Ajker Patrika

ভারতে কেন নতুন করে আলোচনায় মাওলানা আবুল কালাম আজাদ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ভারতে কেন নতুন করে আলোচনায় মাওলানা আবুল কালাম আজাদ
টানা প্রায় ১১ বছর ভারতের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। ছবি: কংগ্রেসের ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়া

ভারতের প্রথম শিক্ষামন্ত্রী মাওলানা আবুল কালাম আজাদ জীবনে কখনো কোনো স্কুলে পড়েননি। কোনো কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষেও বসেননি। কিন্তু স্বাধীনতার পর ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থার যে ভিত্তি গড়ে ওঠে, তার অন্যতম প্রধান স্থপতি তিনি। তাঁর সময়ে প্রতিষ্ঠিত হয় আইআইটি খড়্গপুর ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষা, প্রাপ্তবয়স্কদের সাক্ষরতা, বিনা মূল্যে বাধ্যতামূলক শিক্ষা, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, নারীশিক্ষা ও বৃত্তির বিস্তারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।

সম্প্রতি ভারতের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হওয়ায় আবুল কালাম আজাদের জীবন ও অবদান আবারও আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে পরীক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি এবং শিক্ষামন্ত্রীর যোগ্যতা নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই তাঁর গল্পটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, আনুষ্ঠানিক শিক্ষার কোনো সনদ না থাকা সত্ত্বেও তিনি এমন সব প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছিলেন, যেগুলো পরবর্তী প্রজন্মের কোটি কোটি শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নির্মাণে ভূমিকা রেখেছে।

বাড়িতেই পড়াশোনা

আবুল কালাম আজাদ ১৮৮৮ সালে মক্কায় একটি ইসলামি আলেম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মাওলানা খাইরুদ্দিন ছিলেন সম্মানিত ধর্মীয় শিক্ষক। পশ্চিমা শিক্ষার প্রতি তাঁর বাবার তেমন আস্থা ছিল না। তাঁর বিশ্বাস ছিল, পশ্চিমা শিক্ষা ধর্মীয় বিশ্বাসকে দুর্বল করে দিতে পারে। তাই আবুল কালাম আজাদকে কোনো স্কুল এমনকি মাদ্রাসাতেও ভর্তি করাননি। বাবাই তাঁকে বাড়িতে পড়াশোনা করান এবং বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষ শিক্ষকদের নিয়োগ দেন।

স্কুলে না গেলেও ছোটবেলা থেকেই আজাদের পড়াশোনার ব্যাপ্তি ছিল অসাধারণ। প্রথমে তিনি ফারসি, পরে আরবি ভাষা ও ধর্মতত্ত্ব পড়েন। এর সঙ্গে দর্শন, জ্যামিতি, গণিত এবং বীজগণিতও শেখেন। ইতিহাসবিদ ইরফান হাবিব তাঁকে ভারতের অন্যতম অসাধারণ স্বশিক্ষিত ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

১০ বছর বয়স হওয়ার আগেই আজাদ ফারসি অভিধান সংকলনের কাজ শুরু করেছিলেন বলে জানা যায়। ১২ বছর বয়সের মধ্যেই তাঁর প্রাথমিক শিক্ষার বড় অংশ শেষ হয়ে যায়। আত্মজীবনী ‘ইন্ডিয়া উইনস ফ্রিডম’-এ আজাদ লিখেছিলেন, ১৬ বছর বয়সের মধ্যে তিনি প্রচলিত শিক্ষাক্রমের পুরো কোর্স শেষ করেছিলেন। এরপর তাঁকে দর্শন, গণিত ও যুক্তিবিদ্যার মতো বিষয়ে প্রায় ১৫ জন শিক্ষার্থীকে পড়ানোর দায়িত্বও দেওয়া হয়।

কিন্তু বাবার নির্ধারিত শিক্ষাক্রম খুব দ্রুতই তাঁর কাছে সীমিত মনে হতে শুরু করে। স্যার সৈয়দ আহমদ খানের লেখা পড়ার পর আজাদ উপলব্ধি করেন, আধুনিক বিশ্বকে বোঝার জন্য বিজ্ঞান, আধুনিক দর্শন ও সাহিত্য সম্পর্কে জ্ঞান থাকা জরুরি। এরপর তিনি গোপনে ইংরেজি শেখা শুরু করেন। প্রথমে একটি বর্ণমালার বই দিয়ে শুরু করে পরে ইংরেজি সংবাদপত্র পড়েন, অভিধানের সাহায্যে নতুন শব্দ শেখেন এবং ইতিহাস ও দর্শনের বই পড়তে থাকেন।

অর্থাৎ তাঁর বিদ্রোহ শুরু হয়েছিল বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে। কর্তৃত্বের কারণে কোনো বিশ্বাসকে অন্ধভাবে মেনে নেওয়ার পরিবর্তে তিনি প্রশ্ন করতে শিখেছিলেন। শিক্ষাকে তিনি দেখেছিলেন নিজের চিন্তাকে প্রসারিত করার একটি মাধ্যম হিসেবে।

কিশোর বয়সে সাংবাদিকতা

আবুল কালাম আজাদের জনজীবন শুরু হয় এমন এক বয়সে, যখন অধিকাংশ মানুষ স্কুলের গণ্ডিও পার হয় না। মাত্র ১৫ বছর বয়সে তিনি ‘লিসান-উস-সিদক’ নামে একটি সাহিত্য ও বুদ্ধিবৃত্তিক মাসিক পত্রিকা সম্পাদনা শুরু করেন। তাঁর লেখা এতটাই পরিচিত হয়ে উঠেছিল যে, তাঁর সঙ্গে দেখা হওয়া অনেকেই তাঁর বয়স দেখে অবাক হতেন।

১৯১২ সালে আজাদ প্রকাশ করেন ‘আল-হিলাল’। উর্দু ভাষায় প্রকাশিত এই পত্রিকায় ব্রিটিশ শাসনের কঠোর সমালোচনা করা হতো। একই সঙ্গে ব্রিটিশ সরকারকে মুসলমানদের রক্ষাকর্তা হিসেবে দেখার প্রবণতার বিরুদ্ধেও অবস্থান নেন আজাদ। তিনি উপনিবেশবিরোধিতা ও স্বাধীনতার প্রশ্নের সঙ্গে হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের বিষয়টি যুক্ত করেন। ফলে ব্রিটিশ শাসকদের কাছে পত্রিকাটি দ্রুতই অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে।

ব্রিটিশ সরকার পত্রিকাটির ওপর জরিমানা ও নিরাপত্তা জামানতের মতো চাপ সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে আজাদ ‘আল-হিলাল’ বন্ধ করে ১৯১৫ সালে ‘আল-বালাগ’ নামে আরেকটি পত্রিকা প্রকাশ শুরু করেন। সেটিও ১৯১৬ সাল পর্যন্ত চলে। পরে ব্রিটিশ সরকার তাঁকে রাঁচির কাছে একটি এলাকায় নির্বাসিত করে।

সাংবাদিকতাই তাঁকে ধর্মীয় পণ্ডিতের ছেলে থেকে একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বে পরিণত করে।

কংগ্রেস, গান্ধী ও স্বাধীনতা আন্দোলন

পরে মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বাধীন কংগ্রেসের স্বাধীনতা আন্দোলনে যুক্ত হন আজাদ। ব্রিটিশবিরোধী কর্মকাণ্ডের কারণে তাঁকে একাধিকবার কারাবরণ করতে হয়। ১৯২৩ সালে মাত্র ৩৫ বছর বয়সে দিল্লিতে কংগ্রেসের বিশেষ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন তিনি। তখন কংগ্রেসের ভেতরে ব্রিটিশদের পরিচালিত আইনসভায় অংশ নেওয়া উচিত কি না, তা নিয়ে মতবিরোধ চলছিল। আজাদ সমঝোতার পথ খুঁজতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

ভারত ভাগের বিরুদ্ধেও তিনি ছিলেন দৃঢ় অবস্থানে। ১৯৩০-এর দশকে যখন ভারতীয় মুসলমানদের একটি অংশ পৃথক রাষ্ট্রের দাবিতে সোচ্চার হচ্ছিল, আজাদ এর বিরোধিতা করেন। তাঁর যুক্তি ছিল, ভারতীয় হিন্দু ও মুসলমান দুটি আলাদা জাতি নয়। ভূখণ্ড, ইতিহাস, ভাষা, অর্থনৈতিক জীবন এবং যৌথ রাজনৈতিক ভবিষ্যতের ভিত্তিতে একটি অভিন্ন জাতি গড়ে উঠতে পারে।

তিনি ইসলামের ইতিহাস থেকেও এর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। তাঁর মতে, ইসলাম মুসলমানদের অমুসলিমদের সঙ্গে একটি অভিন্ন রাজনৈতিক জাতি গঠনে বাধা দেয় না। এ প্রসঙ্গে তিনি মদিনার সনদের উদাহরণ দেন, যেখানে বিভিন্ন ধর্মের মানুষকে নিয়ে একটি রাজনৈতিক সম্প্রদায় গঠনের দৃষ্টান্ত ছিল।

১৯৪০ থেকে ১৯৪৬ সাল পর্যন্ত কংগ্রেস সভাপতি হিসেবে তিনি মুসলিম লীগের পাকিস্তান দাবির বিরোধিতা করেন এবং ক্যাবিনেট মিশন পরিকল্পনার মাধ্যমে ভারতকে এক রাখার চেষ্টা করেন। কিন্তু সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ হয় এবং মাউন্টব্যাটেনের পরিকল্পনায় ভারত ভাগের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। আজাদের ভাষায়, তাঁর ‘সবচেয়ে খারাপ আশঙ্কাই’ সত্যি হয়েছিল।

দেশভাগের ক্ষত নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব

ভারতের স্বাধীনতা আজাদের কাছে আনন্দের বিষয় ছিল না। কারণ স্বাধীনতার মূল্য হিসেবে ভারতকে ভাগ হতে হয়েছিল। ১৯৪৭ সালের আগস্টে স্বাধীনতার উৎসবের মধ্যেও দেশজুড়ে ছিল সাম্প্রদায়িক সহিংসতা, উদ্বাস্তু সংকট ও আতঙ্ক।

কয়েক সপ্তাহ পর দিল্লির জামা মসজিদের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে তিনি ভারতে থেকে যাওয়ার জন্য মুসলমানদের আহ্বান জানান। ভয় কাটিয়ে নিজেদের আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে এবং যে দেশের ইতিহাসের অংশ তাঁরা, সেই দেশেই থাকার আহ্বান জানান আজাদ।

এর মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর অন্তর্বর্তী মন্ত্রিসভায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান আজাদ। ১৯৪৭ সালের আগস্ট থেকে ১৯৫৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে মৃত্যুর আগে পর্যন্ত তিনি ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন।

আইআইটি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

স্বাধীনতার সময় ভারত ছিল দরিদ্র ও ব্যাপকভাবে নিরক্ষর। দেশভাগের ক্ষত তখনো দগদগে। স্কুলের সংখ্যা কম, দক্ষ শিক্ষকের ঘাটতি, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সংস্কার প্রয়োজন এবং লাখ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত।

আজাদ মনে করতেন, শুধু রাজনৈতিক স্বাধীনতা যথেষ্ট নয়। দেশের সম্পদ ও অর্থনীতির উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী, চিকিৎসক, গবেষক ও প্রশিক্ষিত শিল্পকর্মী। তাই কারিগরি শিক্ষাকে তিনি রাষ্ট্র গঠনের মূল অংশ হিসেবে দেখেছিলেন।

ভারতের প্রথম আইআইটি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয় খড়্গপুরে। হিজলি এলাকায় একটি পুরোনো ব্রিটিশ বন্দিশিবিরের জায়গায় এই প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। নলিনী রঞ্জন সরকার কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এটি প্রথমে ‘ইস্টার্ন হায়ার টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট’ নামে বিকশিত হয় এবং ১৯৫১ সালের আগস্টে আনুষ্ঠানিকভাবে আইআইটি খড়্গপুর হিসেবে যাত্রা শুরু করে।

এই প্রতিষ্ঠানে পশ্চিমা বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আদলে শিক্ষা দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায় প্রতিষ্ঠানটির জন্য ১ হাজার ২০০ একর জমি দেন। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আজাদ বলেন, ভারতের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থা মূলত সাহিত্য ও একাডেমিক শিক্ষার ওপর নির্ভরশীল ছিল; অর্থনৈতিক ও বস্তুগত উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় উচ্চমানের বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি জনশক্তি তা তৈরি করতে পারেনি।

তবে ভারতের আইআইটি প্রতিষ্ঠার পুরো কৃতিত্ব একা আজাদকে দেওয়া ঠিক হবে না। নেহরু, বিজ্ঞানী, বিভিন্ন কমিটি, রাজ্য সরকার ও প্রশাসনের অনেকে এতে ভূমিকা রেখেছিলেন। কিন্তু আজাদ ছিলেন সেই মন্ত্রী, যিনি এই যৌথ ভাবনাকে শিক্ষা নীতির অংশে পরিণত করেন। তাঁর সময়ে কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সম্প্রসারিত হয়, প্রযুক্তি শিক্ষার কাঠামো পুনর্গঠিত হয় এবং বৈজ্ঞানিক জনশক্তি তৈরির পরিকল্পনা গুরুত্ব পায়।

ইউজিসি ও সর্বজনীন শিক্ষার ভাবনা

উচ্চশিক্ষাকে কেবল সমাজের অভিজাত শ্রেণির জন্য সীমাবদ্ধ রাখতে চাননি আজাদ। তিনি মৌলিক শিক্ষাকে প্রত্যেক মানুষের জন্মগত অধিকার হিসেবে দেখতেন। বিনা মূল্যে ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা, প্রাপ্তবয়স্কদের সাক্ষরতা, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষায় সরকারি ব্যয় বাড়ানোর পক্ষে ছিলেন তিনি।

তাঁর সময়ে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষা বাজেট প্রায় ২ কোটি রুপি থেকে বেড়ে ৩০ কোটির বেশি হয়। ১৯৪৮ সালে তাঁর উদ্যোগে এস রাধাকৃষ্ণনের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কমিশন গঠিত হয়। এর কাজের ভিত্তিতেই ১৯৫৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন বা ইউজিসি গঠিত হয় এবং ১৯৫৬ সালে এটি আইনি মর্যাদা পায়। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার সমন্বয় ও মান নির্ধারণে ইউজিসি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

শিক্ষাকে তিনি শুধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি। তাঁর সময়ে সাহিত্য, চারুকলা ও সংগীতের জন্য সাহিত্য আকাদেমি, ললিত কলা আকাদেমি ও সংগীত নাটক আকাদেমির মতো প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। ভারতীয় সংস্কৃতি ও আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক যোগাযোগ জোরদারে প্রতিষ্ঠিত হয় ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশনস বা আইসিসিআরও।

আনুষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে থেকেও শিক্ষার স্থপতি

আবুল কালাম আজাদের জীবনের সবচেয়ে বড় বৈপরীত্য সম্ভবত এখানেই। তিনি কোনো স্কুলে যাননি, কোনো কলেজে পড়েননি, কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি অর্জন করেননি। অথচ স্বাধীন ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থার বড় বড় প্রতিষ্ঠান তৈরির পেছনে তাঁর ভূমিকা অসামান্য।

তবে তাঁর জীবনকে আনুষ্ঠানিক শিক্ষার বিরুদ্ধে যুক্তি হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। তিনি নিজে প্রতিষ্ঠানবহির্ভূত একজন অসাধারণ স্বশিক্ষিত মানুষ। কিন্তু তাঁর কাজ ছিল এমন একটি রাষ্ট্রীয় শিক্ষা কাঠামো তৈরি করা, যেখানে তাঁর মতো ব্যতিক্রমী প্রতিভার পাশাপাশি সাধারণ মানুষও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ পাবে।

প্রায় ১১ বছর ভারতের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থেকে তিনি যে প্রতিষ্ঠানগুলোর ভিত্তি তৈরি করেছিলেন, সেগুলো পরবর্তী দশকগুলোতে দেশটির বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, উচ্চশিক্ষা ও সংস্কৃতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাঁর উত্তরাধিকার তাই শুধু একজন শিক্ষামন্ত্রীর নয়; বরং এমন একজন রাষ্ট্রনায়কের, যিনি নিজের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার অভাবকে সীমাবদ্ধতা হিসেবে না দেখে একটি পুরো দেশের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কাজে ব্যবহার করেছিলেন।

যে মানুষটি জীবনে কখনো স্কুলের বেঞ্চে বসেননি, তিনিই স্বাধীন ভারতের জন্য এমন এক শিক্ষাব্যবস্থার স্বপ্ন দেখেছিলেন, যেখানে কোটি কোটি মানুষ স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণাগার ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিজেদের ভবিষ্যৎ তৈরি করতে পারবে। এ কারণেই ভারতের শিক্ষা ইতিহাসে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের নাম এতো উজ্জ্বল।

ইন্ডিয়া টুডেতে প্রকাশিত সাংবাদিক সুশীম মুকুলের লেখা থেকে অনুবাদ করেছেন জগৎপতি বর্মা

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত