
ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতে স্ত্রী, পুত্র, কন্যাসহ পরিবারের সবাইকে হারিয়েছেন অনি আবদুল হামিদ। পরে তিনি পালাতে সক্ষম হয়েছিলেন অবরুদ্ধ গাজা থেকে। গাজা যুদ্ধের দুঃসহ স্মৃতি নিয়ে এবার তিনি হজ করতে হাজির হয়েছেন সৌদি আরবের মক্কা নগরীতে। আরব আমিরাত-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ন্যাশনালকে হামিদ বলেন, ‘পবিত্র এই মসজিদের মিনারগুলো যখন দেখলাম, তখন আমি আমার চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। মৃত্যুকে আমি হাজার বার ফাঁকি দিয়েছি।’
গাজা শহরে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি অ্যাম্বুলেন্সের চালক ছিলেন হামিদ। যুদ্ধ শুরুর হওয়ার পরের ৬০ দিন আহত অসংখ্য মানুষকে ধ্বংসস্তূপ থেকে হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছেন তিনি। অ্যাম্বুলেন্সের ভেতর আহত মানুষদের আর্তনাদ এখনো তাঁর কানে বাজে।
হামিদ বলেন, ‘আমি শত শত আহত মানুষকে পরিবহন করেছি। কিন্তু আমি আমার নিজের সন্তানদের হাসপাতালে নিয়ে যেতে পারিনি। বোমার আঘাতে আমার পরিবারসহ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল আমার বাড়িটি। আমার পুরো পরিবার শহীদ হয়েছে।’
বাদশাহ সালমানের আমন্ত্রিত অতিথি হয়ে গাজায় আহত ও নিহত ফিলিস্তিনিদের পরিবারের ১ হাজার সদস্যের একটি দলের সঙ্গে এবার সৌদি আরবে পৌঁছেছেন হামিদ। এই প্রক্রিয়ায় এবার ২ হাজার ফিলিস্তিনি হজ পালনের সুযোগ পাচ্ছেন।
সৌদি আরবে প্রবেশ করে আবদুল হামিদ যে হোটেলে উঠেছেন সেখান থেকে মক্কার পবিত্র মসজিদের মিনারগুলো স্পষ্ট দেখা যায়। গাজার দুর্বিষহ সময়গুলোর স্মৃতিচারণা করে তিনি বলেন, ‘আমার বাড়িতে বোমা বিস্ফোরণ এবং পুরো পরিবার শহীদ হওয়ার পর আমিও গ্রেপ্তার হয়েছিলাম এবং তিন মাস জেলে ছিলাম। ইসরায়েলিদের নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে আমার পায়ের তিনটি আঙুল কেটে ফেলতে হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আল্লাহর দয়ায় আমি জেল থেকে ছাড়া পেয়েছিলাম। এর পরে আমার পায়ে দুটি অপারেশন করতে হয়েছে। আজকে এই পবিত্র ভূমিতে আসার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য আমি খোদার কাছে কৃতজ্ঞ।’
গাজা থেকে আসা দলটিতে ছিলেন আবদুল্লাহ হাসানও। চলমান যুদ্ধে তিনি তাঁর বাবা-মা, বড় ভাই, তিন ছেলে-মেয়ে, দুই বোন এবং সব ভাগনে ভাগনিকে হারিয়েছেন। হাসান বলেন, ‘আমাদের কষ্ট কমাতে এই তীর্থযাত্রায় আমন্ত্রণ জানানোর জন্য সৌদি আরবের নেতৃত্বকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। সম্ভবত এটি আমাদের মনে কিছুটা শান্তি এনে দিতে পারবে।’
গাজার তীর্থযাত্রীদের মধ্যে হারবি আল সুবাইকিরি নামে আরেকজনকে দেখা গেল হোটেলের লবিতে একটি হুইল চেয়ারে করে ঘুরছেন। এমন অসহায় পরিস্থিতির মধ্যে তাঁর চোখে মুখে আনন্দের ঝিলিক। সুবাইকিরি বলেন, ‘আমি ১০ বছর জেলে ছিলাম। তাঁরা আমাকে ৮০০ বছরের সাজা দিয়েছিল, কারণ আমি ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের এক জেনারেল ছিলাম। কখনো কল্পনাও করিনি হজ করার জন্য এখানে আসতে পারব। কিন্তু আল্লাহ সর্ব শক্তিমান। সাম্প্রতিক সংকটের সময় আমি জেল থেকে ছাড়া পাই। কিন্তু বোমার আঘাতে আমি পঙ্গু হয়ে গেছি। হাঁটুর নিচ থেকে আমার পা কেটে ফেলতে হয়েছে। কিন্তু হজ করার জন্য মক্কায় আমন্ত্রণ জানানোর পর আমার কষ্ট কিছুটা লাঘব হয়েছে।’
সুবাইকিরি আরও বলেন, ‘আমার সব যন্ত্রণা কমে গেছে। আমি আরও দৃঢ় সংকল্প এবং আশা নিয়ে গাজায় ফিরে যাব। কারণ একজনের আশা থাকলে সবকিছুই সম্ভব।’
ইতিমধ্যে হজের উদ্দেশে সৌদি আরবের মক্কায় লাখ লাখ মানুষের সমাগম হয়েছে। শুক্রবার থেকে এবারের হজের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। সৌদি কর্মকর্তারা হজের ময়দানে ধর্মীয় ভাব গাম্ভীর্য বজায় রাখার চেষ্টা করছেন, যেন হজ করতে আসা মানুষেরা তাঁদের প্রার্থনায় নিবিষ্ট হতে পারেন। দেশটির হজ ও উমরা মন্ত্রী তওফিক আল-রাবিয়াহ গত সপ্তাহে এক সতর্ক বার্তায় হজের ময়দানে সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছেন।
গত বছরের ৭ অক্টোবর হামাস যোদ্ধারা ইসরায়েলে প্রবেশ করে ১ হাজার ২০০ মানুষকে হত্যা করার পর থেকেই গাজায় বসবাস করা মানুষের ওপর নির্বিচার হামলা শুরু করে ইসরায়েল। এই হামলায় এখন পর্যন্ত গাজায় নিহতের সংখ্যা ৩৭ হাজার ২০০ ছাড়িয়ে গেছে।

ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতে স্ত্রী, পুত্র, কন্যাসহ পরিবারের সবাইকে হারিয়েছেন অনি আবদুল হামিদ। পরে তিনি পালাতে সক্ষম হয়েছিলেন অবরুদ্ধ গাজা থেকে। গাজা যুদ্ধের দুঃসহ স্মৃতি নিয়ে এবার তিনি হজ করতে হাজির হয়েছেন সৌদি আরবের মক্কা নগরীতে। আরব আমিরাত-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ন্যাশনালকে হামিদ বলেন, ‘পবিত্র এই মসজিদের মিনারগুলো যখন দেখলাম, তখন আমি আমার চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। মৃত্যুকে আমি হাজার বার ফাঁকি দিয়েছি।’
গাজা শহরে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি অ্যাম্বুলেন্সের চালক ছিলেন হামিদ। যুদ্ধ শুরুর হওয়ার পরের ৬০ দিন আহত অসংখ্য মানুষকে ধ্বংসস্তূপ থেকে হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছেন তিনি। অ্যাম্বুলেন্সের ভেতর আহত মানুষদের আর্তনাদ এখনো তাঁর কানে বাজে।
হামিদ বলেন, ‘আমি শত শত আহত মানুষকে পরিবহন করেছি। কিন্তু আমি আমার নিজের সন্তানদের হাসপাতালে নিয়ে যেতে পারিনি। বোমার আঘাতে আমার পরিবারসহ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল আমার বাড়িটি। আমার পুরো পরিবার শহীদ হয়েছে।’
বাদশাহ সালমানের আমন্ত্রিত অতিথি হয়ে গাজায় আহত ও নিহত ফিলিস্তিনিদের পরিবারের ১ হাজার সদস্যের একটি দলের সঙ্গে এবার সৌদি আরবে পৌঁছেছেন হামিদ। এই প্রক্রিয়ায় এবার ২ হাজার ফিলিস্তিনি হজ পালনের সুযোগ পাচ্ছেন।
সৌদি আরবে প্রবেশ করে আবদুল হামিদ যে হোটেলে উঠেছেন সেখান থেকে মক্কার পবিত্র মসজিদের মিনারগুলো স্পষ্ট দেখা যায়। গাজার দুর্বিষহ সময়গুলোর স্মৃতিচারণা করে তিনি বলেন, ‘আমার বাড়িতে বোমা বিস্ফোরণ এবং পুরো পরিবার শহীদ হওয়ার পর আমিও গ্রেপ্তার হয়েছিলাম এবং তিন মাস জেলে ছিলাম। ইসরায়েলিদের নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে আমার পায়ের তিনটি আঙুল কেটে ফেলতে হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আল্লাহর দয়ায় আমি জেল থেকে ছাড়া পেয়েছিলাম। এর পরে আমার পায়ে দুটি অপারেশন করতে হয়েছে। আজকে এই পবিত্র ভূমিতে আসার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য আমি খোদার কাছে কৃতজ্ঞ।’
গাজা থেকে আসা দলটিতে ছিলেন আবদুল্লাহ হাসানও। চলমান যুদ্ধে তিনি তাঁর বাবা-মা, বড় ভাই, তিন ছেলে-মেয়ে, দুই বোন এবং সব ভাগনে ভাগনিকে হারিয়েছেন। হাসান বলেন, ‘আমাদের কষ্ট কমাতে এই তীর্থযাত্রায় আমন্ত্রণ জানানোর জন্য সৌদি আরবের নেতৃত্বকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। সম্ভবত এটি আমাদের মনে কিছুটা শান্তি এনে দিতে পারবে।’
গাজার তীর্থযাত্রীদের মধ্যে হারবি আল সুবাইকিরি নামে আরেকজনকে দেখা গেল হোটেলের লবিতে একটি হুইল চেয়ারে করে ঘুরছেন। এমন অসহায় পরিস্থিতির মধ্যে তাঁর চোখে মুখে আনন্দের ঝিলিক। সুবাইকিরি বলেন, ‘আমি ১০ বছর জেলে ছিলাম। তাঁরা আমাকে ৮০০ বছরের সাজা দিয়েছিল, কারণ আমি ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের এক জেনারেল ছিলাম। কখনো কল্পনাও করিনি হজ করার জন্য এখানে আসতে পারব। কিন্তু আল্লাহ সর্ব শক্তিমান। সাম্প্রতিক সংকটের সময় আমি জেল থেকে ছাড়া পাই। কিন্তু বোমার আঘাতে আমি পঙ্গু হয়ে গেছি। হাঁটুর নিচ থেকে আমার পা কেটে ফেলতে হয়েছে। কিন্তু হজ করার জন্য মক্কায় আমন্ত্রণ জানানোর পর আমার কষ্ট কিছুটা লাঘব হয়েছে।’
সুবাইকিরি আরও বলেন, ‘আমার সব যন্ত্রণা কমে গেছে। আমি আরও দৃঢ় সংকল্প এবং আশা নিয়ে গাজায় ফিরে যাব। কারণ একজনের আশা থাকলে সবকিছুই সম্ভব।’
ইতিমধ্যে হজের উদ্দেশে সৌদি আরবের মক্কায় লাখ লাখ মানুষের সমাগম হয়েছে। শুক্রবার থেকে এবারের হজের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। সৌদি কর্মকর্তারা হজের ময়দানে ধর্মীয় ভাব গাম্ভীর্য বজায় রাখার চেষ্টা করছেন, যেন হজ করতে আসা মানুষেরা তাঁদের প্রার্থনায় নিবিষ্ট হতে পারেন। দেশটির হজ ও উমরা মন্ত্রী তওফিক আল-রাবিয়াহ গত সপ্তাহে এক সতর্ক বার্তায় হজের ময়দানে সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছেন।
গত বছরের ৭ অক্টোবর হামাস যোদ্ধারা ইসরায়েলে প্রবেশ করে ১ হাজার ২০০ মানুষকে হত্যা করার পর থেকেই গাজায় বসবাস করা মানুষের ওপর নির্বিচার হামলা শুরু করে ইসরায়েল। এই হামলায় এখন পর্যন্ত গাজায় নিহতের সংখ্যা ৩৭ হাজার ২০০ ছাড়িয়ে গেছে।

গ্রিনল্যান্ডকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক যুদ্ধ এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। আজ সোমবার এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে এনবিসি নিউজ যখন ট্রাম্পকে সরাসরি জিজ্ঞেস করে, তিনি কি সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে গ্রিনল্যান্ড দখল করবেন?
৮ ঘণ্টা আগে
টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে এই তিন কারাগারে প্রায় ৯ হাজার দুর্ধর্ষ আইএস যোদ্ধা, শামীমা বেগমসহ প্রায় ৪০ হাজার নারী ও শিশু রয়েছে। কোনো কারণে এই তিন কারাগারের নিরাপত্তাব্যবস্থা ভেঙে গেলে এই আইএস যোদ্ধারা মুক্ত হয়ে যাবেন এবং বড় ধরনের ‘সন্ত্রাসী বাহিনী’ হিসেবে তাঁদের পুনরুত্থান ঘটাতে পারেন
৮ ঘণ্টা আগে
চিঠিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প লিখেছেন, ‘যেহেতু আপনার দেশ (নরওয়ে) আমাকে আটটির বেশি যুদ্ধ থামানোর পরও নোবেল দেয়নি, তাই আমি আর শান্তির তোয়াক্কা করি না। এখন আমি তা-ই করব, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ভালো ও সঠিক।’
১১ ঘণ্টা আগে
আজ সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে তাকাইচি বলেন, ‘এই নির্বাচনের মাধ্যমে আমি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বাজি রাখছি। জনগণ সরাসরি বিচার করুক—তারা আমাকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিতে চায় কি না।’
১১ ঘণ্টা আগে