Ajker Patrika

মাদুরোকে ধরে নিয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র—নিশ্চিত করল ভেনেজুয়েলা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ২০: ৩৫
নিকোলাস মাদুরো। ছবি: এএফপি
নিকোলাস মাদুরো। ছবি: এএফপি

লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে নিজ দেশ থেকে ধরে নিয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবিকে নিশ্চিত করেছেন ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগুয়েজ। তিনি ‘অবিলম্বে’ মাদুরোর জীবিত থাকার প্রমাণ দাবি করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের খবর—নিকোলাস মাদুরোকে আটক করা হয়েছে বলে দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, আমেরিকা ভেনেজুয়েলায় একটি ‘বৃহৎ আকারের হামলা’ চালিয়েছে এবং এর মাধ্যমেই মাদুরোকে বন্দী করা সম্ভব হয়েছে।

আজ শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেন। তিনি জানান, মার্কিন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীকে ধরে ইতিমধ্যেই ভেনেজুয়েলার বাইরে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

ট্রাম্প তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলায় বড় ধরনের সামরিক হামলা চালিয়েছে। তবে এই হামলার প্রকৃতি বা ঠিক কোন স্থানে এই অভিযান চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য এখনো হোয়াইট হাউস বা পেন্টাগন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।

ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী ভেনেজুয়েলা এবং দেশটির নেতা নিকোলাস মাদুরোর ওপর বড় ধরনের একটি সফল হামলা চালিয়েছে। মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীকে বন্দী করা হয়েছে এবং তাঁদের দেশের বাইরে উড়িয়ে নেওয়া হয়েছে। মার্কিন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে এই অভিযানটি পরিচালিত হয়। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে। আজ সকাল ১১টায় মার-এ-লাগোতে একটি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। বিষয়টি নিয়ে আপনাদের মনোযোগের জন্য ধন্যবাদ! প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প।’

এদিকে, ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগুয়েজ টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে বলেছেন, মাদুরোকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং তিনি অবিলম্বে তাঁর জীবিত থাকার প্রমাণ চেয়েছেন। দ্য গার্ডিয়ান বলছে, দেলসি নিকোলাস মাদুরোকে বন্দী করার খবরটি ‘নিশ্চিত’ করেছেন বলে মনে হচ্ছে। তিনি মাদুরো এবং ফার্স্ট লেডি সিলিয়া ফ্লোরেসের ‘বেঁচে থাকার প্রমাণ’ অবিলম্বে জনসমক্ষে হাজির করার দাবি জানিয়েছেন।

ভেনেজুয়েলা সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র কারাকাস, মিরান্ডা, আরাগুয়া এবং লা গুয়াইরায় হামলা করেছে। এটিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘সামরিক আগ্রাসন’ হিসেবে বর্ণনা করেছে মাদুরো সরকার। আজ স্থানীয় সময় রাত ২টার দিকে কারাকাসে কমপক্ষে সাতটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, যার সঙ্গে উড়ন্ত যুদ্ধবিমানের শব্দও শোনা গেছে।

এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিশ্ব রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। লাতিন আমেরিকার এই দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি দীর্ঘকাল ধরেই টালমাটাল ছিল এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মাদুরো সরকারের সম্পর্ক ছিল চরম বৈরী। যদি ট্রাম্পের এই দাবি সত্য হয়, তবে এটি বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক সামরিক ও রাজনৈতিক ঘটনা হিসেবে গণ্য হবে।

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই মাদুরো সরকারের বিরুদ্ধে একনায়কতন্ত্র এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে আসছে ওয়াশিংটন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ায় বিসিসিআইকে ধুয়ে দিয়েছেন ভারতীয় ক্রিকেটার

সিআইএ–এফবিআই এবং এলিট বাহিনী: যেভাবে কয়েক মাসে মাদুরোকে ধরতে ‘অপারেশন অ্যাবসোলিউট রিজলভের’ প্রস্তুতি নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

কলকাতার পেজে লাখো ‘নেগেটিভ রিঅ্যাকশন’

আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের ২০০ বছরের পুরোনো ‘মনরো ডকট্রিন’, কী আছে এতে

ট্রাম্পের নজর কি এবার গ্রিনল্যান্ডে!

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত