Ajker Patrika

ভারতীয় খাবারে অরুচি, কারাগারে নিজে রান্নার অনুমতি চেয়ে অনশন মার্কিনির

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ভারতীয় খাবারে অরুচি, কারাগারে নিজে রান্নার অনুমতি চেয়ে অনশন মার্কিনির
ম্যাথিউ অ্যারন ভ্যানডাইক। ছবি: সংগৃহীত

সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত একটি মামলায় ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থার (এনআইএ) হাতে গ্রেপ্তার মার্কিন নাগরিক ম্যাথিউ অ্যারন ভ্যানডাইক তিহার জেলে নিজের খাবার নিজে রান্না করার অনুমতি চেয়ে দিল্লির আদালতে আবেদন করেছেন। মার্সেনারি বা ভাড়াটে যোদ্ধা হিসেবে পরিচিত ভ্যানডাইক বর্তমানে বিচারাধীন বন্দি হিসেবে তিহার জেলে রয়েছেন। তাঁর দাবি, কারাগারে পরিবেশিত ঝাল, তেলযুক্ত ও অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খাবার তিনি খেতে পারেন না। এ কারণে তিনি গত ৬ মে থেকে অনশন করছেন। সে হিসাবে প্রায় ৫০ দিন ধরে অনশন করছেন তিনি।

ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, পাতিয়ালা হাউস কোর্টে দাখিল করা আবেদনে ভ্যানডাইক বলেছেন—ভারতীয় কারাগারের খাবারের সঙ্গে তিনি অভ্যস্ত নন। তাঁর আইনজীবীর দাবি, দীর্ঘদিন অনশনের কারণে তাঁর প্রায় ১৪ কেজি ওজন কমেছে, দৃষ্টিশক্তির সমস্যা দেখা দিয়েছে এবং শারীরিক শক্তি ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেছে।

আবেদনে বলা হয়েছে, মানবিক কারণে তাঁকে নিজের খাবার নিজে রান্নার সুযোগ দেওয়া উচিত। তাঁর পরিবার খাদ্যসামগ্রী, রান্নার সরঞ্জাম এবং এ-সংক্রান্ত সব ব্যয় বহন করতে রাজি রয়েছে। ভ্যানডাইক আদালতের কাছে ডাল, লাল মাংস, মুরগির মাংস, মাছ, পাস্তা, নুডলস, চাল, আলু, পেঁয়াজ, শিমজাতীয় খাদ্য, মসলা, রুটি, মাখন, অলিভ অয়েল, টোনড দুধ, সয়া দুধ ও বোতলজাত পানি রাখার অনুমতি চেয়েছেন। এছাড়া একটি ইন্ডাকশন কুকার, রান্নার হাঁড়ি, বাটি এবং প্লাস্টিকের চপার রাখার অনুমতিও চেয়েছেন।

আদালত এ বিষয়ে তিহার জেল কর্তৃপক্ষের কাছে জবাব চেয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ২১ জুলাই।

এর আগে, এনআইএ গত ১৩ মার্চ কলকাতা বিমানবন্দর থেকে ভ্যানডাইককে ছয় ইউক্রেনীয় নাগরিকের সঙ্গে গ্রেপ্তার করে। সংস্থাটির অভিযোগ, তাঁরা ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন। তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্তদের ভারতের নিষিদ্ধ বিদ্রোহী সংগঠনগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। তারা এসব গোষ্ঠীকে অস্ত্র ও অন্যান্য সন্ত্রাসী সরঞ্জাম সরবরাহ এবং প্রশিক্ষণ দিয়েছে। এনআইএর আরও অভিযোগ, অভিযুক্তরা একে-৪৭ রাইফেলধারী সশস্ত্র জঙ্গিদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগে থাকার কথাও জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন।

সংস্থাটির দাবি, ১৪ জন ইউক্রেনীয় নাগরিক পর্যটক ভিসায় ভারতে এসে গুয়াহাটি ও মিজোরাম হয়ে অনুমতি ছাড়া মিয়ানমারে প্রবেশ করেন। সেখানে তাঁরা বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীকে প্রশিক্ষণ দেন এবং ইউরোপ থেকে ড্রোনের চালান বিদ্রোহী-সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেন।

ভ্যানডাইক ও অন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অবৈধ কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইন (ইউএপিএ)-এর বিভিন্ন ধারায়, যার মধ্যে ফৌজদারি ষড়যন্ত্রের অভিযোগও রয়েছে, মামলা করা হয়েছে। অভিযোগিত আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের বিষয়ে এনআইএর তদন্ত চলছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত