Ajker Patrika

ভেনেজুয়েলার তেল বেচে লাভের ভাগ নেবে যুক্তরাষ্ট্র, আছে পুরোনো হিসাব

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯: ৪১
মাদুরোকে গ্রেপ্তারের পর ভেনেজুয়েলায় সরকারপন্থীদের বিক্ষোভ। ছবি: দ্য টাইমস
মাদুরোকে গ্রেপ্তারের পর ভেনেজুয়েলায় সরকারপন্থীদের বিক্ষোভ। ছবি: দ্য টাইমস

নিকোলাস মাদুরোকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে দেশটির বিপুল তেলসম্পদ। এক ঘণ্টাব্যাপী সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বারবার বলেছেন—নিকোলাস মাদুরো সরকারের পতনের পর ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান অগ্রাধিকার হবে দেশটির তেল শিল্প পুনর্গঠন এবং সেখানে মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোর প্রবেশ নিশ্চিত করা।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রমাণিত তেলের মজুত ভেনেজুয়েলার, যেখানে প্রায় ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল তেল রয়েছে। এই পরিমাণ তেল বৈশ্বিক মোট মজুতের প্রায় ১৭ শতাংশ। সৌদি আরবের চেয়েও বেশি মজুত থাকার পরও অবকাঠামোর চরম অবক্ষয়, দুর্নীতি, অপব্যবস্থাপনা ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে বর্তমানে ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন খুবই কম।

মাদুরোকে গ্রেপ্তারের পর এক বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা বিশ্বের সবচেয়ে বড় মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোকে সেখানে পাঠাবো। তারা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে ভেঙে পড়া তেল অবকাঠামো ঠিক করবে এবং দেশটির জন্য আয় সৃষ্টি করবে।’ তিনি আরও জানান, এসব কোম্পানি তাদের বিনিয়োগের অর্থ ‘পুনরুদ্ধার’ করবে। ট্রাম্পের বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, মার্কিন তেল কোম্পানির কার্যক্রম নিরাপদ রাখতে প্রয়োজনে মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হতে পারে এবং ক্ষতিপূরণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র তেল বিক্রি থেকে আয়ের একটি অংশ পেতে পারে।

এদিকে ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র জানিয়েছে, দেশটির তেল উৎপাদন আবার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে কমপক্ষে ৫০ বিলিয়ন ডলার বা তার বেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে এবং এটি বাস্তবায়নে বহু বছর সময় লাগবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল উৎপাদক হওয়ায় ভেনেজুয়েলার তেল যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগতভাবে কতটা গুরুত্বপূর্ণ—তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।

ভেনেজুয়েলা তেল বিক্রি করা দেশগুলোর সংগঠন ‘ওপেক’-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। ১৯৭০-এর দশকে দেশটি দৈনিক প্রায় ৩৫ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করত। সেই সময়ে দেশটিতে অ্যাক্সন, গালফ অয়েল ও মোবিল-এর মতো মার্কিন কোম্পানিগুলো আধিপত্য বিস্তার করেছিল। কিন্তু ১৯৭৬ সালে দেশটির তেল শিল্প জাতীয়করণ করা হয়। পরে ১৯৯৯ সালে হুগো শ্যাভেজ ক্ষমতায় এসে তেল খাতে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করেন। এর ফলে অনেক বিদেশি কোম্পানি বিপুল ক্ষতির সম্মুখীন হয় এবং অনেক সম্পদ হারায়।

এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প দাবি করেছেন—ভেনেজুয়েলা একতরফাভাবে মার্কিন সম্পদ ও অবকাঠামো দখল করে তেল বিক্রি করেছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে। তাঁর ভাষায়, ‘আমরা ভেনেজুয়েলার তেল শিল্প গড়ে তুলেছিলাম, আর সমাজতান্ত্রিক সরকার জোর করে তা কেড়ে নিয়েছে।’

বর্তমানে ভেনেজুয়েলা দৈনিক প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করে, যার প্রধান ক্রেতা চীন ও ভারত। ট্রাম্প জানিয়েছেন, চীনে তেল বিক্রি অব্যাহত থাকবে এবং অন্যান্য কোম্পানির কাছেও তেল বিক্রি করা হবে। যদিও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বেশির ভাগ কোম্পানি সেখানে কাজ করতে পারে না, তবে শেভরন একটি সীমিত লাইসেন্সের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলায় কার্যক্রম চালাচ্ছে।

সব মিলিয়ে, ভেনেজুয়েলার তেল শুধু জ্বালানি সম্পদ নয়—ট্রাম্পের দৃষ্টিতে এটি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ক্ষতিপূরণ, ভূরাজনৈতিক প্রভাব এবং ভবিষ্যৎ কৌশলের কেন্দ্রবিন্দু।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত