Ajker Patrika

অবশেষে পদত্যাগ করলেন ভারতের শিক্ষামন্ত্রী

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২৬, ১৫: ৫৮
অবশেষে পদত্যাগ করলেন ভারতের শিক্ষামন্ত্রী
ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। ছবি: সংগৃহীত

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিট-ইউজি-এ প্রশ্নপত্র ফাঁস ও নানা অনিয়মের ঘটনায় দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের তীব্র আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান।

আজ শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি দীর্ঘ বার্তা প্রকাশ করে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিবৃতিতে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, পদত্যাগ করা তাঁর জন্য কোনো ‘ব্যক্তিগত মর্যাদার বিষয় নয়’; বরং তরুণ সমাজ ও দেশের বৃহৎ স্বার্থেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এক্স পোস্টে দেওয়া বিবৃতিতে ধর্মেন্দ্র প্রধান লেখেন, ‘বিগত ১০ দিনের ঘটনাবলিতে আমি গভীরভাবে ব্যথিত। তরুণ সমাজ কেবল ভারতের ভবিষ্যৎ নয়, তাঁরা নতুন ও উন্নত ভারতের কারিগর। যন্তর মন্তরসহ দেশজুড়ে তৈরি হওয়া বর্তমান পরিস্থিতি এবং কোনো দেশবিরোধী শক্তি যাতে এর সুযোগ নিতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি।’

ধর্মেন্দ্র প্রধান জানান, শিক্ষার্থীরা যাতে কোনো বিভ্রান্তির জালে না পড়েন এবং তাঁদের ভবিষ্যৎ দীর্ঘমেয়াদি আইনি জটিলতায় আটকে না যায়, সে কারণেই তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

বিবৃতিতে নিট পরীক্ষা নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী জানান, গত ৩ মে অনুষ্ঠিত নিট-ইউজি পরীক্ষায় অনিয়মের বিষয়টি নজরে আসার পরপরই কেন্দ্রীয় সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছিল। বিষয়টি তদন্তের জন্য কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআইয়ের হাতে সোপর্দ করা হয় এবং পরীক্ষা বাতিল ঘোষণা করা হয়।

পরে ২১ জুন দেশজুড়ে পুনঃপরীক্ষা গ্রহণ করা হয় এবং ১৬ জুলাই ফলাফল প্রকাশ করা হয়। ধর্মেন্দ্র প্রধান দাবি করেন, শত প্রতিকূলতার মধ্যেও অসচ্ছল ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বহু মেধাবী শিক্ষার্থী এই পরীক্ষায় সাফল্য অর্জন করেছেন।

তবে পুরো প্রক্রিয়া চলাকালে দায়িত্বশীল পদে থাকা কিছু ব্যক্তি শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

কয়েক দিন ধরে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরসহ ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিচার এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন বিক্ষোভ প্রদর্শন করছিল।

বিশেষ করে রাজধানীর যন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) নেতৃত্বে চলা লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি করে।

প্রাথমিকভাবে সরকার ও ক্ষমতাসীন দল বিজেপি শিক্ষামন্ত্রীর পাশে দাঁড়ালেও আন্দোলনের তীব্রতা বৃদ্ধির মুখে অবশেষে তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিলেন।

বার্তার শেষ ভাগে চার দশকের রাজনৈতিক জীবনে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কল্যাণে কাজ করার কথা স্মরণ করে ধর্মেন্দ্র প্রধান জানান, পদত্যাগ করলেও তিনি সাধারণ মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখবেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত