Ajker Patrika

টানা ষষ্ঠ রাতের উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের পাল্টা আঘাত, ফের অচল হরমুজ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
টানা ষষ্ঠ রাতের উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের পাল্টা আঘাত, ফের অচল হরমুজ
ইরানের একটি স্থাপনায় হামলার ভিডিওর ছবি প্রকাশ করেছে সেন্টকম। ছবি: সেন্টকম

গত মাসে হওয়া যুদ্ধবিরতি ভেঙে প্রতিদিনের হামলা-পাল্টা হামলার ধারাবাহিকতার মধ্যে আজ শুক্রবার উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় নতুন করে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। এর আগে টানা ষষ্ঠ রাতের মতো ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা আরও দুর্বল করার উদ্দেশ্যে তারা আরেক দফা রাতভর হামলা চালিয়েছে। হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল কেশম দ্বীপ এবং বন্দর আব্বাসের আশপাশের এলাকা। বন্দর আব্বাসে ইরানের বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর এবং দেশটির নৌবাহিনী ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো অবস্থিত।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, মার্কিন বাহিনী, যার মধ্যে যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও যুদ্ধজাহাজ ছিল, নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইরানের উপকূলীয় নজরদারি ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, সামরিক লজিস্টিক অবকাঠামো এবং সামুদ্রিক সক্ষমতাসহ কয়েক ডজন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।

জবাবে ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে জর্ডানের একটি বিমানঘাঁটিও রয়েছে। শুক্রবার ভোরে ইরানের সামরিক বাহিনী জানায়, তারা বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে। একই সময় কাতারের রাজধানী দোহায় বিস্ফোরণের মতো একাধিক শব্দ শোনা গেছে বলে একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন। কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ছিটকে আসা ধাতব টুকরোর (শ্র্যাপনেল) আঘাতে একটি শিশু আহত হয়েছে।

ইরানের গণমাধ্যম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলায় পাঁচটি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় শহর বন্দর খামিরের রেলস্টেশন এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ইরানশাহর বিমানবন্দরেও হামলা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানের বন্দরনগরী বন্দর খামিরে সেতুগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় সাতজন নিহত হয়েছেন। তবে এসব তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স।

আবারও অচল হরমুজ প্রণালি, বাড়ছে জ্বালানির দাম

সংঘাতের নতুন এই উত্তেজনার ফলে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল আবারও ব্যাপকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে। তেহরান আবারও হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ কার্যকর করেছে এবং বুধবার থেকে ওয়াশিংটনও ইরানের বন্দরগুলো অবরুদ্ধ করেছে।

রয়টার্সকে একাধিক সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের অবকাঠামোতে হামলা চালিয়ে যায়, তাহলে ইরান ইয়েমেনে তাদের মিত্র হুতিদের লোহিত সাগরের প্রবেশমুখে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দিতে উৎসাহিত করতে পারে।

গত সপ্তাহে ইরান হরমুজ প্রণালির নির্ধারিত নৌপথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপরও হামলা চালায়। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বৃহস্পতিবার এক ব্রিফিংয়ে বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘হরমুজ প্রণালিতে চলমান এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জবাব ছাড়া বসে থাকবেন না। তিনি নিশ্চিত করবেন, ইরানকে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে।’

তবে তিনি আরও বলেন, একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ‘সব সময় কূটনৈতিক সমাধানের পথেও উন্মুক্ত’ রয়েছেন। ইরানি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করাই তেহরানের মূল লক্ষ্য। তবে তারা এমন মাত্রার উত্তেজনা চায় না, যাতে গত জুনে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক ভেস্তে যায়। ইরানের মতে, ওই সমঝোতায় তাদের চাওয়ার অধিকাংশই পূরণ হয়েছে।

নতুন যুদ্ধের আশঙ্কায় আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ

ইরানের ভেতরে নতুন করে বোমাবর্ষণ শুরু হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। তেহরানের ৪৬ বছর বয়সী সরকারি কর্মকর্তা মাহলেগা রয়টার্সকে বলেন, ‘যে কোনো সময় আবার যুদ্ধ শুরু হতে পারে, এই ভয় নিয়ে বেঁচে থাকা খুবই ক্লান্তিকর। এভাবে জীবন কাটানো যায় না। ব্যক্তিগতভাবে আমি চাই, কূটনীতিই জয়ী হোক।’

ইরান চায়, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী সব জাহাজ তাদের উপকূলঘেঁষা নির্ধারিত চ্যানেল ব্যবহার করুক। পাশাপাশি গত মাসের সমঝোতা স্মারকে নির্ধারিত ৬০ দিনের আলোচনার সময়সীমা শেষ হলে জাহাজগুলোর কাছ থেকে যাতায়াত ফি আদায়েরও পরিকল্পনা রয়েছে তেহরানের। অন্যদিকে ওয়াশিংটন জাহাজগুলোকে ওমান উপকূলঘেঁষা দক্ষিণের বিকল্প রুট ব্যবহার করতে উৎসাহিত করেছে।

মার্কিন বাহিনী জানিয়েছে, উপকূলীয় সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে তাদের বিমান হামলার উদ্দেশ্য ছিল হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণে ইরানের সক্ষমতা ভেঙে দেওয়া। তবে ইরানি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া বৃহস্পতিবার বলেন, এতে কোনো লাভ হবে না। কারণ ইরান তার ভূখণ্ডের যেকোনো স্থান থেকেই হরমুজ প্রণালিতে হামলা চালাতে সক্ষম।

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্থলবাহিনী ব্যবহারের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি। এর মধ্যে ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি টার্মিনাল অবস্থিত খার্গ দ্বীপ দখলের সম্ভাবনাও রয়েছে। তিনি আরও পুনরায় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তেহরান যদি আগামী সপ্তাহের মধ্যে আবার আলোচনায় না ফেরে, তাহলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুগুলোতে হামলা চালানো হতে পারে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত