Ajker Patrika

আলী লারিজানির স্থলে বাঘের জোলঘাদরের নিয়োগ কেন গুরুত্বপূর্ণ, সামনে যেসব চ্যালেঞ্জ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৫ মার্চ ২০২৬, ১৪: ২২
আলী লারিজানির স্থলে বাঘের জোলঘাদরের নিয়োগ কেন গুরুত্বপূর্ণ, সামনে যেসব চ্যালেঞ্জ
মোহাম্মদ বাঘের জোলঘাদর। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রয়াত প্রধান আলী লারিজানির স্থলাভিষিক্ত হিসেবে মোহাম্মদ বাঘের জোলঘাদরকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দেশের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রয়াত প্রধান লারিজানি গত সপ্তাহে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হন।

ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থার অন্যতম সংবেদনশীল স্থানে দায়িত্ব পাওয়ায় জোলঘাদরকে এক জটিল নিরাপত্তা পরিস্থিতি পরিচালনা করতে হবে। মূলত যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে ইরানের উপর সামরিক চাপ এবং দেশের অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে তাঁকে।

জোলঘাদরকে ইরানের ক্ষমতা কাঠামোতে ‘দৃঢ় নিরাপত্তা ব্যক্তিত্ব’ হিসেবে দেখা হয়। তিনি ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সাবেক কমান্ডার এবং ২০২৩ থেকে অ্যাডভাইজরি এক্সপেডিয়েন্সি কাউন্সিলের সেক্রেটারি। তার কর্মজীবন তাকে ইরানের নিরাপত্তা সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রস্থলে রাখে।

তিনি আইআরজিসির প্রথম প্রজন্মের সদস্য। এই বাহিনী ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর গঠিত হয়। জোলঘাদর ইরান-ইরাক যুদ্ধেও লড়েছেন। তিনি একাধিক উচ্চপদে কর্মরত ছিলেন। যেমন তিনি আইআরজিসির জয়েন্ট স্টাফের প্রধান হিসেবে ৮ বছর এবং পরবর্তী ৮ বছর সংস্থার ডেপুটি কমান্ডার-ইন-চিফ। এরপর তিনি রাজনৈতিক ও বিচারিক উচ্চপদে দায়িত্ব নেন।

জাতীয় নিরাপত্তা প্রধান হিসেবে জোলঘাদরের নির্বাচন ইরানের জন্য এমন একজনকে প্রয়োজন যিনি লারিজানির জায়গা পূরণ করতে সক্ষম, যিনি দীর্ঘদিন ধরে সরকারের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ হিসেবে বিবেচিত হতেন। তাকে প্রতিস্থাপন করা সহজ ছিল না। এই প্রেক্ষাপটে, জোলঘাদরের নিয়োগকে বর্তমান যুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা উচিত নয়; বরং এটি দীর্ঘ সময়ের একটি প্রক্রিয়ার ফল, যাতে সংবেদনশীল দায়িত্বের জন্য সঠিক গুণাবলীর একজন ব্যক্তি চিহ্নিত করা যায়।

চ্যালেঞ্জসমূহ

ইরানে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের নেতৃত্বের পদটি নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতাবা খামেনির অফিসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত। এই পদে এমন একজন ব্যক্তির প্রয়োজন, যিনি নিরাপত্তা জ্ঞান ও কৌশলগত বিষয় পরিচালনার ক্ষমতা দুটোই রাখতে পারেন। ইরানের কঠোরপন্থীরা জোলঘাদরকে তাঁর শক্তিশালী সামরিক পটভূমির কারণে, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি পরিচালনায় লারিজানির চেয়ে বেশি যোগ্য মনে করতে পারেন।

যুদ্ধের কারণে জোলঘাদরের সামনে কয়েকটি তাৎক্ষণিক পরীক্ষা রয়েছে। দেশব্যাপী শত্রুদের হামলা চলছে। শুধু তেহরান ও ইস্পাহান শহরে নয়, বরং বিশেষ করে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম ইরানে, বিশেষ করে ইস্ট আজারবাইজান প্রদেশে, দেশের পশ্চিম সীমার কাছে। এই হামলাগুলো দেশের অভ্যন্তর থেকে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা হিসেবে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

ইরানি কর্তৃপক্ষ বিদেশি সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতার অভিযোগে শত শত মানুষকে আটক করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি সম্ভাব্য নিরাপত্তা লঙ্ঘন রোধের চেষ্টা। এটির আগে, চলতি বছরের এক প্রতিবাদ আন্দোলনে হাজার হাজার ইরানির মৃত্যু হয়।

আত্মরক্ষার অংশ হিসেবে, তেহরান পুরো অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইরানের গোয়েন্দা সংস্থা আশা করছে, এই হামলার মাধ্যমে তারা ইসরায়েলের গভীর এলাকায় লক্ষ্য নির্ধারণের ক্ষমতা প্রদর্শন করতে পারবে। এছাড়া, ইরান হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল সীমিত করে চাপ বজায় রাখার চেষ্টা চালাচ্ছে, যা ইতিমধ্যেই বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলেছে এবং তেলের দাম বাড়িয়েছে।

মোটের ওপর, এই সমস্ত ঘটনাসমূহ এমন একটি জটিল চিত্র নির্দেশ করছে যেখানে বাহ্যিক সামরিক চাপ এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা একসাথে চলছে। এটি জোলঘাদরকে তার ক্ষমতা পরীক্ষা করার এক প্রাথমিক সুযোগ দেয়। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো যুদ্ধ সমাপ্তি সংক্রান্ত আলোচনায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।

আল জাজিরার সাংবাদিক আলি হাশেম তেহরান থেকে জানিয়েছেন, ‘জোলঘাদরের নিয়োগ ইঙ্গিত দেয় যে ইরানের নেতৃত্ব জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আরও সামরিক স্তর যোগ করার চেষ্টা করছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যে, যে কেউ আলোচনার টেবিলে বসুক না কেন, কোনো সিদ্ধান্ত পাস হওয়ার আগে তাকে জোলঘাদরের অনুমোদন নিতে হবে।’

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত