Ajker Patrika

গদি ছাড়, ভোট চোর—রাহুলের নেতৃত্বে দিল্লিতে লাখো মানুষের বিক্ষোভ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২৬, ২০: ০৬
গদি ছাড়, ভোট চোর—রাহুলের নেতৃত্বে দিল্লিতে লাখো মানুষের বিক্ষোভ
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে বিক্ষোভকারীরা। ছবি: এক্স

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রতিবাদে লাখো মানুষের বিক্ষোভ হয়েছে। রোববার (১ নভেম্বর) বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃত্বে আয়োজিত এই বিক্ষোভ থেকে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিও তোলা হয়। বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে এমনভাবে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে, যা ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) সুবিধা দিচ্ছে।

গত এক মাস ধরে দেশজুড়ে ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিরোধ ও রাজপথে আন্দোলন চলছে। নির্বাচন কমিশনের দাবি, সঠিক ভোটার তালিকা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে বিরোধীরা বলছে, এর মাধ্যমে বিজেপির পক্ষে ভোটের সমীকরণ বদলানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

আজ কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে বিক্ষোভকারীরা ‘ভোট চোর, গদি ছাড়’ স্লোগান দিতে দিতে নয়াদিল্লির কেন্দ্রীয় এলাকা থেকে রামলীলা ময়দানের দিকে মিছিল করেন। রাহুল গান্ধী খোলা ছাদের একটি জিপে করে সমাবেশস্থলে যান। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ঢোলও বাজান।

সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় রাহুল গান্ধী জানান, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার বিষয়টি তাঁরা মেনে নেবেন না। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে ভারতের প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার চুরি করা হয়েছে। রাহুল বলেন, এই বিক্ষোভ কোনো রাজনৈতিক দলের নয়; এটি গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষায় ভারতের মানুষের বিক্ষোভ।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য ও বিরোধী দলগুলোর আদালতে দেওয়া নথি অনুযায়ী, ভোটার তালিকা সংশোধনের ফলে ১৩ কোটি ৩০ লাখের বেশি নাম বাদ পড়েছে। বিরোধীদের দাবি, বাদ পড়াদের মধ্যে সংখ্যালঘু, বিশেষ করে মুসলিমদের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি।

এদিকে বিজেপির নেতারা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন, প্রতিবেশী বাংলাদেশ থেকে আসা বিপুলসংখ্যক নথিবিহীন মুসলিম অভিবাসী জালিয়াতির মাধ্যমে ভারতের ভোটার তালিকায় নাম তুলেছেন।

তবে নির্বাচন কমিশন বলছে, ভোটার তালিকা থেকে একই ব্যক্তির একাধিক নাম, মৃত ব্যক্তিদের নাম ও ভুয়া নিবন্ধন বাদ দেওয়াই এই সংশোধনের উদ্দেশ্য। যোগ্য ভোটারদের তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য আবেদন করার সুযোগও রয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।

নন্দিতা নামে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ৪৬ বছর বয়সী এক নারী জানান, ১৮ বছর বয়স থেকে ভোটার থাকা সত্ত্বেও তাঁর নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে, তাতে শান্তিপূর্ণভাবে রাস্তায় নামা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।

এদিকে বিরোধীদের বিক্ষোভের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিজেপি নেতারা। দলটির জ্যেষ্ঠ নেতা ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী জগৎ প্রকাশ নাড্ডা এই সমাবেশকে ‘পরাজিত’ রাজনৈতিক শক্তিগুলোর পরিকল্পিত নাটক বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, দেশকে অরাজকতার দিকে ঠেলে দেওয়ার জন্য এটি একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।

অন্যদিকে নয়াদিল্লির রাজনৈতিক বিশ্লেষক রশিদ কিদওয়াই বলেন, আজকের বিক্ষোভে লাখো মানুষের উপস্থিতি কংগ্রেসকে বড় ধরনের রাজনৈতিক গতি দিয়েছে। ধারাবাহিক নির্বাচনী ব্যর্থতার পর দলটি আবারও জনসমর্থন ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছে। এর পাশাপাশি রাহুল গান্ধীকে ঘিরে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। যাঁরা দীর্ঘদিন তাঁকে গুরুত্ব দেননি, তাঁরাও এখন তাঁর কথা শুনছেন।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ১৯ বছর বয়সী শিক্ষার্থী জয়শ্রী রায় বলেন, মানুষ নিজেদের অধিকারের দাবি জানাতে থাকলে সরকারকে একসময় শুনতেই হবে। তাঁর ভাষায়, বিপুলসংখ্যক মানুষকে বারবার রাস্তায় নামতে হবে—এটাই তাঁদের হাতে থাকা শক্তি।

তথ্যসূত্র: এএফপি

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত