Ajker Patrika

বাব এল–মান্দেব দখলের দাবি ইয়েমেনি বাহিনীর, সৌদিতে হামলা ও তাইজে ‘অগ্রগতি’ হুতিদের

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
বাব এল–মান্দেব দখলের দাবি ইয়েমেনি বাহিনীর, সৌদিতে হামলা ও তাইজে ‘অগ্রগতি’ হুতিদের
ইয়েমেনের তায়েজ শহরের পশ্চিমে অবস্থিত জাবাল হান ফ্রন্টের কাছে সৌদি সমর্থনপুষ্ট ইয়েমেন সরকারের সেনারা একত্রিত হয়েছে। ছবি: এএফপি

সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী গতকাল সোমবার দ্রুতগতির অভিযান চালিয়ে বাব এল–মান্দেব প্রণালি ও এর আশপাশের উপকূলীয় এলাকা থেকে মোখা শহর পর্যন্ত অঞ্চল পুনর্দখলের দাবি করেছে। ইয়েমেনি সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত মাসে এসব এলাকার বেশিরভাগ দখল করে নেওয়া ইরান-সমর্থিত হুতিদের সেখান থেকে পিছু হটতে বাধ্য করা হয়েছে।

জবাবে হুতিরা দাবি করেছে, তারা সৌদি আরবের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, রাবিগে সৌদি আরামকোর একটি তেল শোধনাগার, আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং খামিস মুশাইত সামরিক ঘাঁটি। তবে এসব দাবি তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সৌদি আরব ও সৌদি আরামকোও এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধের তাৎক্ষণিক জবাব দেয়নি।

আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের বাহিনী সৌদি আরবের ব্যাপক বিমান হামলার সহায়তায় গতকাল সোমবার রাতে মোখা শহরের উপকণ্ঠে পৌঁছায় বলে সরকারের চারটি সূত্র জানিয়েছে। হুতি যোদ্ধারা তখন পাহাড়ি এলাকার দিকে পিছু হটছিল বলে তারা জানায়। ইয়েমেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, মোখা শহর সরকারি বাহিনীর দখলে এসেছে।

এই অগ্রযাত্রার খবর নিশ্চিত হলে তা গুরুত্বপূর্ণ লোহিত সাগরভিত্তিক তেল পরিবহন রুটে হুতিদের নিয়ন্ত্রণ শিথিল করবে। ইরানের হরমুজ প্রণালি বন্ধের পাশাপাশি বাব এল–মান্দেব ঘিরে পরিস্থিতি ইতিমধ্যে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে। তবে হুতিরা অন্য অবস্থান থেকেও ড্রোন ব্যবহার করে জাহাজে হামলা চালাতে সক্ষম হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতের প্রভাবে দীর্ঘদিনের স্থবির ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ আবার সক্রিয় হওয়ার পর কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশটির বিভিন্ন ফ্রন্টে তীব্র লড়াই চলছে। হুতিরা বাব এল–মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে এবং সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে।

হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটও সোমবার রাতে জানায়, তারা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলবর্তী হোদেইদাহ গভর্নরেটে নৌবাহিনী ব্যবহার করে একটি সামরিক অভিযান চালিয়েছে। এর আগে ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী প্রণালির মুখে **ধুবাব জেলায় একটি বিমানঘাঁটিসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অবস্থান** দখল করেছিল। গত মাসে হুতিরা ওই এলাকা দখল করার পর বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।

সরকারি বাহিনী কতটা এলাকা পুনর্দখল করেছে, তা রয়টার্স স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। ২০১৪ সাল থেকে রাজধানী সানাসহ ইয়েমেনের জনবহুল অনেক এলাকার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা হুতিরা সৌদি-সমর্থিত সরকারের এসব দাবি ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে।

তাইজের কাছে হুতিদেরও অগ্রগতি

এদিকে ইয়েমেনের তৃতীয় বৃহত্তম শহর তাইজের কাছে হুতিরাও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছে। ইয়েমেন সরকারের পাঁচজন সামরিক সূত্র জানিয়েছে, তারা একটি পাহাড়ি সড়কের কিছু অংশের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। এর ফলে সরকারি বাহিনী অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। তবে সরকারের একজন সূত্র এই সড়ক বিচ্ছিন্ন হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। হুতিরা সৌদি আরবের আকাশসীমায় চলাচলকারী বিমান ও অন্যান্য যানবাহনের ওপর হামলারও হুমকি দিয়েছে।

সংঘাত আরও তীব্র হওয়ায় সৌদি আরবের মিত্ররাও পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। সোমবার রিয়াদে অনুষ্ঠিত জরুরি বৈঠকে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় সৌদি আরবে দ্রুত সামরিক বাহিনী ও সামরিক সক্ষমতা মোতায়েন করতে সম্মত হয়েছে। যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ক্রমবর্ধমান এই লড়াই ইয়েমেনের মানবিক সংকটকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। আরব অঞ্চলের সবচেয়ে দরিদ্র দেশ ইয়েমেনে যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়ার পর ১ লাখ ৮৪ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, সোমবার জাতিসংঘের অভিবাসনবিষয়ক সংস্থা এ তথ্য জানিয়েছে।

দক্ষিণ-পশ্চিম ইয়েমেনে সবচেয়ে তীব্র লড়াই

যদিও ইয়েমেনের বিভিন্ন ফ্রন্টে যুদ্ধ চলছে, তবে সবচেয়ে তীব্র লড়াই হচ্ছে দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে। এর মধ্যে রয়েছে বাব এল–মান্দেব প্রণালির কাছের উপকূলীয় এলাকা এবং তাইজের আশপাশের পাহাড়ি অঞ্চল। সরকারের পাঁচটি সামরিক সূত্র জানিয়েছে, হুতিরা তাইজ-এডেন সড়কের একটি কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, ফলে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। রোববার হুতি যোদ্ধারা আল-তুরবাহ শহরের ভেতরেও নতুন করে অগ্রসর হয়েছে বলে তারা জানিয়েছে।

হুতিদের নিয়ন্ত্রিত এক সংবাদ সংস্থা সোমবার এক সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, হুতিরা তাইজ প্রদেশের আল-মাওয়াসিত জেলা থেকে সরকারি বাহিনীকে সরিয়ে দিয়েছে। তারা ইয়েমেনের অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিলের প্রধান আলিমির বাড়ির কাছাকাছি পর্যন্ত পৌঁছে গেছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

সরকারের সামরিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, এসব অগ্রগতির ফলে তাইজ শহরটি হুতি বাহিনী দিয়ে ঘেরাও হয়ে পড়েছে। শহরটির জনসংখ্যা পাঁচ লাখের বেশি এবং সেখানে হাজার হাজার সরকারি বাহিনীর সদস্য অবস্থান করছেন। তাইজ শহরের বাইরে, কিন্তু হুতিদের অবরোধের আওতায় থাকা আল-মুজাফফার এলাকায় একটি পেট্রল স্টেশনের সামনে দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। মানুষ সেখানে জ্বালানি ও রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত