Ajker Patrika

ভারতের তিন রাজ্যে উপনির্বাচন: বিহারে বিজেপির দুর্গ ধসিয়ে দেওয়ার পথে প্রশান্ত কিশোর

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ভারতের তিন রাজ্যে উপনির্বাচন: বিহারে বিজেপির দুর্গ ধসিয়ে দেওয়ার পথে প্রশান্ত কিশোর
প্রশান্ত কিশোর। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের তিন গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য বিহার, মধ্যপ্রদেশ ও গুজরাটের তিনটি বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনের ভোট গণনা চলছে। এর মধ্যে বিহারের বহুল আলোচিত বাঁকিপুর আসনে প্রাথমিক গণনায় এগিয়ে রয়েছেন সাবেক রাজনৈতিক কৌশলবিদ ও জন সুরজ পার্টির নেতা প্রশান্ত কিশোর।

সম্প্রতি দেশজুড়ে বিভিন্ন সরকারি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে শিক্ষার্থীদের নজিরবিহীন আন্দোলনের পর এই উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। তিনটি রাজ্যেই ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ক্ষমতায় থাকায়, এই উপনির্বাচনের ফলাফলকে তরুণ ভোটারদের ক্ষোভ ও দেশের রাজনৈতিক মনোভাবের এক গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বাঁকিপুর, বিহার: প্রশান্ত কিশোরের আত্মপ্রকাশ ও বিজেপির দুর্গে তোলপাড়

বিহারের বাঁকিপুর আসনটি দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপির ঐতিহ্যবাহী দুর্গ হিসেবে পরিচিত, যেখানে অতীতে দলটি কখনো পরাজিত হয়নি। বিজেপির শীর্ষ নেতা নিতিন নবীন রাজ্যসভায় নির্বাচিত হওয়ার পর আসনটি শূন্য হয়। তবে এই উপনির্বাচনে রাজনৈতিক মহলের নজর কেড়েছে ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরের প্রথম প্রত্যক্ষ নির্বাচনী লড়াই।

নির্বাচন কমিশনের চার নম্বর রাউন্ডের গণনার তথ্য অনুযায়ী:

প্রশান্ত কিশোর: ৬,২৬৯ ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন।

নীরজ কুমার (বিজেপি): ৫,১২৪ ভোট পেয়ে মাত্র ১,১০০ ভোটের ব্যবধানে পেছনে রয়েছেন।

ভোটের আগে বাঁকিপুরে বিজেপি শিবিরে বড় ধরনের রাজনৈতিক নাটকীয়তা দেখা যায়। দলটির মনোনীত প্রার্থী অভিষেক কুমার সিনহা মনোনয়ন জমা দেওয়ার মাত্র একদিন পরই ‘পারিবারিক কারণ’ দেখিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন। পরবর্তীতে বিজেপি যুব মোর্চার নেতা নীরজ কুমার সিনহাকে নতুন প্রার্থী ঘোষণা করে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলগুলো বিজেপির সমালোচনা করে দাবি করে, দলীয় সভাপতির ছেড়ে দেওয়া আসনে পরাজয়ের আশঙ্কায় বিজেপি দিশেহারা হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (আরজেডি) নেতা তেজস্বী যাদব এক অপ্রত্যাশিত ফলাফলের ইঙ্গিত দিয়ে দাবি করেন, তাঁদের প্রার্থী রেখা গুপ্তা সর্বস্তরের ভোটারের সমর্থন পেয়েছেন।

দাতিয়া, মধ্যপ্রদেশ: অসন্তোষের মুখে রাজপরিবারের প্রতিদ্বন্দ্বিতা

জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের আওতায় গত ২ এপ্রিল কংগ্রেস বিধায়ক রাজেন্দ্র ভারতী অযোগ্য ঘোষিত হওয়ায় মধ্যপ্রদেশের দাতিয়া আসনটি শূন্য হয়।

এখানে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে বিজেপির নতুন মুখ আশুতোষ তিওয়ারি এবং কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা কুঁওয়ার ঘনশ্যাম সিংহের মধ্যে। ঘনশ্যাম সিংহ সাবেক রাজপরিবারের সদস্য এবং ১৯৯৩ ও ২০০৩ সালে এই আসন থেকে দু’বার বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি তাঁর ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি ও বিজেপির অভ্যন্তরীণ অসন্তোষকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন।

দাতিয়া আসনটিকে ঐতিহ্যগতভাবে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নরোত্তম মিশ্রের নিজস্ব ঘাঁটি বলা হয়, যিনি ২০০৮ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত টানা তিনবার এই আসনের প্রতিনিধিত্ব করেন। তবে ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন। এবার প্রার্থী পরিবর্তনের কারণে নরোত্তম মিশ্রের সমর্থকেরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন এবং রাজ্যে একাধিক প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন।

মঞ্জলপুর, গুজরাট: আটবারের বিধায়কের শূন্য আসনে নতুন লড়াই

গুজরাটের মঞ্জলপুর আসনের টানা তিনবারের বিজেপি বিধায়ক যোগেশভাই নরেন্দাস প্যাটেলের মৃত্যুর পর আসনটি খালি হয়। যোগেশ প্যাটেল গত ৩৬ বছরে টানা আটটি বিধানসভা নির্বাচনে জয়লাভ করেছিলেন।

এই আসনে প্রধান লড়াই চলছে:

সতীশ গোবিন্দভাই প্যাটেল (বিজেপি) : ভাদোদরা মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর।

ভিখাভাই রাবারি (কংগ্রেস) : সাবেক মন্ত্রী ও গুজরাট কংগ্রেসের সহসভাপতি।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের গুজরাট বিধানসভা নির্বাচনে ১৮২টি আসনের মধ্যে ১৫৬টিতে জিতে ঐতিহাসিক সাফল্য পেয়েছিল ক্ষমতাসীন বিজেপি। তবে বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই আসনের উপনির্বাচনকে বিজেপির জন্য নতুন পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী ও তরুণদের সাম্প্রতিক আন্দোলনের পর আয়োজিত প্রথম নির্বাচন হওয়ায় এই তিন আসনের ফলাফলকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। তরুণ ভোটাররা ক্ষমতাসীন দলের প্রতি কেমন বার্তা দিচ্ছেন, তা স্পষ্ট হতে পারে এই উপনির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত