Ajker Patrika

কর্মক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উপায়

ইসলাম ডেস্ক 
কর্মক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উপায়
ফাইল ছবি

মুমিনের দৈনন্দিন প্রতিটি বৈধ কর্ম, যদি তা সঠিক নিয়তে এবং শরিয়তের সীমারেখা মেনে সম্পাদন করা হয়, তবে তা-ই ইবাদতে পরিণত হয়। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘বলুন, আমার নামাজ, আমার কোরবানি, আমার জীবন ও আমার মৃত্যু—সবই বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।’ (সুরা আনআম: ১৬২)। জীবনের সবকিছুই যখন আল্লাহর জন্য, তখন অফিসের কর্মঘণ্টাও সেই ইবাদতের বাইরে নয়। কিন্তু কীভাবে একজন কর্মচারী তাঁর দৈনন্দিন দাপ্তরিক কাজকে ইবাদতে রূপান্তর করতে পারেন?

১. নিয়তের বিশুদ্ধতা: কর্মক্ষেত্রে প্রতিদিনের কাজকে ইবাদতে পরিণত করার প্রধান শর্ত হলো নিয়তের বিশুদ্ধতা। মানুষ নিজের ও পরিবারের হালাল জীবিকা নির্বাহ এবং সমাজের সেবা করার নিয়তে যে শ্রম দেয়, তা আল্লাহর দরবারে ইবাদত হিসেবে গণ্য হয়।

২. দায়িত্ব একটি পবিত্র আমানত: ইসলামের দৃষ্টিতে চাকরি বা পদ-পদবি এক বিরাট আমানত ও দায়িত্ব। কোনো প্রতিষ্ঠানে মাসিক বেতনের চুক্তিতে যোগদানের অর্থ হলো সেই প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী নিজের মেধা, সময় ও শ্রম দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া। আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন, ‘হে ইমানদারগণ, তোমরা তোমাদের চুক্তিগুলো পূর্ণ করো।’ (সুরা মায়িদা: ১)

৩. সময় ও সম্পদের নিরাপত্তা: চাকরিজীবীদের জন্য বরাদ্দকৃত কর্মঘণ্টা প্রতিষ্ঠানের গচ্ছিত আমানত। সময়মতো অফিসে না আসা, কাজের সময়ে অযথা আড্ডা দেওয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময় নষ্ট করা কিংবা ব্যক্তিগত কাজে দাপ্তরিক সময় ব্যয় করা স্পষ্ট খেয়ানত। একইভাবে, অফিসের কাগজ, গাড়ি, বিদ্যুৎ বা অন্যান্য সরঞ্জাম ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করা বা নষ্ট করা নিষিদ্ধ।

৪. দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান: পেশাগত দায়িত্বকে ইবাদতে রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হলো দুর্নীতি, ঘুষ ও পদ-পদবির অপব্যবহার। সরকারি বা বেসরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি করা, ফাইল আটকে রাখা, কোনো সেবা প্রদানের বিনিময়ে অর্থ বা সুযোগ-সুবিধা দাবি করা কবিরা গুনাহ। রাসুলুল্লাহ (সা.) লানত করে বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলা ঘুষদাতা ও ঘুষগ্রহীতা উভয়কেই অভিশাপ দিয়েছেন।’ (সুনানে আবু দাউদ)

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত