Ajker Patrika

পুলিশের লাঠিপেটার এক দিন পর ফের দিল্লির জন্তর মন্তর দখল ‘ককরোচদের’

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২১ জুলাই ২০২৬, ১২: ২৩
পুলিশের লাঠিপেটার এক দিন পর ফের দিল্লির জন্তর মন্তর দখল ‘ককরোচদের’
পুলিশ লাঠিপেটা করে সরিয়ে দেওয়ার একদিন পর তরুণেরা আবারও দিল্লির জন্তর মন্তরে অবস্থান নিয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের রাজধানী দিল্লির জন্তর মন্তরের নিয়ন্ত্রণ আবারও নিজেদের হাতে নিয়েছে তরুণদের প্ল্যাটফর্ম ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। গতকাল সোমবারের সংঘর্ষের পর পুলিশ সেখানে লাঠিপেটা করে মঞ্চ ও তাঁবু সরিয়ে দিলেও মঙ্গলবার সকালে বিক্ষোভকারীরা ফের সেখানে জড়ো হয়ে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। জাতীয় রাজধানী দিল্লিতে এক দিনের নাটকীয় ঘটনার পর প্ল্যাটফর্মটি এই ঘোষণা দিল।

আজ মঙ্গলবার সকালে বিক্ষোভকারীরা আবারও যন্তর মন্তরের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেন। এর আগে সোমবার দিনভর বিক্ষোভ ও পুলিশ-বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের পর দিল্লি পুলিশ যন্তর মন্তরে নির্মিত মঞ্চ ও তাঁবু সরিয়ে দেয়। সোমবার রাতে সিজেপি বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানালে, মঙ্গলবার ভোর থেকেই বিক্ষোভকারীরা যন্তর মন্তরে জড়ো হতে শুরু করেন। ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক দিল্লি পুলিশ ও র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের সদস্য মোতায়েন ছিল।

সোমবারের ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিকে ঘিরে জাতীয় রাজধানীতে নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। হাজার হাজার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী রাস্তায় নেমে এলে বিশৃঙ্খলা, মুখোমুখি সংঘর্ষ এবং পুলিশের অভিযানের ঘটনা ঘটে। পুলিশ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিপেটা ও টিয়ার গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করলে ৬০ জনের বেশি বিক্ষোভকারী আহত হন। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা সংসদ ভবনের মাত্র কয়েক মিটারের মধ্যে পৌঁছে যান।

পুলিশ জানিয়েছে, সোমবারের মিছিলে প্রায় ৭০ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি সহিংসতা ও ভাঙচুরের অভিযোগে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এক বিবৃতিতে দিল্লি পুলিশ দাবি করেছে, বিক্ষোভকারীরা ‘উচ্ছৃঙ্খল, আক্রমণাত্মক ও সহিংস’ আচরণ করেছে। তাদের আরও দাবি, বারবার সতর্কবার্তা ও আইনসম্মত নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও বিক্ষোভকারীরা সরে যেতে অস্বীকৃতি জানায় এবং জারিকৃত নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে।

অন্যদিকে বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচির সময় দিল্লি পুলিশ অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে এবং এতে বহু শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। বিশৃঙ্খলা, সংঘর্ষ ও স্লোগানবাজির মধ্যেই সোমবার আন্দোলনের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে সরকার। মোদি সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা গতকাল সোমবার দুপুরে তাঁর বাসভবনে সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস ও অশুতোষ রাঙ্কার সঙ্গে বৈঠক করেন। তিনি তাঁদের দাবিগুলো শোনেন এবং আন্দোলন প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।

সিজেপির প্রতিনিধিদল কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কাছে তিনটি দাবি উত্থাপন করে—সোনম ওয়াংচুককে তাঁর চলাফেরার ওপর কোনো বিধিনিষেধ ছাড়াই মুক্তি দিতে হবে, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে এবং নিট (NEET)-এর ২০২৬ সালের প্রশ্নপত্র ফাঁসের পর আত্মহত্যা করা সব পরীক্ষার্থীর পরিবারকে এক কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

নাড্ডা তাঁদের দাবিগুলো স্বীকার করে নেন এবং এক্সে শেয়ার করা এক পোস্টে জানান, বিকেল প্রায় ৪টার দিকে সিজেপি নেতারা তাঁর কাছে একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, সিজেপি সরকারের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়ার পরই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠক শেষে সিজেপির সৌরভ দাস বলেন, ‘মন্ত্রী আমাদের আশ্বস্ত করেছেন যে তিনি বিষয়টি যথাযথ পর্যায়ে আলোচনা করবেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি। আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীরা থামবে না।’

এদিকে সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকও ঘোষণা দিয়েছেন, তরুণ আন্দোলনকারী নেতাদের সংসদ ভবনে সংসদ সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া না হলে, অথবা দিল্লির যে হাসপাতালে তিনি ভর্তি রয়েছেন, সেখানে সংসদ সদস্যরা তাঁর সঙ্গে দেখা করতে না এলে, তিনি অনশন চালিয়ে যাবেন। ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর স্বামীর হাতে লেখা একটি বার্তা প্রকাশ করেছেন, যেখানে তিনি আন্দোলনকারীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন।

চিঠিতে ওয়াংচুক লিখেছেন, ‘আমি আমার অনশন চালিয়ে যাব। শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনরত তরুণদের সঙ্গে যেভাবে নির্মম আচরণ করা হচ্ছে, তা দেখে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে তরুণ নেতাদের সংসদ ভবনে গিয়ে সংসদ সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া না হলে, অথবা আমাকে হাসপাতালে এসে তাদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ না দেওয়া হলে, আমি আমার অনশন অব্যাহত রাখব।’ ওই হাতে লেখা বার্তায় সোনম ওয়াংচুকের স্বাক্ষরও ছিল।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত