ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে আদিবাসীদের জন্য গঠিত ত্রিপুরা উপজাতি এলাকা উন্নয়ন স্বশাসিত পরিষদ বা এডিসি ভোটে হারের পথে বিজেপি। এডিসি ভোটে জয়জয়কার ত্রিপুরার ‘মহারাজা’ প্রদ্যোতকিশোর দেববর্মণের নবগঠিত তিপ্রা মুথার (সংঘ)।
রাজ্যের ৬৬ শতাংশ এলাকা নিয়ে বিস্তৃত এই এডিসি ভোট ছিল ক্ষমতাসীন বিজেপি-আইপিএফটি জোটের কাছে ‘মর্যাদার লড়াই’। কিন্তু পুরো ধরাশায়ী বিজেপি-জোট।
বাম ও কংগ্রেস ত্রিপুরায় এখনও জোট করেনি। তবু দু-দলের কাছেই এডিসি এলাকায় নিজেদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা ছিল। কিন্তু ব্যর্থ বাম ও কংগ্রেস। অথচ এক সময়ে ত্রিপুরায় বামেদের মূল শক্তিই ছিল উপজাতি এলাকায়।
এডিসির ২৮টি আসনের মধ্যে সাবেক প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি, ত্রিপুরার রাজবাড়ির উত্তরসূরী প্রদ্যোতের তিপ্রা মুথা জিতেছে ১৯টি আসনে। অন্যদিকে বিজেপি জিতেছে সাতটি আসনে। একটি আসনে জিতেছে তাদের জোট সঙ্গি আইপিএফটি।
স্বতন্ত্র প্রার্থী একটি আসনে জিতলেও বাম বা কংগ্রেস একটি কেন্দ্রেও জিততে পারেনি। এই জয় রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের জন্ম দেবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেছেন। ত্রিপুরা উন্নয়নই হবে তাঁদের প্রধান লক্ষ্য, বলেছেন প্রদ্যোত।
উল্লেখ্য, গতকাল শুক্রবারই বিজেপি আশ্রিত দুর্বৃত্তরা তাঁকে আক্রমণ করে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিজেপি সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে বলে বিরোধীদের অভিযোগ।
নিজেরা জিততে না পারলেও বিজেপির হারে খুশি বাম ও কংগ্রেস। সিপিএম নেতা পবিত্র করের মতে, রাজ্যের মানুষ বিজেপির ওপর ক্ষিপ্ত। এই ফলাফল সেটাই প্রমাণ করে। আর বামেদের হতাশজনক ফলের জন্য বিজেপির সন্ত্রাসকেই দায়ী করেন তিনি।
সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও প্রবীণ কংগ্রেস নেতা সমীররঞ্জন বর্মনের মতে, বিজেপির পতন শুরু হয়ে গেছে। কেউ আটকাতে পারবে না।
২০২৩ সালে ত্রিপুরায় বিধানসভার ভোট। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লবকুমার দেব ও উপমুখ্যমন্ত্রী জিষ্ণু দেববর্মা কোভিডে আক্রান্ত। এই অবস্থায় তাঁদের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হারের কারণ দলীয় স্তরে বিশ্লেষণ করা হবে।










