Ajker Patrika

কিউবা যাচ্ছে রাশিয়ার দ্বিতীয় তেলবাহী জাহাজ, দখলের আশা কি ছেড়ে দিলেন ট্রাম্প

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
কিউবা যাচ্ছে রাশিয়ার দ্বিতীয় তেলবাহী জাহাজ, দখলের আশা কি ছেড়ে দিলেন ট্রাম্প
কিউবার মাতানজাস বে-তে রাশিয়ার তেলবাহী আনাতলি কলোদকিন ট্যাংকার। ছবি: তাস

যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অর্থনৈতিক অবরোধে বিপর্যস্ত কিউবাকে সহায়তায় এগিয়ে এসেছে রাশিয়া। কিউবার জ্বালানি সংকট নিরসনে একটি সফল অভিযানের পর এবার দ্বিতীয় তেলবাহী জাহাজ পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে মস্কো। রাশিয়ার জ্বালানি মন্ত্রী সের্গেই সিভিলেভ গতকাল বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, কিউবার জন্য দ্বিতীয় কার্গোটি বর্তমানে লোড করা হচ্ছে এবং শিগগিরই তা দ্বীপরাষ্ট্রটির উদ্দেশে রওনা দেবে।

জ্বালানি মন্ত্রী সিভিলেভ বলেন, ‘কিউবা বর্তমানে সম্পূর্ণ অবরোধের মধ্যে রয়েছে, তাদের সবদিক থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু রাশিয়ার একটি জাহাজ সেই অবরোধ ভেঙে সেখানে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। আমরা এখন দ্বিতীয় জাহাজটি পাঠাতে প্রস্তুতি নিচ্ছি। বিপদের এই দিনে আমরা কিউবানদের একা ফেলে আসব না।’

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার প্রায় ৭ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল নিয়ে রাশিয়ার পতাকাবাহী একটি ট্যাংকার কিউবার মাতানজাস তেল টার্মিনালে নোঙর করেছে। গত তিন মাসের মধ্যে এটিই দেশটিতে পৌঁছানো প্রথম বড় ধরনের তেলের চালান।

চলতি বছরের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ঘোষণা দিয়েছিল, যে দেশই কিউবার কাছে তেল বিক্রি বা সরবরাহ করবে, তাদের ওপরই চড়া শুল্ক আরোপ করা হবে। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর এই অবরোধ আরও কঠোর করা হয়। এর ফলে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে কিউবায় ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয়, জ্বালানি রেশন এবং খাদ্য সংকট চলছে।

তবে মানবিক কারণে রাশিয়ার প্রথম জাহাজটিকে প্রবেশের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এ ধরনের ছাড়ের বিষয়গুলো প্রতিটি ঘটনা আলাদাভাবে বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার কিউবার রাজধানী হাভানায় মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে শত শত মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। সাইকেল, মোটরসাইকেল এবং তিন চাকার ছোট যানবাহন নিয়ে বিক্ষোভকারীরা হাভানার বিখ্যাত সমুদ্রপাড়ের রাস্তা দিয়ে মিছিল করে। তারা স্লোগান দেয়—‘কিউবাকে হ্যাঁ বলুন! অবরোধকে না বলুন!’

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ৬২ বছর বয়সী ইভান বেল্ট্রান বলেন, ‘তারা আমাদের শ্বাসরোধ করে মারছে। এটা নিষ্ঠুরতা ছাড়া আর কিছুই নয়।’

সেন্ট পিটার্সবার্গে এক সরকারি সফরে থাকা কিউবার উপ-প্রধানমন্ত্রী অস্কার পেরেজ-অলিভা জানিয়েছেন, জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা আনতে মস্কো ও হাভানা যৌথ প্রচেষ্টা শুরু করেছে। এ ছাড়া কিউবার তেল অনুসন্ধান ও উৎপাদন খাতে রুশ কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণ বৃদ্ধির বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।

এদিকে রাশিয়ার তেল পাঠানো নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত রোববার এক মন্তব্যে বলেন, ‘রাশিয়া কিউবাকে তেল পাঠালে আমার কোনো সমস্যা নেই। কিউবা আসলে শেষ হয়ে গেছে। সেখানকার শাসনব্যবস্থা খুব খারাপ এবং দুর্নীতিগ্রস্ত। তারা এক জাহাজ তেল পেল কি পেল না, তাতে বিশেষ কিছু যায় আসে না।’

বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার এই পদক্ষেপ কেবল কিউবার জ্বালানি সংকট মেটাবে না, বরং বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিপত্যের বিরুদ্ধে মস্কোর একটি শক্তিশালী বার্তা হিসেবেও কাজ করবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত