Ajker Patrika

সাময়িকভাবে হরমুজ চালুর পরিকল্পনা ইরান–ওমানের

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
সাময়িকভাবে হরমুজ চালুর পরিকল্পনা ইরান–ওমানের
ফাইল ছবি

হরমুজ প্রণালির দুই পাড়ের দেশ ইরান ও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা প্রণালিটি দিয়ে সাময়িক নৌ-পরিবহন করিডোর এবং এই গুরুত্বপূর্ণ পানিপথে মাইন অপসারণ প্রকল্পের প্রস্তাবিত ফ্রেমওয়ার্ক নিয়ে আলোচনা করেছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি প্রণালির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে বৈঠকের উদ্দেশ্যে গতকাল মঙ্গলবার তেহরানে পৌঁছান। ওমান থেকে প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, দুই পক্ষ এমন একটি ‘ধাপভিত্তিক ফ্রেমওয়ার্ক নিয়ে আলোচনা করেছেন যা সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য একটি ব্যবহারিক ও বাস্তবায়নযোগ্য ভিত্তি প্রদান করতে পারে।’

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই এই প্রণালিটি সংঘাতের প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে গত জুনে সই হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে সম্প্রতি উভয় দেশই এটি দিয়ে নৌ-পরিবহন নিয়ন্ত্রণের একটি পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার চেষ্টা করছে। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘প্রস্তাবিত ফ্রেমওয়ার্কের মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালি দিয়ে একটি সাময়িক যৌথ নৌ-পরিবহন করিডোর স্থাপন এবং প্রণালিটি থেকে মাইন অপসারণের জন্য একটি যৌথ প্রকল্প বাস্তবায়নের চুক্তি।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘তথ্য বিনিময়, নৌ-চলাচল পরিচালনা এবং সম্পর্কিত নৌ ও নিরাপত্তা পরিষেবা প্রদানের জন্য একটি মেকানিজম তৈরির পাশাপাশি স্থায়ী নৌ-পরিবহন করিডোর গঠন এবং প্রণালি ব্যবস্থাপনার ভবিষ্যৎ ব্যবস্থার বিষয়ে চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে দু'পক্ষের মধ্যে প্রযুক্তিগত আলোচনা অব্যাহত থাকবে।’

বৈঠক শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে আলবুসাইদি আশা প্রকাশ করে বলেন, দেশ দুটি প্রণালিতে সাময়িক করিডোরের বিষয়ে ‘শীঘ্রই ঘোষণা’ দেবে। তিনি লেখেন, ‘প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা এবং একটি স্থায়ী সমাধান যথাসময়ে সম্পন্ন হবে।’

যৌথ বিবৃতি অনুযায়ী, বৈঠক চলাকালীন উভয় মন্ত্রী যার যার নিজ দেশের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করে এমন একটি ব্যবস্থায় পৌঁছানোর গুরুত্ব তুলে ধরেন। যেকোনো চুক্তি যেন আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সার্বভৌমত্বকে সম্মান করে, তা নিশ্চিত করতে তারা ‘পারস্য উপসাগরীয় উপকূলীয় দেশগুলোর সঙ্গে যৌথ আলোচনার গুরুত্ব নিশ্চিত করেছেন।’

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্ট দেওয়ার পর এই বিবৃতিটি এল। ট্রাম্প মার্কিন নৌবাহিনীর তথ্য উল্লেখ করে লেখেন, ‘হরমুজ প্রণালির আন্তর্জাতিক জলসীমার ভেতরের সব মাইন অপসারণ এবং/অথবা নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।’

ট্রাম্প যোগ করেন, ‘ইরানকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, নতুন করে মাইন স্থাপনকারী যেকোনো জাহাজ বা নৌকাকে অবিলম্বে এবং পদ্ধতিগতভাবে ধ্বংস করা হবে।’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। এরপর তেহরান দ্রুত হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করে এবং ওয়াশিংটনও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ-অবরোধ আরোপ করে। ফলে নৌ-চলাচল অনেকাংশে অচল হয়ে পড়েছে, যা বৈশ্বিক তেল বাজারে তৈরি করেছে বড় ধরনের বিঘ্ন। সাধারণত বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশই এই গুরুত্বপূর্ণ পানিপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।

প্রণালির দুই উপকূলীয় দেশ ইরান ও ওমান কয়েক সপ্তাহ ধরে এই পানিপথ দিয়ে নৌ-চলাচলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করে আসছে। তেহরান জানিয়েছে, উভয় দেশের পরিকল্পিত একটি পথের ভৌগোলিক স্থানাঙ্ক (coordinates) নিয়ে ‘সম্মতি নিশ্চিত হয়েছে।’ তবে, ইরানি কর্মকর্তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, ওয়াশিংটন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার, তেল সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং বিদেশে আটকে থাকা ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করার দাবি পূরণ না করা পর্যন্ত এই প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে না।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত