Ajker Patrika

হরমুজ প্রণালির বাইরে নতুন ‘নিষিদ্ধ’ সামুদ্রিক অঞ্চল ঘোষণা করবে ইরান

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
হরমুজ প্রণালির বাইরে নতুন ‘নিষিদ্ধ’ সামুদ্রিক অঞ্চল ঘোষণা করবে ইরান
ফাইল ছবি

আগামী কয়েক দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালির বাইরে নতুন ‘নিষিদ্ধ’ সামুদ্রিক অঞ্চল ঘোষণা করবে ইরান। দেশটির শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা গতকাল রোববার এ কথা জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, কোনো জাহাজ ওই এলাকায় প্রবেশ করলে সেটিকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রাখা হবে।

তুরস্কের রাষ্ট্র পরিচালিত বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির খবরে বলা হয়েছে, টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই বলেন—নতুন এই অঞ্চলটি মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধরেখা থেকে শুরু হয়ে উপসাগরের কিছু অংশ পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম প্রেস টিভির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

রেজাই বলেন, ‘এই নতুন অঞ্চলে প্রবেশকারী যেকোনো জাহাজকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রাখা হবে।’ তিনি আরও জানান, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ইরান ও ওমান হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে নতুন একটি করিডর চালুর বিষয়ে একটি চুক্তি সই করবে। এই করিডরের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

রেজাই বলেন, হরমুজ প্রণালি ‘সম্পূর্ণ বন্ধ এবং সশস্ত্র বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে’ রয়েছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ এখনও খোলা রয়েছে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে দাবি করেছেন, সেটিকে তিনি ‘বড় মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দেন।

রেজাই বলেন, ইরান প্রণালিটি বন্ধ করার আগে প্রতিদিন ১০ কোটিরও বেশি টন পণ্য বহনকারী ১০০ টির বেশি জাহাজ এই জলপথ দিয়ে চলাচল করত। তবে এখন ইরানের জন্য প্রয়োজনীয় পণ্য বহনকারী মাত্র সাত বা আটটি জাহাজ এই জলপথ দিয়ে চলাচল করছে। তিনি বলেন, ‘আমেরিকানরা বিপুল অর্থ খরচ করে পাঁচ থেকে ছয়টি জাহাজকে পার করে দেওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু এসব জাহাজ সাধারণত হামলার শিকার হয়।’

তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

রেজাই বলেন, এসব জাহাজ তেল বহন করায় ইরান সেগুলো ডুবিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়নি। কারণ জাহাজগুলো ডুবিয়ে দিলে ওই অঞ্চলের পরিবেশের ক্ষতি হবে। তিনি আরও দাবি করেন, ৪৮ ঘণ্টা আগে একটি মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজের ওপর দিয়ে ইরান সফলভাবে নতুন একটি জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। তিনি বলেন, ‘প্রথমবারের মতো আমরা একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজের ওপর দিয়ে আমাদের জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই বিশেষ ক্ষেপণাস্ত্রটি আমেরিকানদের জন্য নরক তৈরি করেছিল এবং তারা পালিয়ে যায়।’

তবে তিনি ওই মার্কিন জাহাজটির পরিচয় জানাননি এবং কোথায় এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানো হয়েছে, সেটিও উল্লেখ করেননি।

অন্যদিকে, ইরানের ওপর মার্কিন অর্থনৈতিক অবরোধের কারণে দেশটিতে ব্যাপক দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে বলে যে দাবি করা হচ্ছে, সেটিও প্রত্যাখ্যান করেন রেজাই। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিকে তিনি বলেন, ‘মার্কিন অর্থনৈতিক অবরোধের কারণে ইরানে বড় ধরনের দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে, এই দাবি একটি বড় মিথ্যা।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইরান সরকার দীর্ঘদিন ধরেই এ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং দেশে পর্যাপ্ত খাদ্য ও প্রয়োজনীয় পণ্যের মজুত রয়েছে।’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকে পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এর জবাবে তেহরান ইসরায়েল এবং পুরো অঞ্চলে থাকা মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনার বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

জুন মাসে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় একটি সমঝোতা স্মারক সই করে। এতে সংঘাত বন্ধের দিকে এগিয়ে যাওয়া, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা নিয়ে সমাধানের পথ তৈরির বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করা হয়।

এরপর দুই দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে ওই সমঝোতা স্মারকের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলেছে। একই সময়ে নিষেধাজ্ঞা এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে বিরোধের পাশাপাশি সামরিক উত্তেজনাও অব্যাহত রয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত