যবহার করে যুদ্ধে যাবেন, নয়তো চুক্তি হলে তা সরিয়ে নেবেন। তবে কয়েকটি বিষয় মনে রাখা দরকার।

এ পর্যন্ত প্রতিটি বিশ্লেষকই ভুল প্রমাণিত হয়েছেন। তারা ভেবেছিলেন, ট্রাম্প এর আগেই হয় হামলা করতেন, নয়তো চুক্তিতে পৌঁছাতেন।

ইরান আলোচনাকে দীর্ঘায়িত করতে খুব দক্ষ। ট্রাম্প তাঁর প্রেসিডেন্সির সম্ভবত সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্তের মুখোমুখি। দেশে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রবল চাপ ও পাল্টা চাপ তাঁকে বিপরীত দিকে টানছে। এই সব কারণ মিলিয়ে তিনি দীর্ঘ সময় অচলাবস্থায়ও থাকতে পারেন। হয়তো তিনি আরও স্পষ্ট ও ভালো কোনো সমাধানের অপেক্ষায় থাকবেন—যুদ্ধ নয়, আবার এমন চুক্তিও নয়, যা দুর্বল বলে মনে হবে।

শুরুতে ইসরায়েলি বিশ্লেষকদের মধ্যে মতভেদ ছিল। যুক্তরাষ্ট্র হামলা করলে খামেনি কি ইসরায়েলে পাল্টা হামলার নির্দেশ দেবেন? কেউ মনে করতেন, যাই হোক না কেন, তিনি পাল্টা হামলা করবেন। আবার কেউ ভাবতেন, জেরুজালেম যদি স্পষ্টভাবে সংঘাতে না জড়ানোর অবস্থান নেয়, তাহলে ইসলামিক রিপাবলিক কেবল অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও জাহাজে পাল্টা হামলা চালাতে পারে। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ইসরায়েলি নেতারা মার্কিন নেতৃত্বাধীন হামলায় যোগ দেওয়ার বিষয়ে বেশি জোরালো বক্তব্য দিচ্ছেন। এতে তেহরানের ইসরায়েলে হামলার সম্ভাবনাও বেড়েছে—হয় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে, নয়তো আগাম পদক্ষেপ হিসেবে, যদি তারা ধরে নেয় যে আইডিএফ এতে জড়াবে।

তথ্যসূত্র: জেরুসালেম পোস্ট

ইরান, ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র, ডোনাল্ড ট্রাম্প, হামলা

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত