
তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের মুখে সমাজতান্ত্রিক কিউবায় নজিরবিহীন ও ঐতিহাসিক কিছু মুক্তবাজার নীতি সংস্কারের অনুমোদন দিয়েছে দেশটির ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দেশটির ‘ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি’ বা জাতীয় সংসদে এই জরুরি অর্থনৈতিক প্যাকেজটি পেশ করা হয়েছে, যা খুব দ্রুতই সেখানে পাস হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
১৯৬৫ সাল থেকে একদলীয় কমিউনিস্ট শাসনে থাকা ক্যারিবীয় এই দ্বীপরাষ্ট্রটিতে এই সংস্কারকে একটি যুগান্তকারী ও নাটকীয় পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।
নতুন এই অর্থনৈতিক পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ শিথিল করে বেসরকারি খাতের বিস্তার ঘটানো। এর অধীনে যেসব বড় পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
বেসরকারি উদ্যোগের প্রসার: বেসরকারি ব্যবসার পরিধি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করা এবং প্রবাসী কিউবানদের কাছ থেকে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করা।
আবাসন খাত ও শেয়ার বাজার: কিউবায় প্রথমবারের মতো বেসরকারি আবাসন (রিয়েল এস্টেট) খাতের উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করা। একই সঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে বেসরকারি বাণিজ্যিক উদ্যোগে রূপান্তর করে সেগুলোর শেয়ার ও অংশীদারিত্ব বিক্রির পথ উন্মুক্ত করা।
বেসরকারি ব্যাংকিং: কিউবার একসময়কার সম্পূর্ণ রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত আর্থিক খাতে বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া।
বৃহস্পতিবার কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির এক সভায় দেওয়া টেলিভিশন ভাষণে কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল দেশের চরম অর্থনৈতিক সংকটের জন্য শুধু বাইরের ওপর দায় চাপানোর নীতি থেকে সরে এসেছেন।
দশককাল ধরে মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ট্রাম্প প্রশাসনের কিউবামুখী জ্বালানি সরবরাহ বন্ধের চাপের কথা উল্লেখ করলেও প্রেসিডেন্ট স্বীকার করেন, বর্তমান সংকটের জন্য দেশের অভ্যন্তরীণ কিছু নীতিও দায়ী।
দিয়াজ-কানেল বলেন, ‘আমাদের এমন কিছু বাধা রয়েছে যা বাইরে থেকে আসেনি, এমনকি এগুলো নিষেধাজ্ঞারও অংশ নয়। আমাদের কাজের ধীরগতি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং কিছু নিয়ম-নীতি যারা উৎপাদন করতে চায় তাদের বাধাগ্রস্ত করছে।’
পার্টির কট্টরপন্থীদের পক্ষ থেকে এই সংস্কারের বিরোধিতা আসতে পারে—এমন আভাস দিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত জরুরি এবং প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের দাবি রাখে। এই সংস্কারগুলোর সবকটিতে হয়তো শতভাগ ঐক্যমত্য তৈরি হবে না, কিন্তু এগুলো আর পিছিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।’
উল্লেখ্য, কিউবার সাবেক বিপ্লবী নেতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোও (ফিদেল কাস্ত্রোর ভাই) এই সংস্কার পরিকল্পনাকে সমর্থন জানিয়েছেন।
এই অভ্যন্তরীণ সংস্কার প্রক্রিয়ার মধ্যেই বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) কিউবা সরকারের ওপর চাপ বাড়িয়েছে। ইইউ সংসদে পাস হওয়া একটি প্রস্তাবে প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল এবং দেশটির সামরিক বাহিনী পরিচালিত শক্তিশালী ব্যবসায়িক গোষ্ঠী ‘গায়েসা’-এর শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রস্তাবে কিউবা সরকারের বিরুদ্ধে ‘পদ্ধতিগত দমন-পীড়ন’ চালানোর অভিযোগ এনে দেশটিতে গভীর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবি জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছেন, কিউবা সরকার অর্থনৈতিক সংস্কারের পথে হাঁটলে ওয়াশিংটন তাদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে পারে। তবে কিউবার এই সাম্প্রতিক পদক্ষেপের বিষয়ে মার্কিন প্রশাসন এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
এদিকে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরের পর মার্কিন প্রশাসন এখন কিউবার দিকে নজর দেবে কি না—বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের মুখোমুখি হন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবার ওপর সামরিক হামলা অথবা দেশটিতে একটি ‘বান্ধু ভাবাপন্ন নিয়ন্ত্রণ’ প্রতিষ্ঠার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।
ভ্যান্স সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা কিউবার জনগণকে সুখী ও সফল দেখতে চাই। কিউবা সরকার তাদের কর্মপদ্ধতি কীভাবে পরিবর্তন করতে পারে, তা নিয়ে আমরা এই মুহূর্তে তাদের সঙ্গে আলোচনা করছি।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘তারা যদি বুদ্ধিমান সিদ্ধান্ত নেয়, তবে এই দ্বীপরাষ্ট্রটির সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক অনেক ভালো হবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ‘লিঙ্কন মেমোরিয়াল রিফ্লেক্টিং পুল’ সংস্কারের মাত্র কয়েক দিনের মাথায় এর তলদেশের নীল প্রলেপ চটে যেতে শুরু করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ নির্দেশে কোটি কোটি ডলার ব্যয়ে এই ঐতিহাসিক জলাশয়টির সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার...
১ ঘণ্টা আগে
ইরানের সঙ্গে সদ্য স্বাক্ষরিত মার্কিন চুক্তির বিরোধিতা করায় ইসরায়েলি মন্ত্রিসভার কট্টরপন্থী সদস্যদের নজিরবিহীন ভাষায় সমালোচনা করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, কোনো দেশ কেবল সহিংসতা বা হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে তাদের সব জাতীয় নিরাপত্তা সমস্যার সমাধান করতে পারে না।
৪ ঘণ্টা আগে
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরের পর ইরানের ওপর থেকে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করে নিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রেসিডেন্টের নির্দেশ অনুযায়ী অবরোধ তুলে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
৪ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকটি ইতিমধ্যে ইলেকট্রনিক্যালি স্বাক্ষরিত হওয়ায় সুইজারল্যান্ডে আয়োজিত আনুষ্ঠানিক ‘চুক্তি স্বাক্ষর’ অনুষ্ঠানটি বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের পূর্বনির্ধারিত সুইজারল্যান্ড সফরটিও স্থগিত করা হয়েছে...
১৫ ঘণ্টা আগে