
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান ভয়াবহ সংঘাত নিরসনে এক অবিস্মরণীয় কূটনৈতিক সাফল্য অর্জন করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। গত কয়েক সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর তাঁর উদ্যোগে এবং মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষ লেবাননসহ সব রণাঙ্গনে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। আগামী শুক্রবার থেকে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে শুরু হতে যাচ্ছে ঐতিহাসিক ‘শান্তি আলোচনা’, যা এই সংঘাতের স্থায়ী অবসানে মূল চাবিকাঠি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আজ বুধবার সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই খুশির খবরটি বিশ্ববাসীকে জানান। তিনি বলেন, ‘আমি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করছি যে, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের মিত্রদের নিয়ে লেবাননসহ সর্বত্র অবিলম্বে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। এই মুহূর্ত থেকেই এই ঘোষণা কার্যকর হবে।’
ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে এই সমঝোতাটি সম্ভব হয়েছে। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, শাহবাজ শরিফের সরাসরি হস্তক্ষেপ না থাকলে মধ্যপ্রাচ্যে এক মহাপ্রলয় ঘটে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল।
কেন পাকিস্তানই মধ্যস্থতাকারী?
ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের অবস্থান এবং বর্তমান নেতৃত্বের কৌশল এই মধ্যস্থতায় বড় ভূমিকা পালন করেছে:
১. ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে শাহবাজ শরিফের ব্যক্তিগত ও প্রশাসনিক সুসম্পর্ক ওয়াশিংটনের ওপর প্রভাব ফেলতে সহায়তা করেছে।
২. প্রতিবেশী ইরান: ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত এবং ঐতিহাসিক সম্পর্কের কারণে তেহরানের বিশ্বাস অর্জন করা ইসলামাবাদের জন্য সহজ ছিল।
৩. বার্তাবাহক হিসেবে ভূমিকা: গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে গোপন বার্তার আদান-প্রদান সরাসরি পাকিস্তানের মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়েছে।
ইসলামাবাদে আসছে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল
প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, শুক্রবার ইসলামাবাদ উভয় দেশের প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানাবে। এই আলোচনার উদ্দেশ্য হলো একটি ‘নিশ্চিত এবং স্থায়ী’ চুক্তিতে পৌঁছানো। শাহবাজ শরিফ আশা প্রকাশ করেছেন, ‘ইসলামাবাদ টকস’ সফল হবে এবং আগামী দিনগুলোতে বিশ্ববাসীকে আরও সুসংবাদ দেওয়া সম্ভব হবে।
এই সফল মধ্যস্থতার মাধ্যমে পাকিস্তান বিশ্ব দরবারে নিজের অবস্থানকে পুনরায় শক্তিশালী করেছে। একটি অস্থিতিশীল সময়ে দুই বৈরী দেশের (যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান) মধ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার এই কৃতিত্ব শাহবাজ শরিফকে আন্তর্জাতিক মহলে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। গালফ নিউজসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো পাকিস্তানকে এই যুদ্ধের ‘প্রধান ত্রাণকর্তা’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
চ্যালেঞ্জ ও প্রত্যাশা
যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও শুক্রবারের আলোচনা সহজ হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইরানের ১০ দফা পরিকল্পনা এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠিন অবস্থান আলোচনার টেবিলে উত্তাপ ছড়াতে পারে। তবে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আত্মবিশ্বাসী, আলোচনার মাধ্যমেই একটি টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
আপাতত পুরো বিশ্বের নজর এখন ইসলামাবাদের দিকে। শুক্রবারের বৈঠকের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে মধ্যপ্রাচ্য কি দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পথে হাঁটবে নাকি পুনরায় সংঘাতের দাবানল জ্বলে উঠবে।

অবশেষে মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে জ্বালানি পরিবহনের বাধা কাটল। লেবাননের সঙ্গে ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতির পর হরমুজ প্রণালি খুলে দিয়েছে ইরান। এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা পাকিস্তানে শুরু হবে চলতি সপ্তাহেই।
৪ ঘণ্টা আগে
পশ্চিমা বিশ্বের কিছু তরুণ পুরুষের মধ্যে বিদেশে গিয়ে ‘ঐতিহ্যবাহী’ স্ত্রী খোঁজার প্রবণতা বাড়ছে। বিষয়টি ‘পাসপোর্ট ব্রো’ নামে পরিচিত একটি নতুন সামাজিক প্রবণতা হিসেবে আলোচনায় এসেছে। আধুনিক ডেটিং নিয়ে হতাশা থেকে অনেকে এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
৮ ঘণ্টা আগে
আইআরজিসির নৌ কমান্ডের পক্ষ থেকে জাহাজ চলাচলের জন্য যে শর্তগুলো দেওয়া হয়েছে, সেগুলো হলো—নির্দিষ্ট রুট: কেবল বেসামরিক ও বাণিজ্যিক জাহাজগুলো ইরানের নির্ধারিত রুট বা পথ দিয়ে যাতায়াত করতে পারবে। সামরিক জাহাজে নিষেধাজ্ঞা: এই প্রণালি দিয়ে যেকোনো বিদেশি সামরিক জাহাজ চলাচল আগের মতোই কঠোরভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।
৮ ঘণ্টা আগে
রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে এটি (ইউরেনিয়াম) উদ্ধার করতে যাচ্ছি। আমরা ইরানের সঙ্গে মিলে বেশ ধীরস্থিরভাবে সেখানে যাব এবং বড় বড় যন্ত্রপাতি দিয়ে খননকাজ শুরু করব...এরপর আমরা সেগুলো যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসব।’
৯ ঘণ্টা আগে