Ajker Patrika

হরমুজ থেকে আরও এক মার্কিন সাবমেরিন ড্রোন আটক করল ইরান

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
হরমুজ থেকে আরও এক মার্কিন সাবমেরিন ড্রোন আটক করল ইরান
ইরান একটি মার্কিন সাবমেরিন ড্রোন আটকের দাবি করেছে। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি) স্থানীয় সময় গতকাল রোববার জানিয়েছে, তারা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে আরও একটি মার্কিন সাবমেরিন ড্রোন জব্দ করেছে। কয়েক মাস ধরে চলা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে তেহরান এই প্রণালির ওপর অবরোধ আরোপ করে রেখেছে।

সৌদি সংবাদমাধ্যম আরব নিউজের খবরে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাত দিয়ে আইআরজিসির নৌবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘গোয়েন্দা নজরদারি ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধের সমন্বয়ে পরিচালিত একটি জটিল ও সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে আইআরজিসির নৌবাহিনীর সদস্যরা সন্ত্রাসী মার্কিন সামরিক বাহিনীর মালিকানাধীন একটি উন্নতমানের চালকবিহীন পানির নিচের যান (ইউইউভি) সফলভাবে আটক করেছে।’

তারা আরও জানায়, ড্রোনটি ‘গোয়েন্দাগিরির উদ্দেশ্যে হরমুজ প্রণালিতে সক্রিয় ছিল।’ তারা বলছে, ড্রোনটির মডেল হলো রেমাস–৬০০ অটোমেটেড আন্ডারওয়ার ভেহিকল। তারা জানিয়েছে, যানটি ‘এখন বাহিনীর বিশেষজ্ঞদের হাতে রয়েছে এবং এর তথ্য পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে।’

চলতি মাসের শুরুতেও গার্ডস জানিয়েছিল, তারা প্রণালিতে আরেকটি মার্কিন সাবমেরিন ড্রোন আটক করেছে। সে সময় ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়—আটক করা যানটি ডাইভ–এলডি (Dive-LD)। এটি তৈরি করেছে ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যান্ডুরিল। ১৯ ফুট বা ৫ দশমিক ৮ মিটার দীর্ঘ এই ডুবোযানটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত হতে পারে।

কোম্পানিটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ডাইভ–এলডি বিভিন্ন ধরনের মিশনে ব্যবহার করা যায়। এর মধ্যে রয়েছে সমুদ্রের নিচে মাইন শনাক্ত ও অপসারণে সহায়তা, সমুদ্রতলের মানচিত্র তৈরি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং কেবল ও পাইপলাইনের মতো পানির নিচের অবকাঠামো পরিদর্শন।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী মানববিহীন নৌযান ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিনিয়োগ করছে। এর মধ্যে পানির নিচে চলাচলকারী এবং পানির ওপর চলাচলকারী উভয় ধরনের যান রয়েছে। এর লক্ষ্য হলো বিশাল সমুদ্রাঞ্চল পর্যবেক্ষণ, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং প্রতিপক্ষের যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন শনাক্ত করার জন্য তুলনামূলক কম খরচের ব্যবস্থা তৈরি করা। একই সঙ্গে এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে নাবিকদের সরাসরি ঝুঁকির মধ্যে না ফেলেও সামরিক অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব।

অ্যান্ডুরিলের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ডাইভ–এলডি সর্বোচ্চ ১০ দিন পর্যন্ত ঘাঁটিতে ফিরে না এসে কাজ করতে পারে। এটি সর্বোচ্চ ৬ হাজার মিটার বা ১৯ হাজার ৭০০ ফুট গভীরতায় ডুব দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে। মার্কিন সামরিক বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ডিফেন্সস্কুপ ২০২৪ সালে জানিয়েছিল, প্রতিটি ডাইভ–এলডির দাম প্রায় ২৫ লাখ মার্কিন ডলার।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে তেল ও গ্যাস বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালিটি ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই ইরান হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ বজায় রেখেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর পাল্টা অবরোধ আরোপ করেছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত