ত্রিপুরা সীমান্তে ৩ বিএসএফ সদস্যকে বেধড়ক পেটাল গ্রামবাসী

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সিপাহীজলা জেলায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাচালানকারী সন্দেহে এক ব্যক্তিকে আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রামবাসীর তোপের মুখে পড়েছে বিএসএফ (সীমান্ত রক্ষী বাহিনী)। গ্রামবাসী কয়েকজন জওয়ানকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক পিটিয়েছে। এতে এক সহকারী কমান্ড্যান্টসহ অন্তত তিন বিএসএফ সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন।
ঘটনার পর ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মাণিক সাহা তীব্র নিন্দা জানিয়ে হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য রাজ্য পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন।
গত সোমবার (২ নভেম্বর) দিবাগত গভীর রাতে সিপাহীজলা জেলার কলমচৌরা থানার অন্তর্গত আশাবাড়ি সীমান্ত চৌকির (বিওপি) কাছে এই ঘটনা ঘটে।
গতকাল মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে সিপাহীজলা জেলার পুলিশ সুপার বিজয় দেববর্মা ঘটনার বিবরণ দিয়ে সাংবাদিকদের জানান, সোমবার আশাবাড়ি এলাকায় সন্দেহভাজন চোরাচালান কর্মকাণ্ডের অভিযোগে এক স্থানীয় ব্যক্তিকে আটক করে বিএসএফ। এতে উত্তেজিত হয়ে একদল গ্রামবাসী বিএসএফ সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
পুলিশ সুপার আরও জানান, উত্তেজিত জনতা বিএসএফের একটি সরকারি গাড়ি ভাঙচুর করে এবং সীমান্তরক্ষীদের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। এই হামলায় একজন সহকারী কমান্ড্যান্ট-সহ তিন জওয়ান আহত হন।
ঘটনার পরপরই এলাকাজুড়ে অভিযান চালিয়ে তিন নারীসহ মোট নয়জন গ্রামবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ছাড়া হামলায় জড়িত আরও অন্তত ১০ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত নয়জনকে মঙ্গলবার স্থানীয় আদালতে সোপর্দ করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়েছে। ঘটনার পর বিএসএফের ত্রিপুরা ফ্রন্টিয়ারের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজি) প্রিন্সি রানী ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান এবং পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন।
ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মাণিক সাহা ফেসবুকে এক বার্তায় লেখেন, ‘আমাদের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ওপর যেকোনো ধরনের সহিংসতা সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য।’
নিরাপত্তা কর্মীদের ওপর হামলাকে অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে তিনি লেখেন, ‘আইন অনুযায়ী এর কঠোর মোকাবিলা করা প্রয়োজন। জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর আইনগত পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে এবং ন্যায়বিচার বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমাদের নিরাপত্তা কর্মীরা সর্বোচ্চ সম্মান ও সুরক্ষার অধিকারী।’
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও বিরোধীদের অভিযোগ
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনেও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ত্রিপুরা বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা ও সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী বিএসএফের ওপর এই বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
তবে সীমান্ত এলাকার চোরাচালান নিয়ে রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী সিপাহীজলা জেলায় চোরাচালান নতুন কিছু নয়। অবৈধ এই কারবারের সঙ্গে কারা জড়িত তা সবারই জানা।’
শাসকদলকে নিশানা করে বিরোধী নেতা অভিযোগ করেন, ‘চোরাচালানের সঙ্গে যুক্ত প্রায় শতভাগ মানুষই শাসকদলের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত অথবা স্থানীয় নেতাদের ছত্রছায়ায় রয়েছে। এই ঘটনার নেপথ্যে যারা জড়িত, রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে তাদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।’









