Ajker Patrika

মাদুরোর আমলে সুইজারল্যান্ডের কাছে ১১৩ টন সোনা বিক্রি, নেপথ্যে কী

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১২: ৫৩
নিকোলাস মাদুরো। ছবি: এএফপি
নিকোলাস মাদুরো। ছবি: এএফপি

নিকোলা মাদুরোর শাসনামলের শুরুর দিকে ভেনেজুয়েলা থেকে সুইজারল্যান্ডে বিপুল পরিমাণ সোনা পাচার করা হয়েছিল। সুইজারল্যান্ডের শুল্ক দপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, ওই সময়ে প্রায় ৫২০ কোটি ডলার মূল্যের সোনা সুইজারল্যান্ডে পাঠিয়েছিল দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের হাতে আসা নথির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালে মাদুরো ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত মোট ১১৩ টন সোনা সুইজারল্যান্ডে পৌঁছায়। সুইজারল্যান্ডের সম্প্রচারমাধ্যম এসআরএফ জানিয়েছে, এই সোনার উৎস ছিল ভেনেজুয়েলার কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তখন দেশটির অর্থনীতি চরম সংকটের মুখে ছিল, আর সেই পরিস্থিতি সামাল দিতেই সরকার সোনার মজুত বিক্রি করে দেওয়ার পথ বেছে নিয়েছিল।

তবে ২০১৭ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর এই চিত্র বদলে যায়। শুল্ক তথ্য বলছে, ২০১৭ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ভেনেজুয়েলা থেকে সুইজারল্যান্ডে আর কোনো সোনা রপ্তানি হয়নি। উল্লেখ্য, ৩ জানুয়ারি কারাকাসে এক ঝটিকা অভিযানে মার্কিন বিশেষ বাহিনী মাদুরোকে বন্দী করে ধরে নিয়ে যায়। বর্তমানে মাদক পাচার ও নারকো-টেররিজমের অভিযোগে নিউইয়র্কের একটি আদালতে তাঁর বিচার চলছে।

এদিকে গত সোমবার সুইজারল্যান্ড সরকার মাদুরো এবং তাঁর ৩৬ জন ঘনিষ্ঠ সহযোগীর নামে থাকা সব সম্পদ জব্দের নির্দেশ দিয়েছে। তবে এই সম্পদের পরিমাণ কত কিংবা এর সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সেই সোনার কোনো সরাসরি যোগসূত্র আছে কি না, সে বিষয়ে সুইজারল্যান্ড এখনো মুখ খোলেনি।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভেনেজুয়েলা তাদের রিজার্ভের সোনা মূলত প্রক্রিয়াকরণ ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য সুইজারল্যান্ডে পাঠিয়েছিল। কারণ, সুইজারল্যান্ড হলো বিশ্বের অন্যতম প্রধান সোনা পরিশোধন কেন্দ্র, যেখানে পাঁচটি বড় রিফাইনারি রয়েছে। কিন্তু মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চাপে পড়ে ও বৈদেশিক মুদ্রা জোগাড় করতে গিয়ে ভেনেজুয়েলা তাদের এই মহামূল্যবান সম্পদ হাতছাড়া করতে বাধ্য হয়।

বাজার বিশ্লেষক রোনা ও’কনেল জানান, ২০১২ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ভেনেজুয়েলা একপ্রকার মরিয়া হয়েই সোনা বিক্রি করেছিল। যার বড় একটি অংশ সুইজারল্যান্ডে যায়। পরবর্তী সময়ে এই সোনা হয়তো বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের হাতে চলে গেছে কিংবা ছোট বার হিসেবে এশিয়া বা বিশ্বের অন্য বাজারে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।

রোনা ও’কনেল বলেন, তবে ২০১৮ সালে সুইজারল্যান্ডও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা মেনে নেওয়ায় এই বাণিজ্যিক পথটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ও’কনেল মনে করেন, নিষেধাজ্ঞার চেয়েও বড় বিষয় হলো—তত দিনে ভেনেজুয়েলার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সোনার ভান্ডার সম্ভবত একেবারেই ফুরিয়ে গিয়েছিল।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

ভেনেজুয়েলার বিনিময়ে ২০১৯ সালেই ট্রাম্পের কাছে ইউক্রেন চেয়েছিল রাশিয়া

৬৬ জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নিচ্ছেন ট্রাম্প

জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমানে ভর করে আইএমএফের ঋণ থেকে মুক্তি চায় পাকিস্তান

বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে ‘গায়েব’ করে দিল আইসল্যান্ড

একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে ৬২ বছর বয়সে গর্ভধারণ, ভাইরাল নারী

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত