Ajker Patrika

গ্রীষ্মের তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড পশ্চিম ইউরোপে

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২৬, ১৮: ১৮
গ্রীষ্মের তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড পশ্চিম ইউরোপে
ছবি: এএফপি

তীব্র তাপপ্রবাহ, দীর্ঘস্থায়ী খরা ও ভয়াবহ দাবানলের মধ্যেই চলতি গ্রীষ্মে পশ্চিম ইউরোপে তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। সোমবার (১০ আগস্ট) ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস’ জানিয়েছে, এবার জুন ও জুলাই—গ্রীষ্মের এই প্রথম দুই মাস পশ্চিম ইউরোপের ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণ ছিল।

এই দুই মাসে পশ্চিম ইউরোপের গড় তাপমাত্রা ছিল ২১ দশমিক ৬২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিক গড়ের চেয়ে প্রায় ২ দশমিক ৭৯ ডিগ্রি বেশি। এর মধ্য দিয়ে ২০২২ সালের আগের তাপমাত্রার রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছে এই অঞ্চল।

কোপার্নিকাস জানিয়েছে, মেরু অঞ্চল বাদে বিশ্বের সমুদ্রগুলোর জন্যও ইতিহাসের উষ্ণতম মাস ছিল এবারের জুলাই। আটলান্টিক মহাসাগর ও পশ্চিম ভূমধ্যসাগরের বিস্তীর্ণ এলাকায় সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। এতে সামুদ্রিক প্রাণবৈচিত্র্য ও উপকূলীয় জনপদ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরে গড়ে ওঠা শক্তিশালী ‘সুপার এল নিনো’ পরিস্থিতিও এই উষ্ণতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।

ইউরোপে চলতি বছর একের পর এক প্রাণঘাতী তাপপ্রবাহ দেখা দিয়েছে। এই সপ্তাহেও নতুন করে তাপমাত্রা বৃদ্ধির পূর্বাভাস রয়েছে। ব্লুমবার্গের সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ইউরোপে অতিরিক্ত গরমে ২৫ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, তীব্র গরম ও দীর্ঘস্থায়ী খরা একে অপরকে আরও তীব্র করেছে। মাটির আর্দ্রতা কমে গেলে প্রাকৃতিকভাবে ঠান্ডা রাখার ক্ষমতা কমে যায়, ফলে তাপ আরও সহজে জমা হয়। জুলাইয়ে পশ্চিম ইউরোপের মাটির আর্দ্রতা ২০২২ সালের চরম খরার সময়ের চেয়েও উল্লেখযোগ্যভাবে কম ছিল। ফ্রান্স ও স্পেন এবং জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের কিছু এলাকায় বৃষ্টিপাত ও মাটির আর্দ্রতার ঘাটতি ছিল নজিরবিহীন।

এই পরিস্থিতিতে দাবানলও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ইইউর ৬ আগস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্পেন, ফ্রান্স, ইতালিসহ ইউরোপে এ বছর দাবানলে ১২ লাখ ৩০ হাজার একরের বেশি জমি পুড়ে গেছে এবং কয়েক লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হয়েছে।

খরা ও তাপপ্রবাহে ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ নদী—সেন, রাইন ও দানিয়ুবের পানিও আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। দানিয়ুবের পানির স্তর কমে যাওয়ায় নদীর পানিতে শীতল করতে হয় এমন কয়েকটি পারমাণবিক চুল্লি সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে হাঙ্গেরি ও রোমানিয়া।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ভবিষ্যতে নদীগুলোর পানির স্তর আরও কমতে পারে। ফলে ইউরোপে পানি ব্যবস্থাপনা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত