Ajker Patrika

ইরান যুদ্ধের মাঝপথেই ফিরছে ৩০ ঘণ্টা জ্বলতে থাকা সেই মার্কিন রণতরি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৮ মার্চ ২০২৬, ১৮: ৩৬
ইরান যুদ্ধের মাঝপথেই ফিরছে ৩০ ঘণ্টা জ্বলতে থাকা সেই মার্কিন রণতরি
মার্কিন রণতরী জেরাল্ড আর ফোর্ড। ছবি: এএফপি

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান লড়াই থেকে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাচ্ছে। এরই মধ্যে বন্দরের দিকে রওনা দিয়েছে। এমনটাই জানিয়েছেন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক মার্কিন কর্মকর্তা। জাহাজটির লন্ড্রি অংশে আগুন এবং টয়লেট সেকশনে সমস্যা দেখা দেওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। এতে অন্তত ২ নাবিক আহত হয়েছেন, তবে তাদের আঘাত প্রাণঘাতী নয়।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের খবরে বলা হয়েছে, বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় ওই কর্মকর্তা নাম প্রকাশ করতে চাননি। তিনি জানান—জাহাজটি বর্তমানে লোহিত সাগরে অবস্থান থেকে গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের সুদা উপসাগরে যাবে। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে লোহিত সাগরে যাওয়ার পথে জাহাজটি একবার সুদা উপসাগরে থেমেছিল।

মার্কিন নৌবাহিনীর এক মুখপাত্র জাহাজটির অবস্থা বা ফোর্ডের সঙ্গে থাকা গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ারগুলো অঞ্চলে থাকবে কি না সে বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। আরেক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ফোর্ডের ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ লোহিত সাগরেই কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।

এক লাখ টন ওজনের এই পারমাণবিক শক্তিচালিত রণতরীটিতে চার হাজারের বেশি মানুষ রয়েছে। জাহাজে লাগা আগুন সম্পর্কে মার্কিন সামরিক বাহিনী বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে নাবিকদের ৩০ ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছিল এবং ৬০০-এর বেশি ক্রু তাদের শোবার জায়গা হারিয়েছেন।

ফোর্ড মূলত ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে মার্কিন অভিযানে সহায়তা করছিল। পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান অভিযানের আগে এটিকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর নির্দেশ দেন। গত বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্র থেকে রওনা হওয়ার পর থেকে এর মোতায়েনের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে, ফলে এটি স্বাভাবিক ছয় মাসের সফরের তুলনায় অনেক বেশি সময় ধরে সমুদ্রে রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে নির্মিত সবচেয়ে ব্যয়বহুল যুদ্ধজাহাজ এই ফোর্ডের সঙ্গে গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার রয়েছে। এর বিমান উইংয়ে আছে এফ/এ–১৮ই ঈগল, এফ/এ–১৮ই ফ্যালকন সুপার হরনেট যুদ্ধবিমান, ই–২ডি আকাশ সতর্কীকরণ বিমান, এমএইচ–৬০ এস ও এমএইচ–৬০ আর সি–হক হেলিকপ্টার এবং সি–২এ গ্রেহাউন্ড পরিবহন বিমান।

দীর্ঘ সময়ের মোতায়েন নাবিকদের মনোবল কমিয়ে দেয় এবং তাদের পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। গত মাসে প্রকাশিত নৌবাহিনীর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও এই বাস্তবতা স্বীকার করা হয় এবং দীর্ঘ মোতায়েনের মধ্যেও ক্রুদের স্থিতিশীলতা ও প্রস্তুতির প্রশংসা করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘পরিবার থেকে দীর্ঘ সময় দূরে থাকা বাস্তব এবং পরিমাপযোগ্য ত্যাগের বিষয়—এটি নৌবাহিনীর নেতারা স্বীকার করেন।’

জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল পাবলিক রেডিও (এনপিআর) জানায়, জাহাজটির টয়লেট ব্যবস্থায় বারবার ত্রুটি দেখা দিচ্ছে এবং মোতায়েনকালেই প্লাম্বিং সমস্যা তৈরি হয়েছে। নৌবাহিনীর বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাহাজটিতে প্রায় ৬০ লাখবার ফ্লাশ করা হয়েছে, তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সমস্যার জন্য নাবিকদেরই দায়ী করা হয়েছে। ফোর্ডের কমান্ডিং অফিসার ক্যাপ্টেন ডেভিড স্কারোসির উদ্ধৃতি দিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এমন জিনিস ফ্লাশ করার কারণেই জট তৈরি হয়, যা সিস্টেমে দেওয়া উচিত নয়। নাবিকরা সঠিক নিয়ম মানলে সিস্টেম নির্ভরযোগ্যভাবেই কাজ করে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

যুদ্ধ এড়াতে গ্রহণযোগ্য প্রস্তাব দিয়েছিল ইরান, ‘অভিভূত’ হয়েছিল ব্রিটিশরা

অভিনেতা শামস সুমনের জানাজা সম্পন্ন, পরিবার দেশে ফিরলে দাফন

ইরান ও ইউক্রেনের পর আরও এক যুদ্ধের মেঘ জমছে

সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেসের ৯ বগি লাইনচ্যুত, উত্তরের ৫ জেলার সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

শ্রীলঙ্কার গৃহযুদ্ধে হাত ছিল ইসরায়েলের: গোপন নথি প্রকাশ

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত