Ajker Patrika

দূষিত দিল্লির বাতাস দীপাবলির আতশবাজির ধোঁয়ায় আরও ভয়াবহ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
দূষিত দিল্লির বাতাস দীপাবলির আতশবাজির ধোঁয়ায় আরও ভয়াবহ
ছবি: এএনআইয়ের ভিডিও থেকে নেওয়া

দীপাবলির আগেই ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির বাতাসের মান ছিল খারাপ। এর মধ্যে উৎসবের আতশবাজির ধোঁয়া, যানবাহনের দূষণ ও পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলোতে ফসলের অবশিষ্টাংশ পোড়ানোর কারণে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আজ রোববার দিল্লির বাতাসের মান ছিল ‘খুব খারাপ’ পর্যায়ে। তবে দীপাবলি উদ্‌যাপনের পর সোমবার থেকে দূষণ ‘গুরুতর’ বা ‘সিভিয়ার’ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

রোববার দিল্লির গড় বায়ুমান সূচক (একিউআই) ছিল ৩৭৬। শহরজুড়ে ঘন ধোঁয়াশার চাদর ছড়িয়ে পড়ায় দৃশ্যমানতাও কমে যায়। আগের দিন শনিবার একিউআই ছিল ৩৬৯। অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানে দূষণের মাত্রা আরও বেড়েছে। ‘গুরুতর’ দূষণের সীমা ৪০০ হওয়ায় রাজধানীর সামগ্রিক বায়ুমান সেই পর্যায়ের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।

রোববার দিল্লির ৫৯টি বায়ুমান পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য পাওয়া যায়। এর মধ্যে ১২টি কেন্দ্রে বায়ুর মান ছিল ‘গুরুতর’ পর্যায়ে এবং ২২টিতে ছিল ‘খুব খারাপ’। সবচেয়ে বেশি দূষণ রেকর্ড করা হয়েছে জাহাঙ্গীরপুরীতে। সেখানে একিউআই ছিল ৪৬৩।

দিল্লির বায়ুমান আগাম সতর্কতা ব্যবস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৯ নভেম্বর থেকে কয়েক দিন রাজধানীর বাতাস ‘গুরুতর’ পর্যায়ে থাকতে পারে। দীপাবলির আতশবাজি থেকে নির্গত ধোঁয়ার পাশাপাশি যানবাহনের ধোঁয়া এবং প্রতিবেশী রাজ্যগুলোতে ফসলের অবশিষ্টাংশ পোড়ানোর কারণে পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।

আবহাওয়া ও বায়ুদূষণ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিকূল আবহাওয়াও দূষণ বাড়ার অন্যতম কারণ। বাতাসের গতি কম থাকলে দূষিত কণা সহজে ছড়িয়ে পড়তে পারে না। দিল্লির বায়ুমান আগাম সতর্কতা ব্যবস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রতি সেকেন্ডে ৬ হাজার বর্গমিটারের কম বায়ু চলাচল সূচক এবং ঘণ্টায় ১০ কিলোমিটারের কম গড় বাতাসের গতি দূষিত পদার্থ ছড়িয়ে পড়ার জন্য প্রতিকূল পরিস্থিতি তৈরি করে।

রোববার দিল্লির বাতাসে প্রধান দূষক ছিল অতি সূক্ষ্ম বস্তুকণা পিএম ২.৫। আতশবাজি পোড়ানোর ফলে বাতাসে এসব কণার পরিমাণ আরও বাড়ছে। পিএম ২.৫ এতটাই ক্ষুদ্র যে তা শ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসের গভীরে প্রবেশ করতে পারে।

দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি নিয়ে করা সিদ্ধান্ত সহায়তা ব্যবস্থার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রোববার রাজধানীর বায়ুদূষণে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখবে পরিবহন খাত। মোট দূষণের ১৯ শতাংশ আসতে পারে যানবাহন থেকে।

অন্যদিকে ফসলের অবশিষ্টাংশ পোড়ানোর কারণে রোববার দিল্লির দূষণে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ অবদান থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। সোমবার এই অবদান প্রায় ২ দশমিক ৯৯ শতাংশ হতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছে।

ভারতের কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের (সিপিসিবি) মানদণ্ড অনুযায়ী, একিউআই ০ থেকে ৫০ হলে বাতাসের মান ‘ভালো’, ৫১ থেকে ১০০ হলে ‘সন্তোষজনক’, ১০১ থেকে ২০০ হলে ‘মাঝারি’, ২০১ থেকে ৩০০ হলে ‘খারাপ’, ৩০১ থেকে ৪০০ হলে ‘খুব খারাপ’ এবং ৪০১ থেকে ৫০০ হলে ‘গুরুতর’ হিসেবে বিবেচিত হয়।

রোববার দিল্লির গড় একিউআই ৩৭৬ থাকলেও বেশ কয়েকটি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে তা ইতিমধ্যে ৪০০ ছাড়িয়েছে। দীপাবলির আতশবাজি ও অন্যান্য দূষণের উৎসগুলোর কারণে আগামী কয়েক দিন রাজধানীর বায়ুমান আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত